ষ্টাফ রিপোর্টার:
৫ আগষ্ট স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা ছাত্র-জনতার গনঅভ্যুথানে দেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে গেলেও প্রতিটি পাড়া-মহল্লায় তার চেলা-চামুন্ডারা রয়েছেন বহাল তবিয়তে। বিএনপি কেন্দ্রীয়ভাবে আওয়ামী দোসরদেরকে দলে না ভিড়ানোর কথা বললেও তা যেন কোনভাবেই কর্নপাত করছে অর্থলোভী বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। নারায়ণগঞ্জের প্রতিটি পাড়া-মহল্লার অলিগলিতে লুকিয়ে থাকা কিংবা ঘাপটি মেরে থাকা আওয়ামীলীগের দোসররা একে একে বিএনপিতে যোগদান করছেন কৌশল অবলম্বন করে।
ছবিতে দেখা যাচ্ছে সুমন ওরফে ইয়াবা সুমন এবং সুমন ওরফে মেজর সুমন। ৫ আগস্টের পূর্বে এরা দুজনই কাশীপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের প্রচার সম্পাদক ইকবাল শেখ, কাশীপুর ইউনিয়ন সেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি আল আমিনের সাথে আওয়ামীলীগের প্রতিটা মিছিল মিটিংয়ে সরব ও সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করতো। তৎকালীন সময় থেকেই দুই সুমনই ইয়াবা ব্যবসা ও ছিনতাইয়ের সাথে জড়িত রয়েছে। ৫ আগস্ট পরবর্তী সুমন গংরা নিজেদের বিএনপি নেতা পরিচয় দিয়ে জাকির খানের নাম ব্যবহার করে সম্রাট সিনেমা হল এলাকা, ঝোলাপাড়া, চর কাশীপুর লালন আশ্রম এলাকায় ব্যাপক হারে মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি, অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায় সহ অপরাধমূলক কর্মকান্ডে জড়িত। এর আগে কয়েকটি অনলাইন নিউজ পোর্টাল এবং স্থানীয় পত্রিকায় শামীম ওসমান ও বাদল চেয়ারম্যানের আস্থাভাজনরা জাকির খানের ছায়াতলে শীর্ষক সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিলো। সেখানে দেখা যায়,আওয়ামীলীগের একাধিক দোসর তারা মৎস্যজীবি দলের ব্যানারে সাবেক ছাত্রদলের সভাপতি জাকির খানকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান তার কারামুক্তির পর। এসব মাদকসেবীরা যাতে জাকির খানের আশ্রয় না পায় সেদিকেও খেয়াল রাখার কথা জানিয়েছে পাশাপাশি অবিলম্বে মাদকসেবী সুমন গংদের গ্রেফতার চায় এলাকাবাসী এবং নিপীড়িত জনগন।
এদিকে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দের দাবী, পুরো জেলা জুড়েই বিএনপির নেতৃবৃন্দরা অনৈতিকভাবে অর্থ উপার্জনের জন্য আওয়ামী দোসরদেরকে দলে ভিড়াচ্ছেন এবং বিগত সময়ে যারা পুলিশী হামলা-মামলা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন তারা সেই আগের মতই রয়েছেন। তাদেরকে কোন ভাগ্য পরিবর্তনে সহায়ক হচ্ছেনা। তারা জানান,বিগত ১৭ বছরে আওয়ামী ব্যানারে যারা মাদক,ভুমিদস্যুতাসহ বিভিন্ন অপরাধে যুক্ত ছিলো তাদেরকেই বেছে বেছে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের প্রবেশ করাচ্ছে বিএনপির নেতৃবৃন্দরা। কেন্দ্র থেকে জেলা-উপজেলা ও থানা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দের কাছে যে নির্দেশনা রয়েছে কোন ডেভিলকে যেন দলে অনুপ্রবেশ না করায় তা যেন কর্নপাত করছে না বড় বড় পদে থাকা নেতারা। দলে থাকা নেতারা কেন্দ্রকে মানছেনা বরং আওয়ামী দোসরদের বিএনপিতে অনুপ্রবেশ করিয়ে তাদের কাছ টাকা নেয়ার পাশাপাশি বিগত ১৭ বছরে আওয়ামী দোসরদের যাবতীয় কাজগুলোও তাদের আয়ত্তে আনছেন এমনটাই দাবী করেন আওয়ামী দোসরদের অনুপ্রবেশের দায়ের দল থেকে সুবিধা বঞ্চিত কর্মীরা। দলের এমন পরিস্থিতি দেখে অনেকে ক্ষোভের সাথে বলেন,যে ভাবে আওয়ামী দোসররা বিএনপিতে অর্ন্তক্তুক্তি হচ্ছেন তাতে মনে হচ্ছে যে “আওয়ামীলীগ ছাড়া বিএনপি পুরোটাই অচল”।
তৃনমুলের রাজনীতিতে জড়িত বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দরা দলের কেন্দ্রীয় নির্দেশনার অপেক্ষা রয়েছে যে, যারা আওয়ামী দোসরকে দলে অনুপ্রবেশ করাচ্ছেন তাদেও বিরুদ্ধে কোনরুপ ব্যবস্থা গ্রহন করবে কিনা।




