আসন্ন এয়োদশ জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জমে উঠেছে মাঠ পর্যায়ের প্রচার প্রচারনা। বন্দরেও বিভিন্ন দলের প্রতিকের পাশাপাশি খুব সোরেসোরেই বিএনপির মনোনীত ধানের শীষ প্রতিকের প্রার্থী এ্যাডভোকেট আবুল কালামের পক্ষে প্রচার প্রচারনা চলছে। তবে ক্লিন ইমেজের বিএনপির মনোনীত আবুল কালামের পক্ষে গনসংযোগ ও প্রচার প্রচারনা কোন হত্যা মামলার আসামী ও স্বৈরাচারের দালালের হাতে দায়িত্ব দিলে ভাল ফলাফলের পরিবর্তে ভরাডুবির আশংকা হবে বলে মনে করেন সচেতন ভোটারা।
ক্ষোভ প্রকাশ করে ভোটাররা জানিয়েছেন,নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে এ্যাডভোকেট আবুল কালাম বিএনপির মনোনীত ধানের শীষ টিকিট পাওয়ায় বন্দরের মানুষ আনন্দিত হয়েছে। তবে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ২১নং ওয়ার্ডে বিএনপি মনোনীত আবুল কালামের পক্ষে নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব শাহীমসজিদ এলাকায় সংঘটিত আলোচিত কুদ্দুছ হত্যা মামলার প্রধান আসামী ও স্বৈরাচার সরকারের দালাল বহুরুপী হান্নান সরকারকে দেওয়ায় সাধারন ভোটাররা অনিহা প্রকাশ করে ক্ষোভে ফুসে উঠেছে। এমন একজন হত্যা মামলার চিহৃিত আসামী যদি ক্লিন ইমেজের প্রার্থী আবুল কালামের পক্ষে ভোট চাওয়া এমনকি নির্বাচনী কেন্দ্র পরিচালনা করে এটা সত্যিই লজ্জাজনক। ওসমান পরিবারের ঘনিষ্ট ও নানা অপরাধের হোতা হান্নান সরকার নামকাওয়াস্তে বিএনপি করলেও সে কখনো বিএনপির ক্রান্তিকালীন সময়ে দলের পাশে ছিলনা। এমপি সেলিম ওসমান,শামীম ওসমান ও সাবেক মেয়র আইভীর সাথে সখ্যতা করে সুবিধা নিয়েছে। এমপি সেলিম ওসমানের নির্বাচনী সভায়ও এই স্বৈরাচারের দালাল হান্নান সরকারকে স্টেজে প্রথম সাড়িতে দেখা গেছে। গত ৫ আগষ্ট ছাত্র আন্দোলনে স্বৈরাচার সরকারের পতন হলে আওয়ামী প্রীতি এই হান্নান সরকার ভুল পাল্টে বিএনপির কতিপয় উশৃঙ্খল কর্মীদের নিয়ে স্বৈরাচার সরকার দেশ ত্যাগ করায় মিছিল করে ও মিষ্টি বিতরন করে। পরে ২১নং ওয়ার্ড শাহীমসজিদ এলাকায় আওয়ামীলীগ সমর্থিত দোকান ভাঙ্গচুর,দোকান কমিটি,মসজিদ কমিটি,স্কুল-মাদরাসা কমিটি নিয়ন্ত্রনে নেয়। এছাড়াও হান্নান সরকারের সন্ত্রাসী বাহিনী বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ব্যাপক চাদাবাজি ও মাদক ব্যবসাসহ এলাকায় আধিপত্ত বিস্তারে জনঅশান্তি সৃষ্টি করে। পরে হান্নান সরকারের সন্ত্রাসী বাহিনী নিজেদের মধ্যে বন্দর রেল লাইন অটোস্ট্যান্ডের নেতৃত্ব দুই গ্রুপে বিভক্ত হয়। আধিপত্ত বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের পাল্টাপাল্টি হামলায় দুই জন খুন হয়। এর মধ্যে হান্নান গ্রুপের বলির শিকার হন দিনমজুর বৃদ্ধ কুদ্দুছ। পরে হান্নান সরকার পলাতক থাকলেও প্রশাসন আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে অপরাধের নির্দেশদাতা হান্নান সরকারসহ ঘাতক খুনির অবস্থান সনাক্ত করে তাদের আটক করার পর হান্নান সরকারের বাড়ি থেকে পুলিশ খুন করতে ব্যবহার করা ঘাতক জুয়ারী বাবুর শিকারোক্তি জের ধরে ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করে। পুলিশ তাদের জেল হাজতে প্রেরন করলে দেড় মাস পর হান্নান সরকার জামিনে মুক্ত হয়ে বের হয়। এরপর এই বহুরুপী হান্নান সরকার বিএনপির প্রাথমিক প্রতিক দেয়া মডেল মাসুদের মিছিলে গিয়ে তার বহিস্কারাদেশ প্রত্যাহার করে নেয় । পরে সুযোগ সন্ধানী হান্নান বুঝতে পারে সাবেক এমপি আবুল কালামই বিএনপির মনোনীত ধানের শীষ প্রার্থী। তারপর আবুল কালামের পদতলে গিয়ে আশ্রয় নেয়। আর এমন বিতর্কিত হান্নান সরকার যদি বিএনটির নির্বাচনী কেন্দ্র পরিচালনার দায়িত্ব পায় তাহলে সেই দলের ভরাভুবি হতে সময়ের অপেক্ষা মাত্র। সাধারন ভোটাররা এসব নামধারী বিতর্কিত নেতাদের বহিস্কার বহাল রাখার আবেদনের জোর দাবী জানাচ্ছে।
স্থানীয়রা জানান,পতিত স্বৈরাচারের দোসর সাবেক এমপি সেলিম ওসমানের পক্ষে থেকে দিনের ভোট রাতের দেয়ার একাধিক অভিযোগ রয়েছে হান্নান সরকারের বিরুদ্ধে। বুকে সেলিম ওসমানের প্লেকার্ড ঝুলিয়ে বন্দরের কয়েকটি কেন্দ্র দখল করে জাল ভোট দেয়ার কারিগড় হিসেবেও তার ব্যাপক পরিচিতি ছিলো সে সময়ে। সেলিম ওসমানের পক্ষে লাঙ্গলের জন্য ভোট চেয়ে প্রকাশ্যে ভোট প্রার্থনা করেছিলেন তিনি। মেয়র আইভীর পক্ষেও তিনি নৌকার পক্ষে বিজয় মিছিলে সারা শহর দাপড়িয়ে বেড়িয়েছেন। নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগ নেতাদের সাথেও তার বেশ সখ্যতা ছিল।
স্থানীয় একজন বিএনপির তৃনমুল কর্মী বলেন,বিএনপি দু:সময়ে হান্নান সরকার বিগত ১৭ বছর স্বৈরাচারের দালালী করছে। পতিত সরকারের এমপি সেলিম ওসমান ও আ’লীগ নেতাদের ঘনিষ্ট ছিল। অনেক সুবিধা নিয়েছে। আর এখন দলের সুসময়ে মধু খাচ্ছে। আশ্চর্য্য ব্যাপার। আমরা দলের দু:সময়ে গুলি খাবো,জেল খাটবো আর স্বৈরাচারের সুবিধা ভোগীরা এই নতুন বাংলাদেশে সুফল ভোগ করবে,মুটেই না। এটা দলের জন্য লজ্জা। আমরা দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের দৃষ্টি আকর্ষন করছি স্বৈরাচারের বন্ধু হান্নান সরকারের বহিস্কার বহাল রাখার অনুরোধ করছি।




