ষ্টাফ রিপোর্টার:
নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লার মাসদাইর ঘোষেরবাগ এলাকার অন্যতম মাদক স¤্রাট ও যাবতীয় অপকর্মের আতংকের একটি নাম হচ্ছে জাহিদ। খুন-চুরি-ছিনতাই ও মাদক বিক্রি এমন কোন অপকর্ম নেই যা জাহিদ ও তার সঙ্গীদের মাধ্যমে হচ্ছেনা। তবে স্থানীয়দের দাবী, এলাকার কতিপয় প্রভাবশালী কর্তাব্যক্তিরা নিজেদের স্বার্থ হাসিলের জন্যই নাকি দূর্ধর্ষ এ জাহিদ গ্রুপকে তার লালন-পালন করছেন এবং বিভিন্ন অপরাধ সংঘটিত করাচ্ছেন।
মাসদাইর গুদারাঘাট ও ঘোষেরবাগ এলাকাবাসীদের দেয়া তথ্য মতে বহু অপরাধের নয়নমনি জাহিদের পিতা হচ্ছেন আলী হোসেন। অত্র এলাকায় জাহিদের নানা বাড়ির সুত্রে তার মা দেড় শতাংশ জমি পেয়েছেন। সেই দেড় শতাংশ জমির উপর কোন বসত ভিটা নির্মান না করায় এলাকাতেই ভাড়াবাড়িতে বসবাস করেন জাহিদ ও তার পরিবারের সদস্যরা। তবে সুঠাম দেহের অধিকারী জাহিদ যেন উক্ত এলাকাসহ আশপাশ এলাকাবাসীর কাছে আতংকের একটি নাম। অল্প বয়সে বখে যাওয়া জাহিদ এলাকার কিছু বিপথগামী উঠতি বয়সীদের সাথে সখ্যতা গড়ে তুলে মাদক বিক্রিসহ নানাবিধ অপরাধে নিজেকে জড়িয়ে নিয়ে বিভিন্ন অপরাধের মাধ্যমে নিজেকে আলোচনার কেন্দ্র বিন্দুতে নিয়ে আসেন।
গত দুই সপ্তাহ পুর্বে মাসদাইর রোকেয়া খন্দকার স্কুলের সামনে জেলা মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তরের অভিযানে কসাই নাসিরের ছেলের মাদক স্পট থেকে জাহিদসহ ৪ জনকে আটক করে হাতকড়া পড়ালেও জাহিদেও সঙ্গীরা জাহিদসহ সবাইকে হাতকড়াসহ পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। সেই ঘটনায় মামলা হলেও পুলিশের চোখে অধরা হলেও বাস্তবে এখনও এলাকাতে মাদক বিক্রিসহ যাবতীয় অপরাধযজ্ঞ চালিয়ে যাচ্ছে জাহিদ ও তার বাহিনীর সদস্যরা। ৩১ মার্চ পবিত্র ঈদুল ফিতরের দিন বিকেল ৪টায় বাড়ৈভোগ এলাকায় পরিবহন ব্যবসায়ী রমিজউদ্দিন রমুর পরিবহন কাউন্টারে হামলা চালিয়ে তার কাউন্টারের ম্যানেজারকে মারধর করে টিকিট বিক্রি নগদ ১৮ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয় এবং তার পরিবহন কাউন্টারের সামনেই দেশীয় অস্ত্র দিয়ে এক যুবককে কোপানোর ঘটনা এবং রমুর বাড়িতে হামলা চালানো এবং মাঠে থাকা একটি গাড়ির গ্লাস ভাঙ্গার ভিডিও ফুটেজ ইতিমধ্যে কয়েকটি ইউটিউবে প্রকাশও হয়েছে। রমুর বাড়ি ও পরিবহন কাউন্টারে হামলার সময় জাহিদ রুমাল দিয়ে তার মুখটি ঢেকে রাখে যেন কেউ তাকে চিনতে না পারে। সেখানে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে এক যুবককে কুপিয়ে গুরুতর রক্তাক্ত জখম করা হলে স্থানীয়রা উক্ত যুবককে খানপুর ৩ শষ্যা হাসপাতালে নিলে চিকিৎসকরা তার অবস্থা বেগতিক দেখে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন। বর্তমানে গুরুতর আহত উক্ত যুবক সেখানেই চিকিৎসাধীন রয়েছে বলে জানান তার পরিবারের সদস্যরা।
স্থানীয়দের মতে, মাসদাইর বাজার রোকেয়া স্কুলের সামনে ও ঘোষেরবাগ এলাকাতে বেশ কয়েকটি মাদক স্পট চালায় এ জাহিদ। জাহিদ ও তার বাহিনীর কাছে কি পরিমানে দেশীয় অস্ত্র রয়েছে তা দেখা যায় কারোর সাথে ঝগড়ার সময়। প্রায় শতাধিক উঠতি বয়সী ছেলেদের নিয়েই প্রতিনিয়ত দেশীয় অস্ত্র নিয়েই সাধারন মানুষের উপর হামলা চালায় এ জাহিদ। কসাই নাসিরের বড় ছেলে মাসদাইরের অন্যতম মাদত স¤্রাট সেলিমের ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবে জাহিদ নিজেকে পুরো এলাকাবাসীর কাছে যেন আতংকের নামে পরিনত হয়েছে। পান থেকে চুন খসতে দেরী হলেও মারামারি সৃষ্টি করতে এবং দেশীয় অস্ত্র নিয়ে প্রতিপক্ষের উপর হামলা চালাতে দেরী করেনা এ জাহিদ।
স্থানীয়দের মতে, ঘোষেরবাগ এলাকার কতিপয় অর্থলোভী মানুষের কারনে এ জাহিদের জন্ম। এ জাহিদ ও তার বাহিনীর মাধ্যমে মাদক বিক্রিসহ নানাবিধ অপরাধ করাতে উক্ত অর্থলোভীরা কোন দ্বিধাবোধ করেনা। তারা আরও বলেন,বিগত সময়ে একের পর এক অপরাধের জন্ম দিলেও পুলিশ প্রশাসন কর্তৃক জাহিদকে আটক না করার ফলে দিনের পর দিন জাহিদের সাহস ও অপরাধ যেন সীমাহীন হয়ে দাড়িয়েছে। পুলিশের হাতকড়াসহ পালিয়ে এসে জাহিদের মত গুরুতর অপরাধী কিভাবে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ায় এবং একের পর এক অপরাধ সংঘটিত করছে তা আমাদের কারোর বোধগম্য হচ্ছেনা।
স্থানীয়রা আরো জানান, মাসদাইর বাজার ও গুদারাঘাট এবং ঘোষেরবাগ এলাকাকে মাদক ও অপরাধমুক্ত করতে পুলিশের হাতকড়াসহ পালিয়ে যাওয়া দূর্ধর্ষ জাহিদ ও তার বাহিনীর সদস্যদের দ্রুত গ্রেফতার করতে জেলা পুলিশ সুপার ও র্যাব-১১’সদয় হস্তক্ষেপ কামনা করেন।