স্টাফ রিপোর্টার : নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মাসুদুজ্জামান মাসুদ সৌজন্য সাক্ষাত করতে গিয়ে ছিলেন মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপু। সে সময় টিপু মাসুদুজ্জামানকের কাছে জোড়ালো দাবি রাখেন যাতে করে তার মাধ্যমে ওসমান পরিবারের কোন দালালের সাথে কোন প্রকার আপোস করা যাবে না।
টিপু বলেছিলেন, ওসমান পরিবারের কোন দালালের সাথে কোন আপোস করা যাবেনা। ওসমান পরিবারকে এমন কোন স্পেস দেওয়া যাবেনা যাতে করে পরবর্তীতে তারা আমাদের বিএনপির গলাটিপে ধরে। এতে আমাদের ভোট আগাত বা কমুক। মাসুদ ভাইয়ের কাছে আমার অনুরোধ ওসমান পরিবারের কোন দোসরকে যেন আমরা কাছে না টানি প্রাধান্য না দেই। কারণ এই ওসমান পরিবারই নারায়ণগঞ্জে সন্ত্রাসের নগরীতে পরিণত করেছিলো।
এমন দাবি রাখার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মাসুদুজ্জামান মাসুদকে দেখা গেলো ওসমান পরিবারের সাথে যুবলীগের রাজনীতি করা মদনপুরের ফুলহর এলাকার মোমেন মিয়ার সাথে করমর্দন করে ফ্রেম বন্দী হতে।
বৃহস্পতিবার ১৩ নভেম্বর বিকেলে মহানগর যুবদলের সাবেক সভাপতি মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ এর বাসায় এমন দৃশ্য দেখা গেছে।
সেই ছবিকে পুঁজি করে ইতোমধ্যে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করতে শুরু করেছে এই বহুরূপী মোমেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে সেই ছবি পোস্ট করে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থীর মাসুদুজ্জামান মাসুদের সাথে তার সৌজন্য সাক্ষাত এবং নির্বাচন নিয়ে আলাপ আলোচনার কথা প্রচার করে চলেছে। যা নিয়ে ইতোমধ্যে মদনপুর এলাকায় কানাঘুষা শুরু হয়েছে।
মোমেন বর্তমানে নিজেকে যুবদল নেতা পরিচয় দিয়ে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে পুরোটা সময় জুড়ে সে যুবলীগ নেতা অহিদুজ্জামান অহিদের সাথে যুবলীগের রাজনীতি করেছে। ঘটা করে অনুষ্ঠান করে বন্দর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এম.এ রশিদের হাতে ফুল দিয়ে আওয়ামী লীগে যোগদানও করে ছিলেন।
শুধু আওয়ামী লীগে যোগদান করেই ক্ষ্যান্ত থাকেনি এই মোমেন। এলাকায় জোড় পূর্বক জমি দখল, বালু ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ সহ নানা কর্মকান্ডে নিজেকে সম্পৃক্ত করেছেন। এমনকি ২০১৮ সালে নির্বাচনের পূর্বে যখন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফকরুল ইসলাম আলমগীর মদনগঞ্জে একটি জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে এসেছিলেন, সে সময় মদনপুরে অহিদুজ্জামান অহিদের নেতৃত্বে মির্জা ফকরুল ইসলাম আলমগীরের গাড়ি আটকে দেওয়া হয়। রাস্তায় আগুন জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ করে ভাঙচুর চালানো হয় মির্জা ফকরুল ইসলাম আলমগীরের গাড়ি বহরে। ওই সময় অহিদের অন্যতম সহযোগি হিসেবে পুরো ঘটনায় সঙ্গ দিয়েছিলেন বর্তমানে যুবদল নেতা বনে যাওয়া এই মোমেন।
১৬ বছর আওয়ামী লীগের ক্ষমতা স্বাদ নেওয়ার পর গত ৫ আগস্টের পর আবারো নতুন করে নিজেকে যুবদল নেতা পরিচয় দিয়ে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করতে শুরু করে মোমেন।
প্রথম দিকে বিএনপির কোন নেতাই তাকে আশ্রয় না দিলে, মুছাপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য শাহীন আহম্মেদ এর দারস্থ হয় মোমেন মিয়া। শাহীনের হাত ধরে মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান এর সাথে সখ্যতা গড়ে তুলতে শুরু করে। সাখাওয়াত হোসেনের খান এর জন্মদিন উপলক্ষ্যে তার ব্যক্তিগত কার্যালয়ে মোমেন এর উপস্থিতির ভিডিও এবং মহানগর বিএনপির উদ্যোগে নগরীতে একটি র্যালিতে মোমেন এর ব্যানার ধরার ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল ও এ নিয়ে স্থানীয় গণমাধ্যমে গুরত্ব সহকারে সংবাদ প্রকাশিত হলে বির্তকের মুখে পড়েন সাখাওয়াত হোসেন খান ও শাহীন আহম্মেদ। বির্তক এড়াতে মোমেনকে সঙ্গ দেওয়া ছেড়ে দেয় শাহীন আহম্মেদ।
আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে মহানগর যুবদলের সাবেক সভাপতি মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ রাজনীতিতে আবারো সরব হয়ে উঠে এবার খোরশেদের অনুষ্ঠানে যেতে শুরু করে মোমেন। সেই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার মাসুদুজ্জামান মাসুদ খোরশেদের বাড়িতে সৌজন্য সাক্ষাত করার খবরে সেখানে উপস্থিত হয়েছিলেন মোমেন। সুযোগ বুঝে মাসুদুজ্জামানের সাথে কথা বলা হাত মেলানোর ছবি তুলে সেটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করে এলাকায় নিজের আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করছে মোমেন।
স্থানীয়রা জানান, বৃহস্পতিবার রাতে এলাকায় এসে মোমেন নিজেকে ভবিষ্যত এমপির লোক পরিচয় দিয়ে ভাব জমাতে শুরু করেছে। স্থানীয় বিএনপি নেতারা যারা তাকে ৫ আগস্টের পর আশ্রয় প্রশ্রয় দেয়নি ভবিষ্যতে তাদেরকেও দেখে নিবে বলে হুঁশিযারী প্রদান করেছেন।




