আইনজীবীদের বিস্ময় প্রকাশ!
জাগো নারায়ণগঞ্জ:
সুপ্রিম কোর্ট ৩০ দিনের মধ্যে একটি দরখাস্ত নিষ্পত্তির নির্দেশ দিলেও সোনারগাঁও সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) মঞ্জুরুল মোর্শেদ সরকারি পদ, পদবি ও ক্ষমতার সর্বোচ্চ অপব্যবহার করে দেশের উচ্চ আদালতের নির্দেশকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে সরাসরি অমান্য ও লঙ্ঘন করেন। এমনকি নিজের খেয়াল খুশিমত আইন তৈরি করে নকল প্রদানে অস্বীকৃতি জানান।
খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, সহকারী কমিশনার (ভূমি) সোনারগাঁও সার্কেল, সোনারগাঁও, নারায়ণগঞ্জে চলামান বিবিধ মোকদ্দমা নং- ১১৫/২০২৩ তে বিবাদী মোঃ মোক্তার হোসেন বিগত ০৫/০৩/২০২৫ ইং তারিখে “সূত্রে বর্ণিত মোকদ্দমার বাদী বিবাদীর মধ্যে একই তফসিলভূক্ত সম্পত্তি নিয়ে অত্র আদালতে বিবিধ মোকদ্দমা ১০৯/২০১০, বিবিধ মোকদ্দমা ৩৮/২০১৯ এবং বিবিধ মোকদ্দমা ৩৮/২০১৯ এর রায়ের বিরুদ্ধে অত্র মোকদ্দমার বাদী অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আদালতে মিস আপীল মোকদ্দমা ১৬১৪/২০২২ নিষ্পত্তি হওয়ায় আইনত ও ন্যায়ত সূত্র বর্ণিত মোকদ্দমাটি চলতে পারে না বিধায় মোকদ্দমাটি নথিজাত করন এর প্রার্থনা।” শীর্ষক একটি দরখাস্ত দেন। কিন্তু উক্ত দরখাস্তটি সহকারী কমিশনার (ভূমি) সোনারগাঁও সার্কেল, সোনারগাঁও সরকারি পদ, পদবি ও ক্ষমতার চরম অপব্যবহার করে দীর্ঘদিন পর্যন্ত নিষ্পত্তি না করায় বিবাদী হাইকোর্ট বিভাগে রীট পিটিশন মোকদ্দমা নং- ৮৯৭৮/২০২৫ দায়ের করেন। পরবর্তীতে বিগত ০৪/০৬/২০২৫ ইং তারিখে হাইকোর্ট বিভাগে শুনানী অন্তে
দরখাস্তটি ৩০ দিনের মধ্যে সহকারী কমিশনার (ভূমি) সোনারগাঁও সার্কেল, সোনারগাঁওকে নিষ্পত্তির নির্দেশ দেন। পরর্বর্তীতে বিবাদী পক্ষ বিগত ৩০.০৬.২০২৫ইং তারিখে লিখিত দরখাস্তের মাধ্যমে এবং বিগত ০৯.০৭.২০২৫ ইং তারিখে হাইকোর্টের আদেশ এসিল্যান্ড অফিসে জারি করেন। বিগত ০৮.০৮.২০২৫ ইং তারিখে ৩০ দিন অতিবাহিত হলেও মঞ্জুরুল মোর্শেদ সরকারি পদ, পদবি ও ক্ষমতার চরম অপব্যবহার করে হাইকোর্ট বিভাগের আদেশ সরাসরি লঙ্ঘন ও অমান্য করে গত ১০.০৮.২০২৫ইং তারিখ পর্যন্ত দরখাস্তটি নিষ্পত্তি করেন নাই। এছাড়াও বিবাদী বিগত ১৩.০৪.২০২৫ ইং তারিখে সহি মুহুরি নকল চেয়ে দরখাস্ত করলেও নকল প্রদান করেন নাই। এ বিষয়ে বিগত ২৬.০৬.২০২৫ইং তারিখে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীর মাধ্যমে জাস্টিস ডিমান্ডিং নোটিশ প্রেরন করে সহকারী কমিশনার (ভূমি) সোনারগাঁও সার্কেলকে সহি মুহুরি নকল প্রদানের জন্য অনুরোধ করলেও অদ্যপর্যন্ত নকল প্রদান করেন নাই।
পরবর্তীতে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপীল বিভাগের আইনজীবী তৌহিদুল ইসলাম আতিক পুরো বিষয়টি হাইকোর্ট বিভাগকে অবহিত করলে কনটেম্পট পিটিশন ফাইল করার নির্দেশ দিলে কনটেম্পট পিটিশন ফাইল করেন।
এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের আপীল বিভাগের আইনজীবী তৌহিদুল ইসলাম আতিক বলেন, জনাব মঞ্জুরুল মোর্শেদের এক্সিকিউটিভ পাওয়ার সীজ না করলে জনগনের জন্য হুমকি হয়ে দাড়াবে। এই এসিল্যান্ড যে ক্ষমতার অপব্যবহার করেছে, তা সভ্য দেশে কল্পনা করা যায় না। এই এসিল্যান্ডের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত, যাতে ভবিষ্যতে দৃষ্টান্ত হয়ে থাকে। আমরা আশা করছি,মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগ এমন নির্দেশনা প্রদান করবেন যাতে ভবিষ্যতে কোন এসিল্যান্ড এমন ঔদ্ধত্য পূর্ন আচরন করার সাহস না পায়।
এ বিষয়ে অ্যাডভোকেট কামাল হোসেন বলেন, মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগের নির্দেশের পরও এসিল্যান্ডের এ ধরনের ঔদ্ধত্য পূর্ণ আচরণ ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠার প্রতি হুমকি স্বরুপ। এই এসিল্যান্ড এর দূর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে আমি জনস্বার্থে রীট ফাইল করবো। ওনি যে একজন চরম দুর্নীতিবাজ এতে কোন সন্দেহ নাই। আমি সোনারগাঁওয়ের এই এসিল্যান্ডের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানাই এবং মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগ এই জনদাবীর বিষয়টি বিবেচনা করে এসিল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্হা নিবেন।




