ষ্টাফ রিপোর্টার:
নারায়ণগঞ্জ জেলার সদর থানাধীনের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকা হচ্ছে আলীরটেক ইউনিয়ন। যেই ইউনিয়নটি স্বৈরাচার সরকারের আমলে জেলার পাঁচ আসনের সীমানার মধ্যে নির্ধারণ ছিলো এবং বিগত সময়ের আসন বন্টনের মাধ্যমে বর্তমানে এটি এখন, অত্র জেলার চার আসনের আওতাধীনে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। অত্র ইউনিয়ন’টিতে প্রায় লক্ষ্যাধিক লোকের বসবাস। উক্ত এলাকার সর্বস্তরের জনসাধারণ তাদের সার্বিক প্রয়োজনে শহর প্রান্তে আসা যাওয়া করে থাকেন। আর তাদের এই যাতায়াতের প্রথম ও প্রধান গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ মাধ্যম হচ্ছে ডিক্রীরচর খেয়াঘাট। ঘাট পাড় হয়ে গাড়ী যোগে শহর মুখী হতে হয়।
আলীরটেক ইউপি থেকে শহর প্রান্তে অল্প সময়ে আসা যাওয়ার জন্য সরাসরি সড়ক পথের কোনো যোগাযোগ ব্যবস্থা নেই। যেহেতু উক্ত ইউপির অবস্থান জেলাশহর ও ধলেশ্বরী নদীর পশ্চিম প্রান্তে। তাই অত্র এলাকার সকল শ্রেণীর জনসাধারণ’কে শহরে প্রবেশ করতে হলে ডিক্রীরচর খেয়াঘাট’টি তাদের ব্যবহার করতে হয়।
সেই সুযোগটিকে কাজে লাগিয়ে খেয়াঘাট মালিক পক্ষ সাধারণ যাত্রীদের প্রতিনিয়ত হয়রানি করে যাচ্ছেন। ঘাট পাড়াপাড়ের সময় যাত্রীদের ব্যক্তি প্রয়োজনীয় ছোট ছোট কার্টুন বা ব্যাগ সাথে থাকিলে তার জন্য তারা অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করে আসতেছেন।
খেয়াঘাট ভাড়া নির্ধারণ নিয়ম অনুযায়ী সকাল ৬টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত যাত্রী প্রতি নৌকা ভাড়া ৫ টাকা ও রাত ১১টার পর থেকে ১০ টাকা, কিন্তু খেয়াঘাট মালিক কর্তৃপক্ষ রাত ১১টার পর থেকে যাত্রী প্রতি ২০ টাকা করে ভাড়া নিচ্ছেন। রাত একটু গভীর হলে সে ভাড়া হয়ে যাচ্ছে ৫০-১০০ টাকা পর্যন্ত। যেটা সম্পূর্ণ বেআইনি জুলুম ও অগ্রহণযোগ্য। কোনো যাত্রী তাদের এই অযোক্তিক মূলক ভাড়া আদায়ের বিষয়ে প্রতিবাদ করতে এগিয়ে আসলে, তাদের সাথে নৌকায় থাকা মাঝিগণ অসভ্য অভদ্র ভাষায় তর্ক ও উশৃঙ্খল আচরণ করছেন। কখনো আবার প্রতিবাদ করা যাত্রীদের শারীরিক ভাবেও হেনস্থা করছেন যা কোনো ভাবেই গ্রহনযোগ্য নয়। তাদের মধ্যে ঘাটে ভাড়া আদায়কারী ফাহিম (ঘাট মালিকের ভাতিজা) নৌকার মাঝি- জাকির, মুসলিম, হারুন ও হযরত আলী অন্যতম। আর তাদের সেল্টার দাতা হচ্ছে উক্ত ঘাট মালিক (ইজারাদার) মোঃ জামাল কসাই।
একাধিক যাত্রীর সাথে এ বিষয়ে আমরা কথা বললে তারা আমাদের জানান, তাদের একটাই দাবি বর্তমান খেয়াঘাট কর্তৃপক্ষের এই পেশী শক্তির অপব্যবহারের মাধ্যমে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের জুলুম নির্যাতন অত্যাচার থেকে আমরা যাত্রীসাধারণ মুক্তি চাই। অতি শীঘ্রই হয়তো ডিক্রীরচর খেয়াঘাট কর্তৃপক্ষ (ইজারাদার) জামাল কসাই তার নৌকার মাঝিদের ভদ্র ব্যবহার ও ন্যায্য ভাড়া আমাদের নিকট থেকে আদায় করতে বলবেন। এবং ছোট ছোট কার্টুন বা ব্যাগের জন্য অতিরিক্ত ভাড়া চাইতে পারবেন না, যেটা সম্পূর্ণ জুলুম ও অযোক্তিক মূলক একটি বিষয়। নয়তো আমরা সর্বস্তরের আলীরটেক ইউপি বাসী, ডিক্রীরচর খেয়াঘাট কর্তৃপক্ষের (জামাল কসাই) এর বিরুদ্ধে অতি দ্রুত প্রশাসনের দ্বারস্থ হতে বাধ্য হবো।




