ডিলিমিটেশন আইন ২০২১ এর ৬ ধারার (৩,৪) উপ ধারায় এরিয়া সংযোজন– বিয়োজনের
বন্দর প্রতিনিধি //আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন আসন এরিয়া নির্ধারন নিয়ে ক্ষোভের সঞ্চারন দেখা দিয়েছে। বন্দর উপজেলাকে পূর্বের অবস্থানে রাখতে নিয়মতান্ত্রিক ভাবে সকল কিছু করা হবে। দেশ উন্নয়ন নিয়ে সামনে অগ্রসর হচ্ছে আর আমাদের বন্দর উপজেলাকে নিয়ে বারংবার ষড়যন্ত্র হচ্ছে। গুলশান বনানীর সমতালে খাজনা, টেক্স দিয়ে আমাদের কেন পেছনে (সোনারগাঁও)র সাথে নিবে। বিগত ১/১১ সেনা সরকারের সময়ে এ বন্দরকে নিয়ে ষড়যন্ত্র করেছিল। তা আমরা দলমত নির্বিশেষে আইনী প্রক্রিয়ায় তা ফেরত আনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বন্দর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আতাউর রহমান মুকুল বলেছেন।
এছাড়া তার ফেইসবুক আইডিতে পোষ্ট করেছেন, নারায়ণগঞ্জ–৫ আসনকে ভেঙে নতুনভাবে সীমানা নির্ধারণ করার সিদ্ধান্ত শুধু একটি রাজনৈতিক পুনর্বিন্যাস নয় এটি আমাদের হৃদয়ের টুকরো ছিঁড়ে নেওয়ার মতো একটি নির্মম পদক্ষেপ।
বন্দর উপজেলা, যাদের সাথে যুগ যুগ ধরে আমাদের সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও আত্মিক সম্পর্ক গড়ে উঠেছে, সেই বন্দরকে সোনারগাঁওয়ের সাথে যুক্ত করে নারায়ণগঞ্জ–৩ আসনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। অপরদিকে নারায়ণগঞ্জ–৫ আসনকে কেবল সিটি কর্পোরেশন এলাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ করে ফেলা হয়েছে।
বন্দর উপজেলা নারায়ণগঞ্জ–৫ আসনের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। আমি বন্দর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান হিসেবে এখানকার জনসাধারণের আবেগ, প্রত্যাশা ও ন্যায্য দাবির কথা আজ আপনাদের সামনে তুলে ধরছি—আশা করি আপনারা এই গণদাবিকে মূল্যায়ন করবেন।
শীতলক্ষ্যা নদী আমাদের শহরের মাঝে নদী নয়, এটা আমাদের আত্মার বন্ধন। এই নদীর এ–পার ও–পার ছিল না কখনো; ছিল একটি অদৃশ্য মেলবন্ধন, যেখানে একে অপরকে ছাড়া কল্পনাও করা যায় না। কিন্তু আজ সেই শীতলক্ষ্যার দুই পাড়কে যেন কল্পনাহীন এক বিভাজনের রেখায় টেনে আলাদা করে দেওয়া হয়েছে। এটা শুধু ভৌগোলিক বিচ্ছেদ নয় এটা অনুভব, সম্পর্ক, ইতিহাস এবং আত্মার ওপর চালানো এক নিষ্ঠুর আঘাত।
নির্বাচনের আগে এ ধরনের সীমানা পরিবর্তন শুধু যে নির্বাচনপ্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করে, তা নয় এটা প্রার্থীদের বহুদিনের প্রস্তুতিকে মুহূর্তে অকার্যকর করে দেয়, এবং সবচেয়ে কষ্টের বিষয়, এলাকাবাসীর আবেগ–ভিত্তিক ভোটাধিকারকে চরমভাবে আঘাত করে। মানুষ তাদের প্রার্থীদের নিয়ে স্বপ্ন দেখছে, প্রতিদিন কথা বলছে, মত প্রকাশ করছে তারা প্রস্তুত ছিল একটি নির্দিষ্ট কাঠামোর মধ্যে ভোট দেওয়ার জন্য। হঠাৎ করে এই কাঠামো ভেঙে ফেলা মানে শুধু পরিকল্পনার ধস নয়, এটা বিশ্বাসেরও ভাঙন।
