সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধি : সিদ্ধিরগঞ্জে মাদক বিক্রিতে রাজি না হওয়ায় মোস্তাক (৪৫) নামে এক নাপিতকে কুপিয়ে আহতের ঘটনায় মামলার আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে। তারা বীরদর্পে ঘুরে বেড়াচ্ছে থানা এলাকায়। যার ফলে আতঙ্ক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে সাধারণ মানুষের মনে। এলাকাবাসী ও মামলাসূত্রে জানা যায়, জানা গেছে, আদমজী বিহারী কলোনি এলাকায় যুবলীগকর্মী নাহিদের নেতৃত্বে দীর্ঘ দিন ধরে মাদক ব্যবসা চলছে। মাদকসহ নাহিদকে র্যাব ও পুলিশ একাধিকবার গ্রেপ্তার করেছে। দেশের পটপরিবর্তনের পর নাহিদ কিছুদিন এলাকা ছেড়ে গা ঢাকা দেয়। সম্প্রতি এলাকায় ফিরে এসে তার বাহিনীকে একত্র করে ফের মাদক ব্যবসা শুরু করে। তাদের কথামত মাদক বিক্রি করতে রাজি না হওয়ায় মোস্তাকের উপর বর্বর হামলা করা হয়েছে। এঘটনায় আদমজী সুমিলপাড়া পাম্প হাউজ এলাকার মেজর আলীর ছেলে বাবলাকে (৩৬) প্রধান করে ১৩ জনের নাম উল্লেখ ও ১০-১২ জনকে অজ্ঞাত আসামি দিয়ে মামলা করা হয়েছে। মামলার অন্য আসামিরা হলেন, আদমজী নতুন বাজার এলাকার মজিবুর রহমানের ছেলে নাহিদ(৩৫), রাব্বি (২০), মিজান (২৫), আদমজী নতুন বাজার এলাকার তুষার(৩৫),
বিহারি কলোনি ছোট মসজিদ স্কুলের পাশের কোরবান আলীর ছেলে আরমান(৩৭), ৩ নং বালুর মাঠ এলাকার জলিলের ছেলে ওকিল(৪২), ওকিলের ছেলে আকাশ (২০), বন্দরের ইস্পাহানি এলাকার বিল্লাল (২৮), সোলেমান (২৭), সজিব(২২), হৃদয় (২৩) ও জয় (২২)। তাদের মধ্যে এজাহার নামীয় আসামি সোলেমানকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বাকি সকল আসামি বর্তমানে এলাকায় বীরদর্পে ঘুরে বেড়াচ্ছে। ইতিমধ্যে এই এলাকায় মাদক সম্রাট নাহিদ এখানকার মাদকের নব্য ডন হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন। তার কাছে গেলেই মাদক পাওয়া যায় বলে জানান স্থানীয়রা। তার ভয়ে স্থানীয় এলাকাবাসী কেউ মুখ খুলতে চায় না। সিদ্ধিরগঞ্জ থানা সূত্রে জানা যায়, মাদক সম্রাট নাহিদের এর বিরুদ্ধে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হত্যাসহ ডজনখানেক মাদক মামলা, তবে সচেতন মহল মনে করেন শুধু ছিচকে মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করে মাদক নির্মূল কিছুতেই সম্ভব নয়। এছাড়া থানা পুলিশের দুর্বল চার্জশিটে, মামলার দীর্ঘ সূত্রতা সাক্ষীর অভাবের কারণে আইনের ফাঁক-ফোঁকড় দিয়ে মাদক ব্যবসায়ীরা আদালত থেকে জামিনে বের হয়ে আবারও মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে যাচ্ছে।জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর মাঝে মাঝে কিছু মাদক ব্যবসায়ীদের ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে সাজা দিচ্ছে। এই সাজা আপিল যোগ্য বিধান থাকায় এরা সাজা শেষ হওয়ার আগেই জামিনে বের হয়ে আসছে।সচেতন মহলের অভিযোগ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে যে সব মাদক ব্যবসায়ীরা গ্রেফতার হয় তার বেশীর ভাগই সেলসম্যান অথচ মাদকের মূল গডফাদাররা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাত থেকে থাকছেন ধরা ছোয়ার বাহিরে। তাঁদের সেলসম্যানরা গ্রেফতার হলে মূল ব্যবসায়ীরা তাদের আদালত থেকে জামিনে মুক্ত করে আবার একই ব্যবসায় নিয়োজিত করান।এছাড়া মাদক সম্রাটরা কখনো কখনো কোন না কোন রাজনৈতিক দলের নাম ব্যবহার করে। আবার কেউ কেউ নিজেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সোর্স পরিচয় দিয়ে জমজমাট পরিসরে মাদক ব্যবসা করছে। এ মাদকের বিষয়ে এলাকার সচেতন মানুষ যদি কোন প্রতিবাদ করে তবে মাদকের গডফাদার নাহিদের সে সব লোকজনকে কোন না কোন ভাবে ফাঁসিয়ে দিয়ে উল্টো তাদেরকে হয়রানি করতে থাকেন বলে অভিযোগ উঠেছে।পুলিশের দাবী মাদক ব্যবসায়ীরা সমাজের এবং দেশের শত্রু, মাদককারবারি করে কেউ পার পাবে না।
এলাকার সচেতন মহল জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও র্যাব-১১, নারায়ণগঞ্জ জেলা ডিবি, ও থানা পুলিশকে একদম সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে এদের ধরে এনে শাস্তির ব্যবস্থা করা হউক।




