ষ্টাফ রিপোর্টার:
ফতুল্লার কাশিপুরের ভোলাইল মরা খালপাড় এলাকায় সাবেক ছাত্রদল নেতা জাকির খান ও তার ভাই ঝিকু খানের নাম ব্যবহার করে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে এলাকার হবুল্লার ছেলে বাবু। ইটাবালুর ব্যবসার অন্তরালে চালাচ্ছে মাদক ব্যবসা এমনটাই অভিযোগ রয়েছে স্থানীয়দের। পাশাপাশি নিরহীহ মানুষের জমি নামমাত্র মুল্যে প্রভাবশালীদের কজ¦ায় দেয়ার কথা বলে ভয়ভীতি প্রদান এবং বাড়িতে প্রবেশ করে ভাড়াটিয়াদের বের করে দেয়ারও অভিযোগ রয়েছে এ বাবুর বিরুদ্ধে। প্রায় ১০ দিন পুর্বে মরা খালপাড় এলাকায় রাত সাড়ে ১২টায় এক গৃহিনীর ঘরে প্রবেশ করে হামাড় দিয়ে আঘাত করে মাথার খুলি ভেঙ্গে দেয়ার অভিযোগে হত্যা চেষ্টা মামলার আসামীও হয়েও প্রকাশ্যে সাধারন মানুষকে ভীতি প্রদানের একাধিক অভিযোগে অভিযুক্ত এ বাবু।
হামাড় দিয়ে গৃহবধু রেহেনা বেগমকে সজোরে আঘাত করে মাথার খুলি ভেঙ্গে দেয়া মামলার আসামী বাবু সর্ম্পকে স্থানীয়রা জানান,বাবু মুলত মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত। ৫ আগষ্টের পর জাকির খানের ভাই ঝিকু খানের সাথে সর্ম্পক গড়ে তুলে এলাকার নিরীহ মানুষের জমিগুলো নামমাত্র মুল্যে দখল করে মোটা অংকের টাকায় অন্যত্র বিক্রির অন্যতম হোতা হিসেবে পরিচিতি পায় এ বাবু। প্রায় ১০ দিন পুর্বে গৃহবধু রেহেনার মেয়ের নামে থাকা দেড় শতাংশ জমি তার মেয়ের সাবেক জামাই মজিবরকে বুঝিয়ে দিবে মর্মে একটি চুক্তি করে বাবু। জাকির খান ও ঝিকু খান এখানে জড়িত রয়েছে এমন কথা বলে পুরো এলাকাজুড়েই ভীতি সৃষ্টি করে তোলে বাবু। মজিবর তার নামে থাকা দেড় শতাংশসহ সাবেক স্ত্রীর নামে থাকা দেড় শতাংশসহ তিন শতাংশ জমির উপর নির্মান কাজ শুরু করলে রেহেনা বেগম ২৩ অক্টোবর ফতুল্লা মডেল থানায় অভিযোগ দায়ের করেন মজিবরের বিরুদ্ধে। এতে ক্ষুদ্ব হয়ে ঐদিন রাত সাড়ে ১২টায় মজিবর-বাবুগংরা রেহেনা বেগমের বাড়িতে প্রবেশ কওে হামলা চালায়। এ সময় মজিবর-বাবুগংরা রেহেনা বেগমের মাথায় হামাড় দিয়ে সজোরে আঘাত করতে রেহেনা বেগমের মাথার খুলি ভেঙ্গে যায়। মুমুর্ষ অবস্থায় রেহেনা বেগমকে হাসপাতালে নেয়া হয়। তিনি বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন। সেই ঘটনায় রেহেনার মেয়ে ফতুল্লা মডেল থানায় মামলা করলে পুলিশ মজিবরকে আটক করে জেলে পাঠালেও এখনও প্রকাশ্যে রয়েছেন মামলা অপর আসামী রাতুল,রাজ্জাক ও বাবুগং।
এতকিছুর পরও থেমে নেই বাবু। নিজেকে আগাম জামিন নিতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার দুইজনকে পাঠালে সেখান থেকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এবং তার মেয়ে উক্ত দুইজনকে শাহবাগ থানায় হস্তান্তর করেন। এদিকে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জালড়া রেহেনার বাড়ির ভাড়াটিয়াদেরকে জোড় করে বাড়ি থেকে বের করে দিচ্ছে মামলার অন্যতম আসামী বাবু। রেহেনা শষ্যা পাশে থাকা মেয়ে সেখানে অবস্থান করায় জেলে থাকা মজিবরের স্বজনদের সাথে যোগোযোগ রেখে অনেকটা চাপের মুখে রেখেছে অসুস্থ রেহেনার মেয়েকে।
স্থানীয়দের দেয়া তথ্যমতে জানা যায় যে, ভোলাইল মরা খালপাড় এলাকাবাসীর কাছে হবুল্লার ছেলে বাবু যেন এক নব্য আতংকের নাম। জাকির খান ও তার ভাই ঝিকু খানের নাম ভাঙ্গিয়ে পুরো এলাকা জুড়ে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করছেন। এলাকাতে জমি ক্রয়-বিক্রয় এবং নতুন বাড়ি নির্মানে বাবুর সাথে যোগাযোগ কিংবা তাকে টাকা দিলে কোনভাবেই সম্ভব নয় বলে জানান নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেক সাধারন মানুষ। বাবু শুধুমাত্র জাকির খান ও তার ভাই ঝিকু খানের নামটি ব্যবহার করেই সাধারন মানুষের মাঝে আতংক ছড়িয়ে নিজের আখের গোছাচ্ছেন।
অনতিবিলম্ব রেহেনা বেগমকে হত্যা চেষ্টা মামলার এজাহারনামীয় আসামী হবুল্লার ছেলে বাবুকে গ্রেফতারে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন স্থানীয়রা এবং খান পরিবারের সদস্যদের নাম ভাঙ্গিয়ে সাধারন মানুষের মাঝে ভীতি সৃষ্টিকারী বাবুর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে জাকির খান ও ঝিকু খানের সুদৃষ্টি কামনা করেন মরা খালপাড় এলাকার শান্তিকামী সাধারন মানুষ।
এ বিষয়ে বাবু’র ব্যবহৃত মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি বলেন,ভাই আমি শুধুমাত্র ইটাবালুর ব্যবসা করি কোন মাদকের সাথে আমি জড়িত নই। আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ দেয়া হচ্ছে। রেহেনা হত্যা চেষ্টা মামলার আসামী হওয়া প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ভাই এখানে আমার সর্ম্পৃক্ততা নেই। আমি শুধুমাত্র সেখানে ইটবালু দিয়েছি। কিছু আওয়ামী ফ্যাসিষ্ট আমাকে হেয় করতেই এমন অপতৎপরতা চালাচ্ছে। তিনি বলেন,ভাই আমি চারদিন যাবত সিলেট আছি। আমি নারায়ণগঞ্জে এসে আপনার সাথে বিস্তারিত সবকিছু বলবো।




