অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা বাড়িয়েছে সরকার। আগে এ তালিকায় ছিল ১১৭টি ওষুধ, সেখানে এখন যুক্ত হয়েছে আরও ১৭৮টি। এ নিয়ে অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের মোট সংখ্যা দাঁড়াল ২৯৫। এসব ওষুধ সরকার নির্ধারিত দামে বিক্রি করতে হবে। সরকারের ভাষ্য, এর ফলে ওষুধের দাম নিয়ন্ত্রণে আসবে এবং সাধারণ মানুষের চিকিৎসা ব্যয় কমবে। তবে এ সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত নন ওষুধ শিল্পের মালিকরা।
গত বৃহস্পতিবার অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের হালনাগাদ তালিকার গেজেট প্রকাশ করা হয়। এর আগে ৮ জানুয়ারি উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে তালিকাটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক সায়েদুর রহমান বলেন, নতুন তালিকার ২৯৫টি ওষুধ দেশের প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষের প্রাথমিক চিকিৎসার চাহিদা পূরণ করতে পারবে। একই সঙ্গে এগুলো দেশের মানুষের ৮০ শতাংশ রোগ নিরাময়ের ক্ষেত্রেও কার্যকর হবে।
গেজেটে উল্লেখ করা হয়েছে, নতুন নীতিতে ওষুধের দাম নির্ধারণে বিজ্ঞানভিত্তিক কাঠামো, উৎপাদনকারীদের জন্য বাধ্যবাধকতা এবং বাজারে সরবরাহ নিশ্চিত করার কঠোর ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। প্রতিটি ওষুধ কোম্পানিকে তাদের মোট বার্ষিক বিক্রয়ের অন্তত ২৫ শতাংশ অত্যাবশ্যকীয় ওষুধ উৎপাদন ও সরবরাহ করতে হবে। এটি না মানলে নতুন ওষুধের অনুমোদন বন্ধ থাকবে। এছাড়া নতুন জেনেরিক ওষুধের ক্ষেত্রে অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তুলনায় ৩৩ শতাংশের বেশি মার্ক-আপ (খুচরা বিক্রয়মূল্য) দেওয়া হবে। এতে ৩৩ শতাংশ দাম বাড়ানোর সুযোগ পাবে।
তালিকা হালনাগাদ ও দাম নির্ধারণ নীতি তৈরির জন্য টাস্কফোর্স ও বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছিল। এতে ওষুধ বিশেষজ্ঞ, ওষুধশিল্পের প্রতিনিধি, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধি ও গবেষকেরা যুক্ত ছিলেন। তাদের সঙ্গে একাধিক বৈঠকের পর সুপারিশের ভিত্তিতে তালিকা ও নীতি চূড়ান্ত করা হয়েছে।
অধ্যাপক সায়েদুর বলেন, দেশের মানুষের মোট স্বাস্থ্যব্যয়ের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশই ব্যয় হয় ওষুধ কেনার পেছনে। এ নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারও উদ্বিগ্ন ছিল। তাই ওষুধের দাম যেন চিকিৎসা নেওয়ার ক্ষেত্রে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়, সে লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তাঁর দাবি, সবকিছু আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত নিয়ম এবং বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা মেনেই করা হয়েছে। দাম নিয়ন্ত্রণের প্রভাব নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, কোম্পানিগুলোকে দাম সমন্বয়ের জন্য চার বছর সময় দেওয়া হবে। যেসব ওষুধের দাম কম, সেগুলো ধীরে ধীরে বাড়ানো যাবে, আর যেগুলোর দাম বেশি, সেগুলো ক্রমান্বয়ে কমাতে হবে।
এ সিদ্ধান্তে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ওষুধশিল্পের মালিকেরা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বাংলাদেশ ওষুধশিল্প সমিতির এক নেতা বলেন, মন্ত্রণালয়ের কমিটির সঙ্গে একবার বৈঠক হলেও তা ফলপ্রসূ হয়নি। দাম নির্ধারণ কমিটি সমিতিকে অন্ধকারে রেখে একতরফা সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তারা শিগগিরই আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানাবেন।
সরকারি প্রতিষ্ঠান এসেনসিয়াল ড্রাগস কোম্পানি লিমিটেডের (ইডিসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক আ. সামাদ মৃধা বলেন, অত্যাবশ্যকীয় তালিকার অধিকাংশ ওষুধ উৎপাদনের সক্ষমতা ইডিসিএলের রয়েছে। সরকার চাইলে এসব ওষুধ সরকারি উদ্যোগেই বড় পরিসরে উৎপাদন করা সম্ভব।




