ষ্টাফ রিপোর্টার:
অস্ত্র মামলার যাবজ্জীবন এবং ডাকাতি ও মাদক মামলার সাজাপ্রাপ্ত আসামী ফতুল্লা রেলষ্টেশন এলাকার অন্যতম মাদক বিক্রেতা মো.দ্বীন ইসলাম এখন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির অঙ্গসংগঠন ফতুল্লা ইউনিয়ন তাতীদলের সাধারন সম্পাদক বনে গেছেন। যা নিয়ে রীতিমত পুরো এলাকাতে চলছে আলোচনা-সমালোচনা।
সরেজমিনে স্থানীয়দের দেয়া তথ্যানুসন্ধানে জানা যায় যে, ফতুল্লার রেলষ্টেশন ব্যাংক কলোনীসহ আশপাশ এলাকার চিহিৃত অপরাধীর মধ্যে অন্যতম হচ্ছেন এ দ্বীন ইসলাম। তার বিরুদ্ধে এমন কোন অভিযোগ কিংবা মামলা নেই যা বলার বাকি নেই। মাদকের এ গডফাদার দ্বীন ইসলাম নিজে কাশিপুর এলাকায় বসবাস করলেও তার দুই বোবা ভাই এবং সাঙ্গপাঙ্গদের দিয়ে পুরো এলাকাতেই মাদকের হাটবাজারে পরিনত করেছেন। বিগত আওয়ামীলীগের আমলে মাদক,অস্ত্র ও ডাকাতিসহ বিভিন্ন অপকর্মের দায়ে মামলার আসামী হয়েও বীরদর্পে তার অপরাধ জগত চালিয়েছিলেন আওয়ামী দোসরকে সাথে নিয়ে। বিগত সময়ে বিএনপির ব্যানারে কোন মিছিল-মিটিং না করলেও বর্তমানে মাদকের টাকার বিনিময়ে ফতুল্লা থানা তাতীদলের সাধারন সম্পাদক হানিফুর রহমান ইমনের মাধ্যমে তিনি সরাসরি ইউনিয়ন তাতীদলের সাধারন সম্পাদক পদ ভাগিয়ে নেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় অনেকে জানান,ব্যাংক কলোনীর প্রবেশ মুখেই হানিফুর রহমান ইমনের শেল্টারে দ্বীন ইসলামের দুই বোবা ভাই প্রকাশ্যেই মাদক বিক্রি করছেন। আর তা দেখভালের জন্য ইমন প্রতি সপ্তাহে ৫ হাজার টাকা করে নিচ্ছেন। তারা আরও বলেন,শুধু দ্বীন ইসলাম নয় এরকম আরো কয়েকজন আওয়ামী দোসরকে তাতীদলের নেতা বানিয়ে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন থানা তাতীদলের এ সাধারন সম্পাদক ইমন। তারা বলেন,ইমনদের মত অর্থলোভী নেতাদের কারনে সমাজ আওয়ামী দোসরা বিএনপি নেতা হচ্ছেন আর দ্বীন ইসলামদের মত মাদক ব্যবসায়ীরা এখনও প্রকাশ্যে মাদক বিক্রি করে সমাজকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যাচ্ছেন।
তারা আরও বলেন,অত্র এলাকার মাদকের অন্যতম গডফাদার দ্বীন ইসলাম তার দুই ভাইকে নিয়ে এবং সাঙ্গপাঙ্গদের দিয়ে ব্যাংক কলোনী,ফতুল্লা ষ্টেশনসহ আশপাশ এলাকায় গড়ে তুলেছেন মাদকের আখড়া। বর্তমানে সে ইউনিয়ন তাতীদলের সাধারন সম্পাদক হওয়ার সুবাদে তার মাদক বিক্রি ব্যবসা যেন আরও উন্মুক্ত করে নিয়েছেন। নিজেকে নেতা পরিচয় দিয়ে সেই প্রভাবে কাউকেই তোয়াক্কা করছেনা। তারা বলেন,একজন কুখ্যাত অপরাধী ও মাদকের মহানায়ক কিভাবে বিএনপির মত একটি স্বনামধন্য দলের অঙ্গসংগঠনের ভাইটাল পদে আসীন হয় তা আমাদের বোধগম্য হচ্ছেনা। তবে কি টাকা দিলেই অপরাধীরা রাজনৈতিক দলের পৃষ্টপোষকতায় নির্বিগ্নে অপরাধ করা সুযোগ পায় ? আমরা চাই দ্বীন ইসলামের মত একজন চিহিৃত অস্ত্র মামলার যাবজ্জীবন এবং ডাকাতি ও মাদক মামলার সাজাপ্রাপ্ত আসামীকে যারা দলের ভিড়িয়েছেন তাদের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গ্রহন করুক এবং অতিদ্রুত দ্বীন ইসলামকে দল থেকে বহিস্কার করা হোক। পাশাপাশি আইন-শৃংখলা বাহিনীর কাছে অনুরোধ চিহিৃত এ অপরাধীকে দ্রুত গ্রেফতার করা হোক।
এ বিষয়ে ফতুল্লা থানা তাঁতীদলের সাধারন সম্পাদক হানিফুর রহমান ইমনের ব্যবহৃত মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি বলেন,গতকাল কমিটি থেকে দ্বীন ইসলামকে বহিস্কার করে দেয়া হয়েছে। আপনার অফিসের সামনে ওর দুই ভাই প্রকাশ্যে মাদক বিক্রি করছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন,ওরা ৩০ বছর যাবত এখানে মাদক বিক্রি করে। আপনাদের মত সাংবাদিকরা ওর কাছে আছে এবং থাকে বলেই তাকে উৎখাত করা যাচ্ছেনা।




