ষ্টাফ রিপোর্টার:
ফতুল্লা মডেল থানার আলোচিত যুবদল কর্মী আলকাছ ও স্বেচ্ছাসেবকলীগের কর্মী কাদির হত্যা মামলার প্রধান হোতা মুসলিম ওরফে ‘কিলার মুসলিম’কে সঙ্গে নিয়ে ভোটের গণসংযোগে অংশ নিয়েছেন বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. গিয়াস উদ্দিন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় মহল ও রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্বাচনী মঞ্চে চাঁদাবাজ, মাদক ব্যবসায়ী ও খুনিদের বিরুদ্ধে কঠোর বক্তব্য দিলেও বাস্তবে গিয়াস উদ্দিন নিজেই শীর্ষ সন্ত্রাসী ও একাধিক হত্যা মামলার আসামি মুসলিমকে সঙ্গে নিয়ে ফুটবল প্রতীকে ভোট প্রার্থনা করছেন।
রোববার সকালে ফতুল্লা রেলস্টেশন এলাকায় গিয়াস উদ্দিনের গণসংযোগ চলাকালে মুসলিম ও তার সহযোগীদের প্রকাশ্যে উপস্থিতি এলাকাবাসীর মধ্যে চরম ক্ষোভের জন্ম দেয়। অনেকেই এ ঘটনাকে ‘অপরাধীদের পুনর্বাসনের রাজনৈতিক চেষ্টা’ বলে মন্তব্য করেছেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, মুসলিম ফতুল্লার দাপা ইদ্রাকপুর বেপারীপাড়া এলাকায় একটি বাড়িতে ঢুকে পরিবারের সদস্যদের সামনে প্রকাশ্যে গুলি করে স্বেচ্ছাসেবকলীগের কর্মী কাদিরকে হত্যা করে। একই ঘটনায় যুবদল নেতা তুষার আহমেদ মিঠুকে হত্যার উদ্দেশ্যে গুলি করা হলেও তিনি প্রাণে বেঁচে যান।
এছাড়া যুবদল কর্মী আলকাছকে বাসা থেকে ডেকে এনে হাত-পায়ের রগ কেটে ও কুপিয়ে হত্যা করে তার লাশ দাপা খোজপাড়া এলাকার মেরিনা গার্মেন্টসের সামনে ফেলে রাখা হয়।
দুটি হত্যাকান্ডের ঘটনায় মামলা হলেও পরবর্তীতে মুসলিম ও তার সহযোগীদের লাগাতার হুমকির মুখে নিহতদের পরিবার মামলা তুলে নিতে বাধ্য হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ৫ আগস্টের পর থেকে মুসলিম ফতুল্লা রেলস্টেশন, দাপা খোজপাড়া, বেপারীপাড়া, কবরস্থান সড়ক, সাহারা সিটি বালুর মাঠসহ আশপাশের এলাকায় কার্যত ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে। পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের পুকুর থেকে মাছ লুট, বিভিন্ন বাসাবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ডাকাতি, লুটপাট ও নিয়মিত চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
একই সঙ্গে রেলস্টেশন, সাহারা সিটি বালুর মাঠ, হক রোলিং মিল গলি ও কবরস্থান সড়কসহ আশপাশের অলিগলিতে গড়ে তোলে মাদকের প্রকাশ্য বাজার। নিজস্ব কোনো বৈধ ব্যবসা না থাকলেও তার চলাফেরায় দেখা যায় অস্বাভাবিক আলিশান জীবনযাপন।
৫ আগষ্টের পর এ মুসলিম ও তার বাহিনীর লোকজন খবুরউদ্দিন খবু’র নামে এক ব্যক্তির বাড়িতে হামলা চালিয়ে ব্যাপক লুটপাটের ঘটনা ঘটায়। বর্তমানে মুসলিমের অফিসে যে টিভি রয়েছে সেটাই নাকি খবু’র বাড়ি থেকে লুট করে আনা টিভি, জানান নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জনৈক ব্যক্তি।
এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহল প্রশ্ন তুলেছে একজন কথিত অপরাধবিরোধী প্রার্থী কীভাবে প্রকাশ্যে একজন শীর্ষ সন্ত্রাসীকে সঙ্গে নিয়ে নির্বাচনী প্রচারণা চালান? তারা দ্রুত প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ ও তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।




