ষ্টাফ রিপোর্টার:
বুধবার স্থানীয় বিভিন্ন পত্রিকায় “ফতুল্লায় মাদক সম্রাজ্ঞী শরমীকে গ্রেফতারের দাবী!” শীর্ষক সংবাদটি প্রকাশের দাপা ইদ্রাকপুর ও আশপাশের এলাকার সাধারন মানুষ সংবাদের প্রতিবেদককে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, মাদক সম্রাজ্ঞী শরমী মুলত একটি অপরাধী পরিবারের সন্তান। যে পরিবারের প্রতিটি সদস্যই সমাজের ঘৃনিত সকল অপরাধের সাথে যুক্ত রয়েছেন। শরমীর বাবা ডাকাত শহিদ এবং একভাই ডাকাত আজামীর ও অপরভাই আসিফ সেও একজন পেশাদার ছিনতাইকারী ও মাদক বিক্রেতা।
শরমীর সাবেক স্বামী ইসদাইর এলাকার অন্যতম মাদকের ডিলার ছিলেন প্রয়াত শামীম। মাদক সংক্রান্ত বিরোধে প্রতিপক্ষের হাতে শামীম নিহত হওয়ার কয়েকমাস পরেই সেই ইসদাইর এলাকার আরেক চিহিৃত মাদক বিক্রেতা সম্রাটকে বিয়ে করে এ শরমী। সম্রাট-শরমী জুটি বর্তমানে দাপা ইদ্রাকপুর ও আশপাশ এলাকাতেই প্রকাশ্যে মাদক বিক্রি করছে। স্থানীয়রা আরও জানান, শরমী পরিবারের পারিবারিক ঐতিহ্যই হচ্ছে সমাজের বিভিন্ন অপরাধের সাথে সম্পৃক্ততা। যার ফলে পিতা ও ভাই ডাকাতির করলেও ছোটভাই আসিফকে দিয়ে মাদক ব্যবসার পাশাপাশি ছিনতাইও করে থাকে বলে জানান তারা। আর শরমী নিজে এবং বর্তমান স্বামী সম্রাটও সরাসরি মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রন রয়েছেন। তারা দাবী করে বলেন, পিতা ও একভাই জেলে থাকলেও বর্তমানে শরমী তার স্বামী সম্রাট এবং ছোটভাই আসিফকে নিয়ে তাদের অপরাধযজ্ঞ চালিয়ে যাচ্ছেন অনায়াসে। কারন পুলিশের বাধা নেই রয়েছে স্থানীয় নেতা ও বিশেষ ব্যক্তিদেও আর্শীবাদ। তাই অনতিবিলম্বে শরমী ও তার স্বামী সম্রাটকে দ্রুত গ্রেফতারের দাবী জানান স্থানীয়রা।
ফতুল্লায় থানা পুলিশের নিরবতার ফলে মাদক যেন এক অপ্রতিরোধ্য গতিতে ছুটেই চলছে। হাত বাড়ালেই মাদকের ভয়াবহতা যেন অস্থির করে তুলেছে অভিভাবকদের। ফতুল্লার প্রতিটি পাড়া-মহল্লাতে মাদক এখন উন্মুক্ত এক ব্যবসায় পরিনত হয়েছে। শুধু পুরুষ নয় অনেকটাই অগ্রসর হয়ে পড়েছে নারীরাও।
ফতুল্লা থানাধীন মাদকের সবচেয়ে গুরুত্বপুর্ন পয়েন্ট হচ্ছে রেলষ্টেশনসহ আশপাশের এলাকাগুলো। এ সকল এলাকাগুলো পুরুষের পাশাপাশি নারী মাদক ব্যবসায়ীরাও এগিয়ে চলছে দূর্বার গতিতে। দাপা মসজিদ এলাকায় ইয়াবার ব্যবসা যুবলীগ ক্যাডার ডাকাত শহিদ হোসেনের মেয়ে শরমী,রিপন কাজির মেয়ে সোনিয়া, মৃত ডাকাত লিপুর স্ত্রী পারভীন, সুমনের স্ত্রী আল্পনা হলেন অন্যতম। এ সকল নারী মাদক ব্যবসায়ীরা গাজাঁ ও হেরোইনের ব্যবসা করছেন।
স্থানীয়দের মতে, দাপা মসজিদ এলাকায় ইয়াবার ব্যবসা যুবলীগ ক্যাডার ডাকাত শহিদ হোসেনের মেয়ে এবং ডাকাত আজমীরের বোন শরমীকে এখন অন্যতম মাদক সম্রাজ্ঞী বলা চলে। ইসদাইর এলাকার অন্যতম মাদক ব্যবসয়ী প্রতিপক্ষের হাতে নিহত শামীমের স্ত্রী ছিলেন এ শরমী। শামীম হত্যাকান্ডের পর সম্রাট নামে আরেক মাদক বিক্রেতাকে বিয়ে করেন এ শরমী। সম্রাটের বাড়ি ইসদাইর এলাকাতে হলেও সে এখন শশুরবাড়িতে বসবাস করে স্ত্রী শরমীর সাথে নিজেও মাদক ব্যবসা করছেন স¤্রাট। তারা আরও বলেন,ডাকাত শহিদের পুরো পরিবারটিই মাদক ও ডাকাতিসহ বিভিন্ন অপকর্মে জড়িত। এক কথায় পরিবারের প্রতিটি সদস্যর শরীরে যেন অপরাধের রক্তজোয়ার বইছে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার মামলা ডাকাত শহিদ ও তার ছেলে আজমীর জেলে থাকলেও তাদের অপকর্ম যেন পিছিয়ে নেই।
স্থানীয়রা আরও জানান,কিছু অর্থলোভী পুলিশ সদস্য,তাদের সোর্স এবং বিশেষ কিছু কর্তাকে ম্যানেজ করে দূর্দান্ত গতিতে শরমী চালিয়ে যাচ্ছে মাদকের সাম্রাজ্য। এলাকাতে নেই পুলিশী অভিযান এবং নেই স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিদের নেই কোন তদারকি যার ফলে বেপরোয়াভাবেই মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে শরমীগং।
তারা আরও বলেন,৫ই আগষ্টের ছাত্র জনতা আন্দোলনে স্বেরাচারী সরকারের পতনের পর বাংলার আকাশে উদিত সূর্য দেখে অনেকেই শান্তির বাতাস গায়ে লেগেছে ভাবলেও তা যেন হয়ে উঠেনি। সাধারন মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন না হলেও ভাগ্য পরিবর্তন হয়েছে মাদক ব্যবসায়ী,কিছু অর্থলোভী পুলিশ ও নামধারী কিছু বিশেষ মানুষের।
স্থানীয়রা অনতিবিলম্বে দাপা এলাকার অন্যতম নারী মাদক সম্রোজ্ঞী শরমীগংদের গ্রেফতারের জন্য র্যাব-১১ এবং সেনাবাহিনীর প্রতি সদয় আহবান জানান।




