স্টাফ রিপোর্টার : বন্দরের মদনপুরের একটি হাসপাতালের পরিচালকের কাছ থেকে ২০লাখ টাকা চাঁদাদাবির ঘটনায় মামলা দায়েরের পর সংবাদ সম্মেলন করে পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন মামলার প্রধান আসামি এস.এম মোমেন। তিনি দাবি করেছেন পুলিশ তদন্ত ছাড়াই মামলা নিয়েছেন।
অন্যদিকে মামলার দায়েরের তিনদিন অতিবাহিত হলেও পুলিশ আসামিদের ধরছে না বলে অভিযোগ তুলেছেন মামলার বাদী মিতু আক্তার।
চাঁদাবাজি মামলার প্রধান আসামি এস.এম মোমেন ওরফে পাইছার পোলা মোমেন যিনি মহানগর তাঁতীদলের যুগ্ম আহ্বায়ক পদে রয়েছেন তিনি সোমবার ২৩ ফেব্রুয়ারি মদনপুরে একটি রেস্টুরেন্টে বসে গুটি কয়েক সাংবাদিকদের নিয়ে একটি সংবাদ সম্মেলন করেন। সেখানে তিনি তার দাবি করেন তার বিরুদ্ধে মিথ্যা চাঁদাবাজি মামলা দেওয়া হয়েছে। পুলিশ কোনো তদন্ত ছাড়াই মামলা নিয়েছেন।
এ ব্যাপারে বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গোলাম মোক্তার আশরাফ উদ্দিন আসামির আনা অভিযোগ সম্পর্কে বলেন, মামলা তো তদন্ত ছাড়াই হবে। মামলা নেওয়ার পর তদন্ত করা হবে। এটাই তো স্বাভাবিক।
এদিকে মামলার বাদী মিতু আক্তার সাংবাদিকদের জানান, মামলা দায়ের করা হয়েছে ৩ দিন হয়ে গেলো। মামলার প্রধান আসামি এলাকাতেই রয়েছে, প্রকাশ্যে সংবাদ সম্মেলন করছেন অথচ পুলিশ তাকে ধরছেন না। আর সংবাদ সম্মেলন করে মোমেন যে অভিযোগ করেছেন যে মামলার আগে একটি আমাদের কেয়ারটেকার বাদী হয়ে একটি অভিযোগ করেছে সেখানে কারো নাম ছিল না। এটি সম্পূর্ন মিথ্যা কথা। ওই অভিযোগেও মামলার আসামিদের মধ্যে প্রায় প্রত্যেকের নাম ছিল। পরবর্তীতে অভিযোগটি যখন মামলায় রূপান্তরিত হয় তখন আমি নিজেই মামলার বাদী হয়েছি। কারণ মোমেন এবং তার লোকজন কেয়ারটেকারকে প্রতিনিয়ত হুমকি দিচ্ছিলো অভিযোগ তুলে নিতে। সে এবং তার পরিবার ভয়ে আতঙ্কিত থাকায় আমি নিজেই মামলার বাদী হয়েছি। অভিযোগের সত্যতা না পেলে তো আর পুলিশ মামলা নেয়নি। আর অভিযোগে আমাদের কেয়ারটেকার ভয়ে এস.এম মোমেন এর নাম দেয়নি, কিন্তু পুলিশ মোমেন এর সম্পৃক্ততা পেয়েছে বলেই মোমেনকে প্রধান আসামি করেছে। কিন্তু পুলিশ কেন মোমেনকে গ্রেপ্তার করছে না সেটি আমার বোধগম্য নয়।
উল্লেখ্য, ২০ ফেব্রুয়ারি রাতে মদনপুর স্পেশালাইজড হাসপাতালের পরিচালক মিতু আক্তার বাদী হয়ে ৬জনের নাম উল্লেখ ও আরো ৫জনকে অজ্ঞাত আসামি করে মামলাটি দায়ের করেন।
মামলার আসামিরা হলেন, মদনপুর ফুলহর এলাকার শহিদুল্লাহ পাইসার ছেলে এসএম মোমেন, মৃত মহব্বত আলীর ছেলে মো. শফিউল্লাহ (৪০), হাবিব উল্লাহর ছেলে এসএম বিল্লাল ওরফে টোকাই বিল্লাল (২২), জাহেরুল্লাহর ছেলে দ্বিপ হোসেন (২৮), আলাল হোসেন এর ছেলে আরাফাত (১৮), রিয়াজ উদ্দিন এর ছেলে সুজন (১৯)।
এর মধ্যে এসএম মোমেন বর্তমানে মহানগর তাতীদলের যুগ্ম আহবায়ক পদে রয়েছেন।
মামলার এজাহারে বাদী মিতু আক্তার উল্লেখ করেন, বিবাদীগণ আওয়ামী লীগ এর দোসর ছিল ৫ আগস্টের পর তারা বিএনপি সেজে এলাকার নিরীহ মানুষদের ভয় দেখিয়ে তাদের কাছ থেকে জোর পূর্বক চাঁদা আদায় করে আসছে।
সেই ধারাবাহিকতায় তার কাছেও ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। অন্যথায় তাকে হাসপাতাল পরিচালনা করতে দেয়া হবে না বলে হুমকি প্রদান করেন।
গত ১৬ ফেব্রুয়ারি বিকেলে ৪টা আসামিরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মদনপুর স্পেশালাইজড হাসপাতালে প্রবেশ করে তার কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন, মিতু আক্তার বিবাদীদের দাবিকৃত চাঁদার টাকা দিতে অস্বীকার করলে বিবাদীগণ তার উপর ক্ষিপ্ত হয়ে অকথ্য ভাষায় গালাগাল শুরু করে, মারপিট কারার জন্য উদ্যত হয়।
পরবর্তীতে ১৮ ফেব্রুয়ারি বিকাল সাড়ে ৫টায় তারা পুনরায় হাসপাতালে এসে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। এ সময় তারা বিল্ডিংয়ের কেয়ারটেকার মো.সালাউদ্দিন (৩৬), কে মারধর করে রক্তাক্ত জখম করে, তার পকেটে থাকা বিল্ডিংয়ের ভাড়া বাবদ নগদ ১,৫০,০০০/- (এক লক্ষ পঞ্চাশ হাজার) টাকা নিয়ে যায়। বিল্ডিংয়ের কেয়ারটেকার সালাউদ্দিনের ডাকচিৎকারে আশপাশের লোকজন আগাইয়া আসিতে দেখিলে বিবাদীগণ তাদের প্রকাশ্যে খুন-জখমের হুমকি দিয়ে চলে যায়।
এর আগে ১৮ ফেব্রুয়ারি কেয়ারটেকার সালাউদ্দিন বাদী হয়ে উল্লেখিত আসামিদের বিরুদ্ধে বন্দর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছিলেন।




