ড্রামের ভিতর এমন খন্ডিত লাশ উদ্ধারের ঘটনার সাথে সাথেই পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন থানা পুলিশ, ডিবি পুলিশসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন যে কোন মূল্যে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা উদঘাটন ও আসামি গ্রেফতার করতে জোর তাগিদ দেন।
এরপর প্রতি মূহুর্তে খোজ নিতে থাকেন এই হত্যাকাণ্ডের সকল তথ্য। এমন জোড়ালো মনিটরিংয়ের কারণে কয়েক ঘন্টার মধ্যে উদঘাটন হয় নয় হত্যাকাণ্ডের সকল তথ্য। একই সাথে গ্রেফতারও হন একে একে সাত জন। যা ব্যাপক সাধুবাদের ঝড় বইছে নারায়ণগঞ্জজুড়ে।
ফতুল্লায় ড্রামের ভেতর থেকে অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার — স্ত্রী ও পরকীয়া প্রেমিকসহ ৭ জন গ্রেপ্তার
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় ড্রামের ভেতর থেকে দুই পা বিচ্ছিন্ন অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধারের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। মূলত আর্থিক লেনদেন ও পরকীয়া প্রেমের জেরে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ মঙ্গলবার (৭ অক্টোবর) দুপুর থেকে রাত পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে ৭ জনকে আটক করেছে। আটককৃতরা হলেন নিহতের দ্বিতীয় স্ত্রী সাবিনা (৪০), তার দুই মেয়ে সুমনা (২০) ও সানজিদা (১৮), পরকীয়া প্রেমিক রাসেল ওরফে ঠোঙ্গা রাসেল (৪৫), চয়ন (৩৮), মানিক (৩২) ও জুয়েল (৩০)।
পুলিশ জানায়, সাবিনা ও তার দুই মেয়ে সুমনা-সানজিদা এবং চয়নকে সিদ্ধিরগঞ্জের জালকুড়ি এলাকা থেকে আটক করা হয়। ফতুল্লার পিলকুনি এলাকা থেকে মানিককে এবং নিজ এলাকা থেকে জুয়েলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এছাড়া ঘটনার সঙ্গে আরও কয়েকজনের সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া গেছে, যাদের আটকের চেষ্টা চলছে।
এর আগে মঙ্গলবার দুপুরে ফতুল্লার উত্তর শিয়ারচর এলাকার একটি নির্জন স্থানে ড্রামের ভেতর থেকে দুই পা বিচ্ছিন্ন অবস্থায় অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে মরদেহের পরিচয় শনাক্ত হয় নয়ন (৩৮) নামে এক প্রাইভেটকার চালকের। প্রাথমিক তদন্তে সন্দেহভাজন হিসেবে নয়নের স্ত্রী সাবিনা ও তার পরকীয়া প্রেমিক রাসেলকে আটক করা হয়।
তাদের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে পুলিশ রাত সাড়ে ৮টার দিকে পিলকুনি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে হামিদা বেগমের বাড়ির সামনে থেকে নয়নের খণ্ডিত দুই পা উদ্ধার করে।
নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) তারেক আল মেহেদী জানান, নিহত নয়ন মাদক মামলায় ৩ বছর জেল খেটেছেন এবং পেশায় প্রাইভেটকার চালক হলেও মাদক ব্যবসার সঙ্গেও জড়িত ছিলেন। তার বিরুদ্ধে হত্যা ও মাদকসহ একাধিক মামলা রয়েছে।
জানা যায়, নয়নের কাছে প্রায় ৩ লাখ টাকা ছিল, যা তার স্ত্রী সাবিনার কাছে ছিল। সম্প্রতি জেল থেকে বের হয়ে নয়ন সেই টাকা ফেরত চান। সাবিনা জানান, টাকাগুলো মামলা মোকদ্দমায় খরচ হয়েছে, কিন্তু নয়ন তা বিশ্বাস করেননি। এই নিয়ে তাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব শুরু হয়।
এদিকে নয়নের জেলে থাকার সময় সাবিনার সঙ্গে রাসেলের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিষয়টি জানাজানি হলে দাম্পত্য কলহ আরও বাড়ে। শেষ পর্যন্ত রোববার রাতে নয়নকে হত্যা করা হয়। হত্যার পর মরদেহ একদিন ঘরে রেখে সোমবার রাতে নয়নের দুই পা কেটে ফেলা হয়। দেহের উপরের অংশ ড্রামে ভরে শিয়ারচর এলাকায় ফেলে রাখা হয়, আর পা দুটি বস্তায় ভরে পিলকুনি এলাকায় ফেলে দেওয়া হয়।
পরদিন মঙ্গলবার দুর্গন্ধ ছড়ালে এলাকাবাসী পুলিশে খবর দেয়, পরে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরও জানান, “প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হয়েছি এটি স্ত্রী সাবিনার পরিকল্পিত হত্যা। তবে আরও কারা এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”
স্থানীয়রা ঘটনার দ্রুত উদঘাটন করায় পুলিশের প্রশংসা করেছেন। এলাকায় এখনো চাঞ্চল্য বিরাজ করছে।




