ষ্টাফ রিপোর্টার:
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ জেলার একমাত্র এনসিপির শাপলা কলির প্রতীকের প্রার্থী আব্দুল্লাহ আল আমিন থাকলেও পাশে নেই দলের উল্লেখযোগ্য কোন নেতাকর্মী। এমনটাই নির্বাচনী প্রচারনায় লক্ষনীয়। জোটের নেতাকর্মীদের প্রচারণায় দেখা গেলেও অনেকটা এনসিপি শূন্য নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন আল আমিন। কারো কারো মতে একাই নির্বাচনী মাঠে প্রচারণায় নিজের দলের হয়ে যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছেন আল আমিন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় নাগরিক পার্টি থেকে প্রাথমিক পর্যায় শাপলা কলি প্রতীকে নারায়ণগঞ্জ -৪ থেকে আব্দুল্লাহ আল আমিন এবং নারায়ণগঞ্জ-৫ থেকে আহমেদুর রহমান তনু মনোনয়ন ফর্ম সংগ্রহ করেন।কিন্তু পরবর্তীতে বিএনপি থেকে শশুর আবুল কালাম মনোনয়ন পেলে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান আহমেদুর রহমান তনু। শুধুমাত্র একাই থেকে যান আল আমিন।
নারায়ণগঞ্জে এনসিপির দুই আলোচিত মুখের মধ্যে এক আব্দুল্লাহ আল আমিন। যিনি কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সদস্য সচিব ও জেলার প্রধান সমন্বয়ককারী। তিনি পেশায় একজন আইনজীবী। অন্যজন আহমেদুর রহমান তনু কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও জেলার যুগ্ম সমন্বয়কারী। পেশায় একজন ব্যবসায়ী। তবে জেলায় দুইজনের মধ্যে পরিচিতির দিক দিয়ে এগিয়ে আহমেদুর রহমান তনু। নারায়ণগঞ্জ শহরের যানজট নিরসনে আলোচনায় আসেন তনু এবং সর্ব সাধারনের পরিচিত এক প্রিয়মুখ হয়ে উঠেন এই তনু।
অন্যদিকে এনসিপির হয়ে যতটা না পরিচিত আহমেদুর রহমান তনু তার থেকে বেশি পরিচিত নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি আবুল কালামের জামাতা হিসেবে। এখনো অনেকেই এনসিপির নেতা থেকে কালাম মিয়ার জামাতার পরিচয় হিসেবেই চিনে থাকেন তাকে। সে কারনেই হয়তো শশুরের সাথে নির্বাচনের মাঠে লড়াইয়ে না নেমে খেলা শুরু হবার আগেই নির্বাচন থেকে সরে পড়েছেন। কারো মতে মাঠে ভরাডুবির সম্ভবনা আছে সাথে জামানত বাজেয়াপ্ত হবার।
এদিকে জামায়াতের সাথে ১১ দলের জোটে এনসিপির প্রার্থী হিসেবে নারায়ণগঞ্জ -৪ এ মনোনয়ন পেয়েছে আব্দুল্লাহ আল আমিন। জামায়াত প্রার্থী আব্দুল জব্বার দলের সিদ্ধান্ত মেনে জোটের প্রার্থী এনসিপির আব্দুল্লাহ আল আমিনকে সমর্থন জানিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান। পাশাপাশি আল আমিনের নির্বাচনী প্রচারণা সর্বাত্মক সহযোগিতা করে চলছেন। বিভিন্ন জায়গায় নির্বাচনী প্রচারণায় আব্দুল জব্বারকে দেখা গেলেও এনসিপির জেলা কমিটির আলোচিত এবং তনু সমর্থিত কোন নেতাকর্মী লক্ষনীয় নেই। ইতিমধ্যে তনু বেশকিছু নেতাকর্মী নিয়ে নিজের একটা বলয় বানিয়েই ফেলেছে। সে যেখানে বলে সেখানেই তাদেরকে পাওয়া যায় অথচ দলের প্রার্থীর প্রচারণায় তাদের দেখা যায় না।
যেখানে অন্য দলের প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রচারণায় অথবা বিএনপির জোটের প্রার্থীর নির্বাচনী প্রচারণা দলের নেতাকর্মীরা শ্লোগানে শ্লোগানে মুখরিত করে তুলছে নির্বাচনী মাঠকে সেখানে অনেকটা শূন্যতায় অবস্থান করছে আব্দুল্লাহ আল আমিন দলীয় নেতাকর্মীদের পাশে না পেয়ে। নারায়ণগঞ্জে এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির দলীয় একাধিক ব্যক্তির পদ থাকলেও আল আমিনের পাশে দেখা যাচ্ছে না কাউকেই। উল্টো এমনও গুঞ্জন শুনা যাচ্ছে আহমেদুর রহমান তনু শশুরের হয়ে এনসিপির পোলাপাইন নিয়ে নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছেন।
নারায়ণগঞ্জে একমাত্র এনসিপির শাপলা কলির প্রার্থী আব্দুল্লাহ আল আমিন থাকার পরও তার প্রচারণায় কেন এনসিপির নেতাকর্মী নেই? এবং তার সহকর্মী যুগ্ম সমন্বয়কারী আহমেদুর রহমান তনুকে কেন দেখা যাচ্ছে না এবিষয়ে জানতে এনসিপির শাপলা কলির প্রার্থী আব্দুল্লাহ আল আমিন এর ব্যবহৃত মুঠোফোনে (০১৮৫৬-৪০০৫@@) ফোন করা হলে তিনি তা রিসিভ করেননি।
দলের প্রার্থীর নির্বাচনী প্রচারণায় না থাকার কারন জানতে চেয়ে আহমেদুর রহমান তনুকে তার ব্যবহৃত মুঠোফোনে (০১৮৭৮-৭১০০৫৪) যোগাযোগ করা হলে তিনি তা রিসিভ করেননি।