আমরা নারায়ণগঞ্জ–৫ আসনের সচেতন নাগরিক হিসেবে অত্যন্ত ব্যথিত ও ক্ষুব্ধ। আমরা কর্তৃপক্ষের কাছে বিনীতভাবে অনুরোধ করছি এই অযৌক্তিক, অবিচারমূলক এবং আবেগবিচ্যুত সিদ্ধান্ত বাতিল করুন। আগের সীমানা ফিরিয়ে এনে আমাদের আবেগ, সম্পর্ক ও ভোটাধিকারকে সম্মান করুন। এই দাবিটি শুধুমাত্র রাজনৈতিক নয় এটি নারায়ণগঞ্জ–৫ এর লক্ষ লক্ষ মানুষের হৃদয়ের দাবি, আত্মার দাবি।
ব্যবসায়ী ও জামায়াত ইসলামীর নেতা মোহাম্মদ গোলাম সারোয়ার সাঈদ এর হটকারী সিদ্ধান্তকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফেইসবুক আইডিতে পোষ্ট করেছেন। যা পাঠকদের জন্য হুবহুই তুলে ধরা হল
নির্বাচন কমিশনের আসন প্রস্তাবনায় বন্দরকে যেভাবে দ্বিখন্ডিত করে তিন এবং পাঁচের সাথে যুক্ত করা হয়েছে এটা কোন সুস্থ চিন্তার মানুষের প্রস্তাবনা হতে পারে না। এটা বাস্তবায়িত হলে বন্দরকে সারা জীবনের জন্য বঞ্চিত এবং অবহেলিত করে রাখা হবে।
কেননা ভোটের মাঠে বন্দরের ভোট তিন এবং পাঁচ আসনের প্রার্থীদের জন্য ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়াবে না, এই চিন্তা থেকে কোন প্রার্থী বন্দরকে প্রকৃত মূল্যায়ন করবে না।
তাই যার যার জায়গা থেকে নির্বাচন কমিশনের প্রস্তাবনার প্রতিবাদ করা উচিত। সেই সাথে নির্বাচন কমিশনের শুনানিতে বন্দরের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের ভূমিকা রাখা উচিত।
আমরা অবশ্যই এর প্রতিবাদ জানাই এবং এটা কোনভাবেই মেনে নেওয়া যাবে না, যদি বন্দরকে আমরা উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় দেখতে চাই।
বন্দর_উপজেলা_মোট_ভোটার_২৪৪৪৭৫_
মানুষের সময়ের সাথে সাথে উন্নয়নের দিকে এগিয়ে যায়।
২ লাখ ৪৪ হাজার ৪৭৫ জন লোক এখন কি দিনের পরপর তারা আরো নিচের দিকে নামতে থাকবে।
সোনারগাঁও এর এতো বড় একটা আসন থাকতে এতো দূরে আমাদের বন্দর বাসীর প্রানের অতি গুরুত্বপূর্ণ বন্দর উপজেলাটা তাদের ভাগে দেয়াটা কোন ভাবেই মেনে নেয়া উচিৎ হবেনা। তাই দলমত নির্বিশেষে সকলে মিলে এর তীব্র প্রতিবাদ করা উচিৎ। আর আগামী ১০ আগস্ট পর্যন্ত সময় আছে ডিলিমিটেশন আইন ২০২১ এর ৬ ধারার (৩,৪) উপ ধারায় এরিয়া সংযোজন– বিয়োজন, এরিয়া নির্ধারন, আপত্তি সংক্রান্ত বিষয়ে নির্বাচন কমিশনে আপিল দায়ের করতে পারেন।
তীব্র_প্রতিবাদ_জানাই!
নারায়ণগঞ্জের সবচেয়ে ঐতিহ্যবাহী ও গুরুত্বপূর্ণ আসন নারায়ণগঞ্জ–৫, যা সদর ও বন্দর নিয়ে গঠিত — সেটিকে ভাঙার পাঁয়তারা চলছে!
আমি, নারায়ণগঞ্জ–৫ আসনের একজন সচেতন ভোটার, এই অযৌক্তিক ও জনবিচ্ছিন্ন আসন পুনর্বিন্যাসকে ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করছি।
বন্দর উপজেলাকে নারায়ণগঞ্জ–৫ থেকে পৃথক করার চক্রান্ত নারায়ণগঞ্জের ঐতিহ্য, ভৌগোলিক বাস্তবতা ও জনগণের ইচ্ছার বিরুদ্ধে যায়।
এই আসন বিভাজন কোনোভাবেই জনস্বার্থে নয় — বরং এটি একপেশে সিদ্ধান্ত, যা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলেই মনে হচ্ছে।
নারায়ণগঞ্জের মানুষের সম্মিলিত কণ্ঠে বলি —
এই সিদ্ধান্ত মানি না, মানবো না!!
মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ তার নিজের আইডীতে তীব্র নিদ্রা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে।




