ষ্টাফ রিপোর্টার:
ফতুল্লা থানাধীন মাসদাইর ও আশপাশ এলাকার অন্যতম মাদকের গডফাদার সাব্বির হোসেন দিপুর মাদক সা¤্রাজ্যের অন্যতম সহযোগি এবং ছিনতাইকারী,চাদাঁবাজ সাবুকে অস্ত্রসহ আটকের পর জনতা কর্তৃক গনধোলাইয়ের পর র্যাব ও পুলিশ এর কাছে সোপর্দ করেছে স্থানীয় সাধারন মানুষ। মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টায় মাসদাইর বেকারীরমোড় এলাকায় অস্ত্রসহ প্রতিপক্ষের উপর হামলা চালাতে গিয়ে উল্টো নিজেই ধরা পড়েছেন। স্থানীয়দের দাবী অস্ত্রসহ র্যাব-পুলিশের কাছে সোপর্দকৃত সাবু মাসদাইর এলাকার যুবদল নেতা শহিদের চাদাঁবাজ চক্রের অন্যতম সদস্য।
স্থানীয়রা জানান, সাব্বির হোসেন দিপু ও যুবদল নেতা শহিদের অন্যতম সদস্য সাবু যেন এলাকাতে একটি আতংকের নাম। সর্বক্ষন নিজের কাছে পিস্তল এবং সুইচ গিয়ার নিয়ে চলাচল করতো। ব্যবসা প্রতিষ্ঠান,নতুন জমি ক্রয়-বিক্রয় এবং নতুন বাড়ি নির্মানকালে সাবু ও তার বাহিনীকে টাকা না দিলে কোনকিছুই সম্ভব নয়। এছাড়াও চুরি,ছিনতাই,মাদক বিক্রিসহ এমন কোন অপরাধ নেই যা সাবুর দ্বারা হয়না।
মাসদাইর কাশেমনগর যা পতেঙ্গা মাঠ হিসেবেই সর্বজন পরিচিত। সেখানে যুবদল নেতা শহিদের সার্বিক সহযোগিতায় একটি শক্তিশালী অপরাধের সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছে এ সাবু। আর যুবদল নেতা শহিদ এক সময়ে স্থানীয় কাউন্সিলর মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদের বলয়ে থাকলেও ৫ আগষ্টের পর থেকে শহিদ তার মামা সদর থানা বিএনপির এক শীর্ষ নেতার সান্নিধ্যে থেকেই সাবু ও তার বাহিনী দিয়ে বিভিন্ন অপরাধের স্বর্গরাজ্য গড়ে তোলে। পতেঙ্গা এলাকায় কোন জমি ক্রয়-বিক্রয় এবং নতুন কোন বিল্ডিং নির্মান করতে মোটা অংকের টাকা চাদাঁ হিসেবে দিতে হতো সাবু বাহিনীকে। আর এ কাজগুলোর নেপথ্যে যুবদল নেতা শহিদ। পরে মালিক পক্ষের সাথে যোগাযোগ করে শহিদ তার মামার মাধ্যমে সমাধান করতো। এ জন্য সেই মামাকেও নাকি দিতো হতো মোটা অংকের টাকা। এছাড়াও উক্ত নবনির্মিত বাড়িগুলো জন্য যাবতীয় নির্মান সামগ্রী সংগ্রহ করতে হতো সাবুর কাছ থেকে। এছাড়াও সেখানে অবস্থিত বিভিন্ন বাড়িতে দুরদরান্ত থেকে বেড়াতো আসা নারী-পুরুষকে আটক করে সবকিছু ছিনিয়ে নেয়ার পাশাপাশি আটক করে ব্লাকমেইলং করে মোটা অংকের টাকাও হাতিয়ে নিতো এ সাবু ও তার বাহিনীর সদস্যরা।
স্থানীয়রা জানান,গত কয়েক মাস পুর্বে সেলিম নামে এক বাড়ির মালিককে চাদাঁর জন্য মারধর করে রক্তাক্ত জখম করে সাবু তার বাহিনীর সদস্যরা। সেই ঘটনায় থানায় অভিযোগ দায়ের হলে শহিদের নির্দেশে বেশ কয়েকদিন আত্মগোপনে ছিলো চাদাঁবাজ ও ছিনতাইকারী সাবু। আর পতেঙ্গা এলাকায় সাবু ও শহিদের সমন্ময়ে অপরাধের যাবতীয় সমাধানগুলো মাসদাইর বাজারে অবস্থিত শহিদের মামার অফিসেই সম্পন্ন হয়ে থাকে বলে জানান সাবু ও শহিদের মাধ্যমে ভুক্তভোগীরা।
তারা আরও জানান,গত একমাসে চাদাঁবাজ,মাদক বিক্রেতা ও ছিনতাইকারী সাবু ও তার বাহিনীর দ্বারা প্রায় ৮/১০টির মত অপরাধ সংঘটিত হয়েছে। মাসদাইর গুদারাঘাট এলাকায় এক অটো গেরেজে চাদাঁর দাবীতে অস্ত্রসহ হামলা চালিয়ে ৩/৪জনকে কুপিয়ে জখম করেছে সাবু। সেই ঘটনায় গেরেজ মালিক নজরুল ফতুল্লা মডেল থানায় লিখিত অভিযোগও দায়ের করেছেন। এছাড়াও অস্ত্র দিয়ে প্রতিপক্ষকে কুপিয়ে আহত করতে গিয়ে উল্টো নিজেই আহত হয়ে এম্বুলেন্সযোগে হাসপাতালে যাচ্ছে এমন একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছিলো।
তারা আরও বলেন,চাদাঁবাজির ক্ষেত্রে শুধু বাড়িওয়ালাই নন সেখানে কর্মরত ছোট কন্ট্রাকটারের কাছ থেকেও চাদাঁ নিতো সাবু। আর এ কাজে নেতৃত্ব দিতো যুবদল নেতা শহিদ। সবদিক বিবেচনা করে সাবু ও তার বাহিনী ছিলো স্থানীয়দের কাছে আতংকের একটি নাম। গতকাল মঙ্গলবার অস্ত্রসহ আটকের পর জনতার হাতে গনধোলাইয়ের পর পুলিশের কাছে সোপর্দ হলে এখনও প্রকাশ্যে রয়েছে সাবুর চাদাঁবাজির অন্যতম নাটেরগুরু যুবদল নেতা শহিদ। তারা সাবুর মত যুবদল নেতা শহিদকেও দ্রুত গ্রেফতারের দাবী জানান আইন-শৃংখলা বাহিনীর প্রতি।
এ বিষয়ে যুবদল নেতা শহিদের ব্যবহৃত মুঠোফোনে ( ০১৬৭৬-১০৩০@@) জানতে চাইলে তিনি বলেন,ভাই সাবু মুলত ছিলো ভিকির ঘনিষ্টজন। সে আমার কাছে লোক কিভাবে হয়। আমার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগগুলো মিথ্যা ও বানোয়াট। আমাকে হেয় করতেই এ ধরনের মিথ্যাচার ছড়াচ্ছে।




