ষ্টাফ রিপোর্টার:
নারায়ণগঞ্জ ৫ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট আবুল কালামের পক্ষে এনসিসি ১৩ নং ওয়ার্ডের মাসদাইর বাজার এলাকায় যে নির্বাচনী প্রচারনার অস্থায়ী ক্যাম্পটি স্থাপন করা হয়েছে সেটা মুলত স্থানীয় মাদক বিক্রেতা-শেল্টারকারী এবং আম্মাজান গ্রুপের সদস্যদের দ্বারা। যা নিয়ে দ্বিধায় পড়েছে স্থানীয়রা। তাদের প্রশ্ন,এরা কি ধানের শীষের প্রার্থী আবুল কালামকে জয়লাভের জন্য করেছে নাকি নিশ্চিত পরাজয়ের জন্য করেছে?
নারায়ণগঞ্জ ৫ আসনের সীমানার মধ্যে এনসিসির ১৮টি ওয়ার্ড এবং বন্দর উপজেলা নিয়ে গঠিত। তবে এনসিসির ২৭টি ওয়ার্ডের মধ্যে সবচেয়ে বেশী ভোটারের সংখ্যা ১৩ নং ওয়ার্ডে। যারফলে নির্বাচনে এ ওয়ার্ডটি গুরুত্বপুর্ন ভুমিকা রাখবে বলে আশাবাদী অনেক ভোটাররা। তবে নির্বাচনী ক্যাম্প স্থাপনে আওয়ামী দোসর এবং স্থানীয় চিহিৃত মাদক বিক্রেতা ও শেল্টারকারীদের স্বশরীরে সেখানে উপস্থিতি নিয়ে সাধারন ভোটারের মাঝে শংকা দেখা দিয়েছে। ১৩ নং ওয়ার্ডের মাসদাইর-গলাচিপা হচ্ছে মাদক ও অপরাধের অন্যতম জোন। গত কয়েকদিন পুর্বে গলাচিপা চেয়ারম্যান বাড়ি সংলগ্ন হতে বিপুল পরিমানে দেশীয় অস্ত্র ও মাদকসহ একজনকে গ্রেফতার করেছিলো থানা পুলিশ। গতকাল সোমবার মধ্যরাতেও এসই একই এলাকায় যৌথবাহিনীর অভিযানে দেশীয় অস্ত্রসহ ৪ জনকে আটক করা হয়েছে। এছাড়াও অনলাইন নিউজ পোর্টালসহ স্থানীয় গনমাধ্যমে যাদের নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে সেই তাদেরকে দিয়ে ধানের শীষের প্রার্থী অ্যাডভোকেট আবুল কালামের পক্ষে একটি নির্বাচন ক্যাম্প স্থাপন করেছে স্থানীয় এক বিএনপি নেতা ও কালামপুত্র আশার জনৈক পীর ভাই খ্যাত বিগত সময়ে আওয়ামী দোসর টুটুল।
আর সেই নির্বাচনী প্রচারনার ক্যাম্পের দ্বায়িত্বে রয়েছে আজমেরী ওসমানের সহযোদ্ধা পিজা শামীমের একনিষ্টকর্মী মাহাবুব ও হাবু এবং তার বাহিনীর সদস্যরা। যাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধেই রয়েছে মাদক বিক্রি এবং শেল্টার দেয়া ও বিভিন্ন বাড়িতে ইমরতি মালামাল জোড়পুর্বক দেয়া।
নাম প্রকাশে অনচ্ছিুক একাধিক এলাকার সাধারন মানুষ জানান, আজমেরী ওসমানের মা যিনি আম্মাজান হিসেবে খ্যাত। বিগত আওয়ামীলীগের দীর্ঘ শাসনামলে সেই আম্মাজানের ছায়াতলে থেকে মাসদাইর ও গলাচিপা এলাকার বিভিন্ন অলিগলিতে মাদক বিক্রি-শেল্টারসহ নানাবিধ অপরাধ করে বেড়াতো। ৫ আগষ্টের পর আওয়ামী খোলস পরিবর্তন করে ক্রয়ফায়ারে নিহত মনিরুজ্জামান শাহীনের ছোটভাই আসাদুজ্জামান শামীমের হাত ধরে জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি জাকির খানের বলয়ে প্রবেশ করে পুর্বের ন্যায় বর্তমানেও সেই অপকর্মের দ্বারা অব্যাহত রেখেছেন।
তারা আরও বলেন,দীর্ঘ সাধনার পর অনেক প্রার্থীকে পেছনে ফেলে ধানের শীষের প্রতিক পেয়েছেন সাবেক সাংসদ আবুল কালাম। ক্লিন ইমেজধারী আবুল কালামের ভোট নষ্ট করতেই নাকি স্থানীয় এক বিএনপি নেতা ও সাবেক এমপি কালামপুত্র আশার পীরভাই বলে খ্যাত টুটুলগং বিতর্কিত মাহাবুজ-হাবুগংদের দিয়ে নির্বাচনী ক্যাম্প পরিচালনার দ্বায়িত্ব দিয়েছে। যদিও এসকল অপরাধীদের দিয়ে কেনো ক্যাম্প বসানো হয়ে তা বরাবর অস্বীকার করছেন উক্ত বিএনপি নেতা। তিনি বলেন, এই ক্যাম্পের বিষয়ে সাবেক এমপি কন্যা বাধন এবং অ্যাড. নবী হোসেন ভালভাবে জানেন। তাদেরই একজন সহযোগি স্বপন নামে এক নেতা মাসদাইরে এ নির্বাচনী ক্যাম্পটি স্থাপন করেছেন। তবে স্থানীয়রা বলছেন এখানে ক্যাম্প বসানোটি সম্পূর্ন উক্ত বিএনপি নেতার নিয়ন্ত্রনে ছিলো।
স্থানীয় বাসিন্দা ও সাধারন ভোটারদের মতে, বিভিন্ন অভিযোগে অভিযুক্ত মাহাবুব-হাবুগংদের নিয়ন্ত্রনে চলা ১৩ নং ওয়ার্ডে আবুল কালাম সাহেবের নির্বাচনী প্রচারনার পরিবর্তে হিতে বিপরীত হতে পারে। কারন স্থানীয় বাসিন্দারা চায় শান্তিপুর্নভাবে পরিবার-পরিজন নিয়ে চলতে। কোন মাদক বিক্রেতা কিংবা শেল্টারদাতা অথবা কোন জুলুমকারীকে পুনরায় দেখতে চায়না মাসদাইর ও গলাচিপা এলাকায় বসবাসকারীরা। মাহাবুব-হাবুগংরা ধানের শীষের প্রার্থী আবুল কালামের আর্শীবাদের পরিবর্তে অভিসাপ হয়ে দাড়াতে পারে ১২ ফেব্রুয়ারীর নির্বাচনে।
তাই সাধারন ভোটার ও স্থানীয় বাসিন্দারা অতিদ্রুত মাহাবুব-হাবুগংদের কবল থেকে ধানের শীষের প্রার্থী আবুল কালাম সাহেবের বিজয় সুনিশ্চিত করতে অনতিবিলম্বে ১৩ নং ওয়ার্ডের মাসদাইর বাজারে হাকিম ডাক্তারের বাড়ির পাশে গড়ে উঠা নির্বাচনী ক্যাম্পটি বন্ধ করতে ধানের শীষের প্রার্থী আবুল কালাম ও তার ছেলে আবুল কাউসার আশার সুদৃষ্টি কামনা করছেন।




