ষ্টাফ রিপোর্টার:
নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও বৈষম্য বিরোধী ছাত্র জনতার আন্দোলনে হত্যা মামলার একাধিক আসামী মোঃ কামাল হোসেন মেম্বার ওরফে কামাল হোসেনকে আটক করেছে পুলিশ।
গত ৩০ জুলাই গাজীপুরের আশকোনা হতে হত্যা মামলার আসামী ও নানান অপকর্মের হোতা কামাল হোসেনকে আটক করে ঢাকার যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতে তোলা হলে বিজ্ঞ আদালত জামিন না মঞ্জুর জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় দায়েরকৃত এফআইআর নং-২০ তারিখ ৯ জুলাই ২০২৫ এর মতে আসামী কামাল হোসেন মেম্বারকে বিজ্ঞ চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আমলী আদালতে ৩১ জুলাই বৃহস্পতিবার প্রেরন করা হয়।
জানা যায়,আসামী মোঃ কামাল মেম্বার ওরফে কামাল হোসেন, পিতা মৃত মোহাম্মদ মেম্বার ওরফে মৃত হাজী মোহাম্মদ আলী, ঠিকানা। স্বায়ী: গ্রাম- কান্দা পাড়া বারদী বাজার, থানা সোনারগাঁও, জেলা নারায়নগঞ্জ, গত ইং ৩০/০৭/২০১৫ তারিখে দক্ষিন খান থানা, ডিএমপি ঢাকার পুলিশ যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালত, ৩নং বিশেষ ট্রাইবুনাল, নারায়ণগঞ্জ এর সিআরর মামলা নং ১২৭৭/২৪ ও দায়রা ৯৫৯/২৫, ধারা:- এন, এক্ট এর ১৩৮ মূলে গ্রেফতার হয়।
উক্ত আসামীকে ৩১/০৭/২৫ তারিখে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়।
বর্নিত আসামী মামলার এজাহার নামীয় পলাতক ২৭ নং আসামী। বাদীর পুত্র মোঃ জনি (১৭) সোনারগাঁও নাফ গাড়ীতে হেলপার হিসাবে কাজ করিতো। গত ইং ২০/০৭/২০২৪ তারিখ বৈষম্য বিরোধী ছাত্রআন্দোলনকে পন্ড করার জন্য আওয়ামীলীগ ও তার সহযোগী সংগঠনের সমর্থিত নেতাকর্মীরা একজোট হইয়া আগ্নেয়ায়, পিস্তল, শর্টশান, ককটেল, লাঠি-সোরা, হাট-পাটকেল, রামদা ইত্যাদিতে সজ্জিত হইয়া সিদ্ধিরগঞ্জ থানাধীন চিটাগাং রোড সাকিনস্থ মুক্তি স্মরনীর পশ্চিম পার্শ্বে নাফ পরিবহনের গ্যারেজের সামনে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চট্টগ্রাম গামী রাস্তার উপর অবস্থান করিয়া এলাকায় যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি করে জনমনে আতংক তৈরী করে। ধৃত আসামী সহ পলাতক আসামী ১। শেখ হাসিনা (সাবেক প্রধানমন্ত্রী) ২। আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল (সাবেক স্বরাষ্টমন্ত্রী) (৭৩), ৩। ওয়ায়দুল কাদের (সাবেক সেতুমন্ত্রী) (৭২), ৪। হাসান মাহমুদ (সাবেক তথ্যমন্ত্রী) (৫২), ৫। এ.কে.এম. শামীম ওসমান (সাবেক সংসদ সদস্য, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসন। (৬৩), ৬। অয়ন ওসমান (৩৪), ৭। আজমেরী ওসমান (৫১), ৮। নজরুল ইসলাম বাবু (সাবেক সংসদ সদস্য, নারায়ণগঞ্জ-২) (৫৫), ৯। গোলাম দস্তগীর গাজী (সাবেক সংসদ সদস্য, নারায়গঞ্জ-১, রূপগঞ্জ) (৭২), ১০। রবিউল আলম রনি (সাবেক সেক্রেটারী) (৪৩), ১৯। জাহাঙ্গীর (৪৭), ১২। আব্দুল্লাহ আল-কায়সার (৪৮), ১৩ মোঃ মাহফুজুর রহমান কালাম (৫৩), ১৪। ইঞ্জিনিয়ার মাসুদুর রহমান মাসুম (৪৬), ১৫। রফিকল ইসলাম নান্নু (সভাপতি যুবলীগ) (৪৮), ১৯। সোহাগ রনি (৪৫), ১৭। মোশারফ হোসেন (৫৬), ১৮। নুরে আলম খাঁন (৪৬), ১৯। বাবুল ওমর (৪৯), ২০। মোস্তাফিজুর রহমান মাসুম (৪৭), সহ আরো অনেক এজাহার নামীয়গণ সহ অজ্ঞাত আরে প্রায় ১০০/১২০ জনবদুস্কৃতিকারীরা ০১ হইতে ১০নং আসামীর নির্দেশে ছাত্র-জনতাকে উদ্দেশ্য করিয়া এলোপাথারীগুলি ও আক্রমন করার নির্দেশ প্রদান করিলে অন্যান্য সকল আসামীগন রাস্তায় অবস্থানরত ছাত্র-জনতার উপর ককটেল বিস্ফোরণ করিয়া ভীতি সৃষ্টি করে এবং তাহাদের হাতে থাকা দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র দ্বারা এলোপাথারি গুলি ও মারধর করে।
