ষ্টাফ রিপোর্টার
নারায়ণগঞ্জ জেলার আড়াইহাজার উপজেলার খাগকান্দা ইউনিয়নের কাকাইল মোড়া এলাকায় ঢাকা বিভাগীয় বিএনপির সহ সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদের অনুসারী জাকারিয়া ও ইদ্রিস আলী বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছে বলে সংবাদ পাওয়া গেছে।
জানা যায়,গত ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫ সোমবার সন্ধ্যায় কাকাইলমোড়া এবং বাহেরচর গ্রামে নজরুল ইসলাম আজাদ অনুসারী বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ এবং প্রায় চল্লিশ লক্ষ টাকার মালামাল লুটপাটের ঘটনা ঘটে।
অনুসন্ধানে জানা যায়,গত ১৫ সেপ্টেম্বর ঘটনার এর জের ধরে গতকাল ১৮ আগষ্ট ২০২৫ তারিখে খাগকান্দা ইউনিয়নের সাবেক আওয়ামীলীগ নেতা এবং বর্তমানে উক্ত ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া এবং একই ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ইদ্রিস আলী গ্রুপের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ এবং লুটপাটের ঘটনা ঘটে।
উক্ত ঘটনায় মঞ্জু, ফামি, রনি, মনির, মুকবুল হোসেন, ফজলুল করিম এবং সাইদুলকে মারধর করে গুরুতর আহত করে।
এছাড়াও, আজিজের ছেলে রনির বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাট করে বিভিন্ন জিনিসপত্রের সাথে ১টি অটো নিয়ে যায় এবং মনিরের ১০০০ মুরগি লুট করে নিয়ে যায়।
উক্ত সংঘর্ষে প্রায় ১৫ জন লোক আহত হয় এবং রনির একটি চোখ নষ্ট হয়ে যায়। তাছাড়াও একইদিন কাকাইল মোড়া এলাকার আবেদ আলী, ফেলানী এবং জিলানী ও বাহেরচর এলাকার কাউসার, রুবেল, আফরোজা, জাহাঙ্গীর, আলমগীর, জসিম, মোস্তফা, সেলিম, ঈমান মিস্ত্রী, হানিফা এবং মোরসালিন এর বাড়ি ঘর ভাঙচুর এবং লুটপাট করা হয়।
পরবর্তীতে উল্লেখিত সংঘর্ষের জের ধরে গত ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫ সোমবার সন্ধ্যায় জাকারিয়ার নির্দেশে আড়াইহাজার থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক রুহুল আমিন এর নেতৃত্বে কাকাইলমোড়া এবং বাহেরচর গ্রামের ইদ্রিস আলীর অনুসারীদের গ্রেফতার এর উদ্দেশ্যে ধাওয়া করা হয়।
পুলিশের ভয়ে লোকজন বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে গেলে জাকারিয়ার অনুসারীরা পুলিশের সামনেই ভুক্তভোগীদের বাড়িঘরে হামলা ও লুটপাট চালায় ।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে উক্ত হামলায়- ডালু, রাসেল, আনার, নুরনবী এবং শাহ আলম গুরুতর আহত হয়।
এছাড়াও, শাহ আলম এর ১১০০ ডিম উয়ালা মুরগি ও ১টি মটর, আরাফাত আলীর ২টি মটর, মঞ্জুর ৪টি গরু, শহিদুল্লাহর ২টি গরু, হকের ২টি গরু, জাকির এর ২টি ছাগল এবং মোমেনের গ্যারেজ হতে ১টি গাড়ি লুট করে নিয়ে যায়।
পাশাপাশি শাহ আলম, দেলোয়ার, আলামিন, মঞ্জুর, শফিকুল, ফারুক, মোস্তফা, শাজাহান, আলমগীর, আনার, ডালু, শহীদ, হক, হানিফা, ফজলুল করিম, রনি, দুদু মিয়া এবং আজিজের বাড়িতে ভাংচুর করে মালামাল লুটপাট করে নিয়ে যায়।
খাগকান্দা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়ার বিষয়ে উক্ত এলাকার সাধারণ জনগণ এর সাথে কথা বলে জানা যায়, এই জাকারিয়া বিগত আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে আওয়ামীলীগ এর নেতা হয়ে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে সাধারণ জনগণের উপর অনেক অন্যায় অত্যাচার করেছে।
তার বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ আমলেই প্রায় ৭ এর অধিক মামলা রয়েছে। তার বিরুদ্ধে অগণিত অভিযোগের কারণে তৎকালীন সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম বাবু তাকে দল থেকে বাদ দেয়ার পরিকল্পনা গ্রহণ করে। পরবর্তীতে সে বিএনপি’র শীর্ষস্থানীয় দুইজন নেতাকে টাকা দিয়ে খাগকান্দা ইউনিয়ন বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদকের পদটি বাগিয়ে নেয়।
তার এই ধরনের অপকর্মের কারণে এলাকাবাসী তাকে এলাকাছাড়া করে। বর্তমানে সে আড়াইহাজারে ভাড়া বাসায় বসবাস করছে। এই ধরনের একজন বিতর্কিত ব্যক্তির বিরুদ্ধে বারংবার বিভিন্ন প্রতিবেদন এবং অভিযোগ থাকলেও আড়াইহাজার উপজেলা বিএনপি তার বিরুদ্ধে কোন সাংগঠনিক ব্যবস্থা তো গ্রহণ করেই নি উল্টো আড়াইহাজার থানা পুলিশও মামলায় জর্জরিত একজন ব্যক্তির কথায় নিরীহ মানুষকে হয়রানি করছে।
তবে আমাদের প্রতিবেদন প্রকাশ এর খবর পেয়ে গত ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে নিজেদের গা বাঁচানোর জন্য আড়াইহাজার উপজেলা বিএনপি তার এই কর্মকাণ্ডের কারণে শোকজ নোটিশ দেয়। কিন্তু খাগকান্দা ইউনিয়নবাসী এবং বিএনপির নির্যাতিত নেতাকর্মীরা এই বিতর্কিত ব্যক্তির হাত থেকে রক্ষা পেতে বিএনপি’র হাই কমান্ডকে এই জাকারিয়াকে দল থেকে দ্রুত বহিষ্কার এর জন্য জোর দাবি জানিয়েছে।
এছাড়াও উপজেলা প্রশাসনকে এই জাকারিয়াকে তার পূর্বের বিভিন্ন মামলা এবং বর্তমানে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে পুলিশকে জনগণের বিপক্ষে লেলিয়ে দেয়ার জন্য দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী জানিয়েছে।




