ষ্টাফ রিপোর্টার:
ফতুল্লা থানাধীন পঞ্চবটী মেথরখোলা হতে বিসিক নতুন বাজার মাঠ পর্যন্ত এলাকাটি এখন মাদক,চুরি ও ফিটিংবাজির আখড়ায় পরিনত হয়েছে। আর এ সকল অপরাধের মহানায়ক হিসেবে রয়েছে মাদক ব্যবসায়ী সজীব,বিসিক কলাবাগান এলাকার ভান্ডারীর ছেলে সাঈদ,বাহাদুর ও রনিগং। এদেরকে শেল্টার দিচ্ছেন আওয়ামী দোসর হোটেল সাগর ও রনি।
সরেজমিনে স্থানীয়দের দেয়া তথ্যে জানা যায় যে, মাদক ব্যবসায়ী সজীব,বিসিক কলাবাগান এলাকার ভান্ডারীর ছেলে সাঈদ,বাহাদুর ও রনিগংরা বর্তমানে এলাকাতে আতংকের একটি নাম। মেথর খোলা হতে শুরু করে উড়াল সড়কের ১২ নং পিলার ও বিসিক নতুন বাজার খালি মাঠটি যেন ওদের অপরাধের নিরাপদস্থান হিসেবে বেছে নিয়েছে। বিশেষ করে বিসিকের গার্মেন্টসগুলো ছুটি হওয়ার পর উক্ত নজীব ও সাঈদগংরা অত্যন্ত বেপরোয়া হয়ে উঠে। গার্মেন্টস এ একসাথে কাজ করা ছেলে-মেয়েদেরকে আটক করে তাদেরকে বিসিক নতুন বাজার খালি মাঠে নিয়ে ভীতি দেখিয়ে মোটা অংকের টাকা আদায় এবং সাথে থাকা ব্যবহৃত মুঠোফোন ও স্বর্নালংকারগুলো ছিনিয়ে রাখে।
গত কয়েকদিন আগে বিসিকের গার্মেন্টস ছুটি শেষে একটি ছেলে ও মেয়ে শ্রমিককে আটক করে সেই খালি মাঠে নিয়ে ভীতি প্রদান করে তাদের কাছ থেকে ৪০ হাজার টাকা ও দুটি মোবাইল ফোন নিয়ে যায় এ সজীব-সাঈদ বাহিনী। যার একটি ভিডিও ফুটেজ অত্র প্রতিবেদকের কাছে সংরক্ষিত আছে। এছাড়াও বিসিক থেকে ঝুট বহনকারী ট্রাক থেকে বড় বড় ঝুটের বস্তাগুলো প্রকাশ্যেই নামিয়ে রাখলেও তা নিয়ে কেউ প্রতিবাদ করতে সাহস পায়না। তাদের এ অপরাধের শেল্টারদাতা হিসেবে রয়েছে আওয়ামী দোসর হোটেল সাগর ও রনি।
সজীব ও সাঈদ বাহিনীর সদস্যরা মেথরখোলা এলাকার দিনের আলো কিংবা রাতের আধার সকল সময়েই প্রকাশ্যে মাদক বিক্রি করলেও এতে প্রতিবাদ কিংবা বাধা দেয়ার কেউ নেই। কারন তাদের কাছে সুইচ গিয়ারসহ বিভিন্ন ছোট দেশীয় অস্ত্রগুলো থাকে। মাদক বিক্রি করা ছাড়াও সজীব ও সাঈদগং মেথরখোলা হতে শুরু করে বিসিক পর্যন্ত চুরি,ছিনতাই,ব্লাকমেইলিং করাটা যেন ওদের নিত্যদিনের খোরাক। ওদের সবচেয়ে বেশী টার্গেট গার্মেন্টস এর সাধারন শ্রমিকরা। একসাথে কোন নারী-পুরুষ গার্মেন্টসকর্মীকে দেখতে পেলে তাদেরকে কৌশলে আটক করে সেই বিসিক নতুন বাজার খালি মাঠে নিয়ে ভীতি প্রদানসহ ভিডিও চিত্র ধারন করে ব্লাকমেইলিং করে বেড়ায় এ সজীব-সাঈদ-বাহাদুর-রনিগং। ওদের এ সকল অপরাধের কেউ প্রতিবাদ করলে হোটেল সাগর ও রনি বাহিনীর সদস্য দিয়ে বিভিন্নভাবে নাজেহাল করে বলে জানান ভুক্তভোগীরা।
তবে স্থানীয়দের মতে, আজমেরী ওসমানের ক্যাডারখ্যাত হোটেল সাগরের শেল্টারেই অত্র এলাকাতে যাবতীয় অপরাধকর্ম চালাচ্ছে এ সজীব-সাঈদগং। বিসিক এর ৪ নং গলির নতুন রাস্তার পাশেই হোটেল সাগরের নেতৃত্বে ওরা এ অপরাধ সংঘটিত করছে। এখানে রাস্তার পাশে থাকা প্রতিটি দোকান থেকে ১৫০ টাকা হারে আদায় করছে হোটেল সাগরের নেতৃত্বে সজীব-সাঈদগং। আর মাদকের কথা না বললেই নয়। চর্তুপাশেই সজীব-সাঈদের নেতৃত্বে তার বাহিনীর সদস্যরা মাদকের স্বর্গরাজ্যে গড়ে তুলেছে। প্রতিদিন কয়েক লাখ টাকা মাদক বিক্রি হচ্ছে এখানে। এছাড়াও প্রতিদিন রাত ১১টার পর থেকেই বিসিকের নাইট ডিউটি শেষে বাড়ি-ফেরা প্রতিটি শ্রমিকের সর্বস্ত্র কেড়ে নিচ্ছে হোটেল সাগরের নেতৃত্বে মাদক ব্যবসায়ী ও ছিনতাইকারী চত্রের অন্যতম হোতা সজীব-সাঈদগং।
বিসিকের বিভিন্ন গার্মেন্টস এ কর্মরত সাধারন শ্রমিক ও ভুক্তভোগী সাধারন মানুষগুলো সজীব-সাঈদ-বাহাদুর-রনিগংদের অত্যাচার থেকে বাচঁতে এবং এদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ ও র্যাবের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করছেন।




