চলতি বছর ডেঙ্গুতে মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি হয়েছে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে। এর মূল কারণ দেরিতে চিকিৎসা গ্রহণ এবং গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে আসা। ২০ থেকে ৩০ বছর বয়সীদের মৃত্যুহার এবার সবচেয়ে বেশি। সুত্র: সমকাল
ডেঙ্গুতে মৃত্যুর বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নথি বিশ্লেষণে এসব তথ্য উঠে এসেছে। গতকাল সংবাদ সম্মেলনে তথ্য তুলে ধরেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. হালিমুর রশিদ।
এদিকে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে গতকাল সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছর মৃতের সংখ্যা ১৮১। এ ছাড়া গত এক দিনে ডেঙ্গু নিয়ে ৬৭৮ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছর হাসপাতালে ভর্তি ডেঙ্গু আক্রান্ত ৩৪ হাজার ৯৮৪ জন।
ডেঙ্গুতে ১০৭টি মৃত্যুর কারণ বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২০ থেকে ৩০ বছর বয়সী ২০ জন মারা গেছেন। এ ছাড়া ১০ বছরের কম বয়সী ১৬ জন, ১০ থেকে ২০ বছরের মধ্যে ১০ জন, ৩০ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে ১৫ জন, ৪০ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে ১৬ জন, ৫০ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে ১৫ জন, ৬০ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে ১৩ জন, ৭০ থেকে ৮০ বছরের মধ্যে একজন এবং ৮০ থেকে ৯০ বছরের মধ্যে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে এ বছর।
সংবাদ সম্মেলনে হালিমুর রশিদ বলেন, রোগীরা জ্বর হওয়ার পর গড়ে তিন থেকে ছয় দিন পরে হাসপাতালে এসেছেন। এতে পরিস্থিতি জটিল হয়েছে এবং মৃত্যুর ঝুঁকি বেড়েছে। এ ছাড়া তরুণরা প্রাথমিক উপসর্গকে গুরুত্ব না দিয়ে কাজ কিংবা পড়াশোনা চালিয়ে যান। জ্বরের তৃতীয় বা চতুর্থ দিনে পরিস্থিতি গুরুতর হয়। তখন চিকিৎসার সুযোগ কমে যায়। তরুণদের মধ্যে একটা আত্মবিশ্বাস কাজ করে– ‘আমার কিছু হবে না।’ কিন্তু ডেঙ্গু ভাইরাস একবার শক সিনড্রোমে নিয়ে গেলে চিকিৎসা করাও কঠিন হয়ে পড়ে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ডেঙ্গুতে মারা যাওয়া ব্যক্তিরা হাসপাতালে গড়ে আড়াই দিন ছিলেন। অধিকাংশ রোগী ভর্তি হওয়ার পর ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই মারা যান।
বেশির ভাগ মৃত্যু শক সিনড্রোমে
চলতি বছর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ১১৩ জনের মৃত্যুর কারণ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, বেশির ভাগ ক্ষেত্রে রোগী মৃত্যুর আগে শক, অঙ্গ বিকল বা জটিল উপসর্গে ভুগছিলেন। ৫৬ জন শক সিনড্রোমে মারা গেছেন। মৃত্যুর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ কারণ এক্সপান্ডেড ডেঙ্গু সিনড্রোম। এতে মারা যান ৩৬ জন। উভয় সমস্যা ছিল ৯ জনের। ডেঙ্গু হেমোরেজিক সিনড্রোমে একজন। এ ছাড়া ডেঙ্গুর সঙ্গে কার্ডিয়াক শকে মারা যান ছয়জন এবং বহু অঙ্গ বিকলে পাঁচজন।
মৃত্যুর ৬০ শতাংশ ঢাকায়
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ডেঙ্গুতে সবচেয়ে বেশি ১০৮ জনের মৃত্যু হয়েছে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন এলাকায়, যা মোট মৃত্যুর ৫৯.৬৬ শতাংশ। বরিশাল বিভাগে ২৮ জন, চট্টগ্রামে বিভাগে ২৩, রাজশাহী বিভাগে ১০, ময়মনসিংহ বিভাগে ৬, খুলনা বিভাগে ৫, ঢাকা বিভাগে (দুই সিটি করপোরেশন এলাকার বাইরে) ২ জন মারা গেছেন। রংপুর, সিলেট বিভাগে কোনো মৃত্যুর তথ্য পাওয়া যায়নি।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবু জাফর বলেন, রোগ চিহ্নিত হওয়ার শুরুতেই চিকিৎসা শুরু না হলে অনেক সময় জটিল আকার ধারণ করে। বিশেষ করে শক, রক্তক্ষরণ ও অঙ্গ বিকলের মতো জটিলতা দেখা দিলে রোগীকে বাঁচানো কঠিন হয়ে পড়ে।




