রাজধানীর উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় হতাহতের সংখ্যা নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। হতাহতের সংখ্যা নিয়ে সর্বশেষ তথ্য তুলে ধরেছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল ও ক্লিনিক শাখার পরিচালক ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল হোসেন। তাঁর সই করা এক পরিসংখ্যানের তথ্যের বরাতে এ নিয়ে গতকাল দুপুরে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন প্রধান উপদেষ্টার জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব ফয়েজ আহম্মদ।
তিনি জানিয়েছেন, গতকাল বুধবার দুপুর পৌনে ১টা পর্যন্ত অগ্নিদগ্ধ হয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৯ জনে। এ ছাড়া জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটসহ বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৬৯ জন।
পরিসংখ্যান বলছে, নিহত ২৯ জনের মধ্যে জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটে ১১ জন, সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) ১৫ জন, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে একজন, লুবানা জেনারেল হাসপাতাল অ্যান্ড কার্ডিয়াক সেন্টারে একজন (পরিচয় জানা যায়নি) ও ইউনাইটেড হাসপাতালে একজন মারা গেছেন।
সর্বশেষ সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিটে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে জানানো হয়, ১৩ জনকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে, নতুন করে একজন ভর্তি হয়েছে।
অন্যদিকে আইএসপিআর বলছে, মঙ্গলবার পর্যন্ত ৩১ জন এবং গতকাল চিকিৎসাধীন আরও একজন মারা গেছে। মাইলস্টোন স্কুলের উপাধ্যক্ষ (প্রশাসন) মো. মাসুদ আলম গতকাল সমকালকে বলেন, গতকাল দুপুর পর্যন্ত তাদের হিসাবে নিহত হয়েছে ২২ শিক্ষার্থী। এ ছাড়া দুজন শিক্ষক ও একজন আয়াও মারা গেছেন। অভিভাবকদের তথ্য তাদের কাছে নেই।
নিহত শিশুদের নিয়ে কাজ করছে সমাজসেবা অধিদপ্তরের তেজগাঁও সার্কেল। ইউনিসেফের অর্থায়নে পরিচালিত সিএসপিবি প্রকল্পের শিশু সুরক্ষা সমাজকর্মীরা প্রতিটি হাসপাতালে ঘুরে ঘুরে তথ্য সংগ্রহ করছেন। এ প্রকল্পের শিশু সুরক্ষা সমাজকর্মী রেহেনা বানু মুন্নী ও শাহ নেওয়াজ আননু সমকালকে জানান, মাইলস্টোনের প্রতিনিধিরা জানাজায় উপস্থিত ছিলেন এমন নিহত শিশুর সংখ্যা ২২। আরও ছয়জনের লাশ সিএমএইচের মর্গে রয়েছে। শিক্ষক মারা গেছেন দুজন মাহরীন ও মাসুকা। এ ছাড়া মাসুমা নামে একজন আয়াও মারা গেছেন। অগ্নিদগ্ধ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি আছেন সাত ছাত্র-শিক্ষক। ভর্তি শিক্ষার্থীরা হলো সুমাইয়া লারিন, নিশি আক্তার ও লিনা আক্তার। শিক্ষকরা হলেন আনোয়ার, আশরাফ, আখতারুজ্জামান বাপ্পী ও মাহফুজা খানম।
বার্ন ইনস্টিটিউটে ৪৪ জন
এ ঘটনায় গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত বার্ন ইনস্টিটিউটে ৪৪ দগ্ধ চিকিৎসাধীন। বেশির ভাগ রোগী রয়েছে ছয়তলার এইচডিইউ ইউনিট ও চারতলায় আইসিইউতে। এ ছাড়া পোস্ট অপারেটিভ ইউনিটে কয়েকজন রোগীর চিকিৎসা চলছে।
সহযোগিতা করবে সেনাবাহিনী
বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় হতাহতের সংখ্যা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেক গুজব ছড়ানো হচ্ছে। কোনো ধরনের তথ্য যাচাই ছাড়া এ ধরনের গুজব না ছড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে সেনাবাহিনী। যে কেউ এ বিষয়ে তদন্ত করতে চাইলে সেনাবাহিনী সহযোগিতা করবে বলেও জানিয়েছে বাহিনীটি। গতকাল আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ কথা বলা হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের মৃত্যুর সংখ্যা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক গুজব ছড়ানো হচ্ছে। অনেকেই না বুঝে এসব গুজবে বিশ্বাস করছেন।
আইএসপিআর পরিচালক স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ঘটনার পরপরই কোনো পূর্বনির্দেশনা ছাড়াই সেনাবাহিনী সর্বোচ্চ প্রচেষ্টার মাধ্যমে দ্রুত সাড়া দিয়েছে। যেমনটি সব সময় করে থাকে। আমাদের সন্তানদের বিষয়ে কোনো তথ্য গোপন করার ইচ্ছা বা প্রয়াস আমাদের নেই। আমি নিজে এবং আইএসপিআর টিম সরাসরি ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলাম।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, আইএসপিআরের পরিচালক হিসেবে আমি স্পষ্টভাবে ঘোষণা করছি, যে কোনো গণমাধ্যম চাইলেই এ বিষয়ে তদন্ত করতে পারে, সংশ্লিষ্ট যে কোনো স্থান পরিদর্শন করতে পারে। আমরা সর্বোচ্চ সহায়তা দিতে প্রস্তুত আছি এবং আপনাদের যে কোনো প্রয়োজনে সর্বাত্মকভাবে সহযোগিতা করব।
প্রেস সচিব বললেন, হতাহতের সংখ্যা গোপন করা অসম্ভব
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেছেন, হতাহতের সংখ্যা গোপন অসম্ভব। বুধবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এক পোস্টে এ কথা বলেন তিনি।
প্রেস সচিব উল্লেখ করেন, ২০০২ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে অসংখ্য বড় বড় দুর্যোগ নিয়ে রিপোর্ট করা একজন হিসেবে আমি বলে দিতে পারি, বাংলাদেশে হতাহতের সংখ্যা গোপন করা অসম্ভব। প্রাথমিকভাবে পরিবারগুলো তাদের প্রিয়জনদের নিখোঁজ হিসেবে রিপোর্ট করে।
তবে হাসপাতাল ও কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে তথ্য পাওয়া গেলে তারা সাধারণত তাদের আত্মীয়দের শনাক্ত করতে পারে। এক্ষেত্রে মাইলস্টোন কলেজ প্রতিদিনের উপস্থিতির রেকর্ড ক্রস-রেফারেন্স করে হিসাববহির্ভূতদের শনাক্ত করতে পারে।




