ষ্টাফ রিপোর্টার:
নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি জাকির খানের দুইপাশে দেখা যাচ্ছে আলোচিত-সমালোচিত দুই যুবককে। একজন হচ্ছেন নগরীর মাসদাইর এলাকার আলোচিত মাদক সস্রাট মো.সেলিম ও অপর জন হচ্ছে ভাইজান খ্যাত আজমেরী ওসমানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশের হাতে মঙ্গলবার রাতে বিদেশী পিস্তল ও গুলিসহ গ্রেফতারকৃত আসামী মাইনুল ইসলাম পাভেল। যুবসমাজের আইকন হিসেবে পরিচিত জাকির খানের উভয় পাশে দুই রাজ্যের দুই অপরাধীকে দেখে হতবাক নারায়ণগঞ্জের সর্বস্তরের সাধারন মানুষ। তবে অনেকে দাবী করে বলেন,তাহলে কি সকল অপরাধের সাথে যুক্তরা কি আইকনের অতি কাছের নাকি আস্থাভাজন ?
মাসদাইর বাজার এলাকার সাধারন মানুষের মতে, মাদক সম্রাট সেলিম একটি আলোচিত নাম। তার পিতা নাসির ওরফে কসাই নাসির ওরফে সোর্স নাসির তার পরিবারের প্রতিটি সন্তানই মাদক বিক্রির সাথে জড়িত। কসাই নাসির পুলিশের সোর্স হওয়ার সুবাদে মাসদাইর ও আশপাশ এলাকার ছিচকে মাদক ব্যবসায়ীদেরকে থানা পুলিশের কাছে ধরিয়ে দিলেও নিজের ঘরে থাকা মাদক সম্রাট ছেলে-মেয়েদেরকে রাখছেন পুলিশের অন্তরালে। থানা পুলিশ একাধিকবার সেলিমের বাসায় অভিযান চালালেও গ্রেফতার হয়নি সেলিম কারন তার বাবা পুলিশের একজন বিশ্বস্ত সোর্স। মাসদাইরের অপর মাদক ব্যবসায়ীরা এলাকায় থাকতে না পারলেও সেলিম কিন্তু এখনও পরিবার-পরিজন নিয়ে দিব্ব্যি নিজ বাসাতেই অবস্থান করছেন।
অন্যদিকে ভোলাইল এলাকাতে বিগত সময়ে একটি আতংকের নাম ছিলো মাইনুল ইসলাম পাভেল। যিনি ভাইজানখ্যাত আজমেরী ওসমানের বলয়ে থেকেই যাবতীয় অপরাধ চালাতো। ৫ আগষ্টের পট পরিবর্তনের সাথে সাথে অস্ত্র চালাতে পটু পাভেল যোগ দেন জাকির খানের সাথে। ফলে আর পিছনে তাকাতে হয়নি পাভেলকে। ফলে এখনও দিব্ব্যি বিদেশী অস্ত্র নিয়ে প্রকাশ্যেই চলাচল করতো। কিন্তু মঙ্গলবার রাতে শাসনগাঁও এলাকায় পাভেলের নিজ বাড়িতে অভিযান চালানো হলে অস্ত্র ও গুলিসহ পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়।
তবে মাসদাইর বাসীর প্রশ্ন হচ্ছে,বিগত কয়েকমাস যাবত মাসদাইর ও আশপাশ এলাকায় জাহিদ ও দিপুর কাছে থাকা যে সকল অস্ত্রগুলো ব্যবহৃত হয়েছিলো তা বেশীরভাগই হচ্ছে কসাই নাসিরের ছেলে মাদক সম্রাট সেলিমের। আর মঙ্গলবার রাতে পাভেলকে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ যে অস্ত্রসহ গ্রেফতার করেছে সেটিও নাকি কসাই নাসির পুত্র সেলিমের। কারন প্রায় মাস দুয়েক আগে মাসদাইর রোকেয়া স্কুলের সামনে যে অস্ত্রটি উচিয়ে কৃষকদল নেতার উপর জাহিদ গুলি ছুড়েছিলো এটিই সেই অস্ত্র যার মুল মালিক হলেন সেলিম। পাভেলকে রিমান্ডে এনে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে বিস্তারিত আরও অনেক তথ্যাদি পাওয়া যাবে বলে দাবী মাসদাইর এলাকাবাসীর।
এদিকে আলোচিত-সমালোচিত দুই জগতের দুই নায়কের সাথে জাকির খানের ছবিটিও অনেক প্রশ্ন তুলেছে সাধারন মানুষের মাঝে। কারন জাকির খান একজন বিচক্ষন নেতা বটে। কোন পাড়া-মহল্লায় কে ভালো আর কে মন্দ তা সবই তার আমলে রয়েছে কারন প্রতিটি পাড়া-মহল্লাতেই তার কর্মী সমর্থক রয়েছে। সবকিছু জেনেশুনে কিভাবে একজন চিহিৃত মাদক ব্যবসায়ী ও অস্তবাজের সাথে ছবি তুলে তা সাধারন মানুষের বোধগম্য হচ্ছেনা। কারন তারমত একজন নন্দিত নেতার সাথে সেলিম-পাভেলের মত শীর্ষ অপরাধীরা ছবি তুলে তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছেড়ে দিয়ে নিজেকে জাকির খানের আস্থাভাজনের তকমা নিয়ে মাদক বিক্রি ও অস্ত্রবাজি করে বেড়াচ্ছেন যা জাকির খানের মত একজন নন্দিত নেতাকে বিতর্কিত করে তোলার অপচেষ্টার সামিল।
আদৌ কি মাদক ব্যবসায়ী সেলিম ও অস্ত্রসহ পুলিশের হাতে আটক পাভেল জাকির খানের বলয় কিনা নাকি তাকে বিতর্কিত করার অপচেষ্টা বিষয়টি তদারকি করতে জাকির খানের কাছে জানতে চায় সাধারন মানুষ।




