ষ্টাফ রিপোর্টার:
নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলায় একের পর এক সংঘবদ্ধ ডাকাতির ঘটনায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে এলাকাবাসীর মাঝে। মঙ্গলবার (৮ জুলাই) দিবাগত রাত ৩টার দিকে উপজেলার পাচরুখী গ্রামে ব্যবসায়ী সিরাজুল ইসলামের বাড়িতে দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এর মাত্র দুই দিন আগে, গত ৬ জুলাই রাতে একই উপজেলার সত্যবান্দি গ্রামে লিয়াকত আলীর বাড়িতেও ডাকাতির ঘটনা ঘটে।
ব্যবসায়ী সিরাজুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, “রাত ৩টার দিকে হঠাৎ দেখি ২০-২৫ জন মুখোশধারী পুলিশ পরিচয়ে বাড়ির নিচতলার জানালার গ্রিল কেটে ভেতরে ঢুকে পড়ে। মুহূর্তেই আমাদের সবাইকে গেঞ্জি ও গামছা দিয়ে হাত-পা বেঁধে ফেলে। আমার স্ত্রী সুবিয়া বেগম, ছেলে মিনহাজুল কেউ রেহাই পায়নি। তারা ছুরি, চাপাতি, সাবলসহ দেশীয় অস্ত্র দেখিয়ে আমাদের ভয় দেখায়। পরে আলমারি ভেঙে ৩২ ভরি স্বর্ণালংকার, ১ লাখ ৬০ হাজার নগদ টাকা এবং মূল্যবান মালামালসহ প্রায় অর্ধকোটি টাকার জিনিসপত্র নিয়ে যায়।”
তিনি আরও জানান, ডাকাতদের বয়স আনুমানিক ২৫ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে। তাদের মুখ কাপড় দিয়ে বাঁধা ছিল এবং তারা বিভিন্ন ভাষায় কথা বলছিল।
এ বিষয়ে আড়াইহাজার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) খন্দকার নাসির উদ্দিন বলেন, “খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। ডাকাতদের শনাক্ত ও লুট হওয়া মালামাল উদ্ধারে অভিযান চলছে।”
এর আগে গত রোববার রাতে উপজেলার দুপ্তারা ইউনিয়নের সত্যবান্দি গ্রামের বাসিন্দা মো. লিয়াকত আলীর বাড়িতেও ডাকাতি সংঘটিত হয়। ওই বাড়ির গৃহকর্তা জানান, ১০-১২ জনের একটি মুখোশধারী দল বাড়ির গেটের তালা কেটে ঘরে ঢুকে সবাইকে বেঁধে ফেলে। অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তারা ২ ভরি স্বর্ণালংকার, ৩০ হাজার টাকা, মোবাইল ফোনসহ অন্যান্য মালামাল লুটে নেয়। ডাকাতদের পরনে কালো টি-শার্ট ও প্যান্ট ছিল।
এ দুই ঘটনায় উপজেলার সাধারণ মানুষ উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা প্রকাশ করেছেন। পরপর এমন ভয়াবহ ডাকাতির ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়রা দ্রুত পুলিশের কার্যকর পদক্ষেপ ও রাত্রিকালীন টহল জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।