তখন বাদীর পুত্র মোঃ জনি (১৭) ইং ২০/০৭/২০২৫ তারিখ বিকাল আনুমানিক ০৫:১৫ ঘটিকার সময় সিদ্ধিরগঞ্জ থানাধীন চিটাগাং রোড সাকিনস্থ মুক্তি স্মরনীর পশ্চিম পার্শ্বে নাফ পরিবহনের গ্যারেজের সামনে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চট্টগ্রাম গামী রাস্তার উপর পৌঁছালে আসামীদের ছোড়া ০১টি গুলি বাদীর ছেলে মোঃ জানি (১৭) এর পিঠে গুলিবিদ্ধ হইলে সে মাটিতে লুটাইয়া পড়িয়া যায় এবং ঘটনাস্থলেই মৃত্যুবরণ করে। উক্ত ঘটনায় নাফ পরিবহনের ড্রাইভার মোঃ ফয়েজুল্লাহ তররুন (৩৭), পিতা-মৃত আবু তাহের, মাতা-আফরোজা আমিন, গ্রাম-পালপাড়া, থানা-সোনাইমুড়ি, জেলা নোয়াখালী, বর্তমানঃ গ্রাম-মাদানীনগর, চিটাগাং রোড (তাহের সাহেবের বাড়ীর ভাড়াটিয়া), ০৩নং ওয়ার্ড, থানা-সিদ্ধিরগঞ্জ, জেলা-নারায়ণগঞ্জ তাহার বাম পায়ের রানে গুলিবিদ্ধ হইয়া আহত হন। পরবর্তীতে অজ্ঞাতনামা ভ্যান গাড়ী চালক বাদীর মৃত ছেলে মোঃ জনির কোন পরিচয় না পাইয়া তাহার লাশ নিয়া ঘোরাঘুরি করিয়া ২০/০৭/২০২৫ তারিখ বিকাল অনুমান-০৬,৩০ ঘটিকার সময় ভ্যানগাড়ী যোগে সোনারগাঁও থানাধীন কাঁচপুর সাকিনস্থ ঢাকা-চট্টগ্রাম মহসড়কের কাঁচপুর ব্রীজের পূর্ব ডালে ঢাকাগামী লেনের নার্সারীর সামনে পাকা রাস্তার উপর নিয়া আসেন।
বাদী ঘটনার সংবাদ পাইয়া কাঁচপুরস্থ ঢাকা-চট্টগ্রাম মহসড়কের কাঁচপুর বীজের পূর্ব ঢালে ঢাকাগামী লেনের নার্সারীর সামনে পাকা রাস্তার উপর গিয়া উক্ত মৃতদেহটি বাদীর ছেলে মোঃ জনি এর বলিয়া সনাক্ত করেন এবং উক্ত মৃতদেহ বাদীর বাড়ীতে নিয়া যাই। পরবর্তীতে সোনারগাঁও থানাধীন বালুয়া দীঘিরপাড় মাদ্রাসায় জানাযা শেষে বাদী বিষয়টি পুলিশকে না জানাইয়া তাহার ছেলে মোঃ জনি এর এ মৃতদেহ বিনা ময়না তদন্তে মৃতদেহ সোনারগাঁও থানাধীন বালুয়া দীঘিরপাড় কবর স্থানে দাফন করিয়াছি। পরববর্তীতে বাদী অস্ত্র মামলার ঘটনায় জখমী নাফ পরিবহনের ড্রাইভার মোঃ ফয়েজুল্লাহ তরুন এর নিকট হইতে প্রকৃত ঘটনাস্থল সহ ঘটনার বিস্তারিত তথ্য জানিয়া সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় আসিয়া অভিযোগ দায়ের করেন।
আসামী একজন পেশাদার সন্ত্রাসী। তদন্তকালে জানা যায় যে, উক্ত আসামী সহ এজাহার নামীয় অন্যান্য পলাতক আসামী সহ অজ্ঞাতনামা পলাতক আসামীরা পরস্পর যোগসাজোসে উল্লেখিত ঘটনা ঘটাইয়াছে। আসামী খারাপ প্রকৃতির লোক। বিধায় মামলার সুষ্ঠ তদন্ত ও ন্যায় বিচারের স্বার্থে আসামীকে সূত্রে বর্ণিত মামলায় গ্রেফতার দেখানো একান্ত প্রয়োজন।
জানা যায়,মোঃ কামাল হোসেন ওরফে কামাল মেম্বার আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি শামীম ওসমান, আব্দুল্øাহ আল কায়সার,নজরুল ইসলাম বাবুর প্রভাব খাটিয়ে সোনারগাঁওয়ে নানান অপকর্ম করে বেড়াতো।তার ভয়ে মানুষ ছিল আতংকিত। বিএনপি নেতাকর্মীরা বাড়ি ঘর ছাড়া ছিল।




