ভারতীয় সংসদ গত বুধবার ২ এপ্রিল দেশের বিদ্যমান ওয়াকফ আইন সংস্কার নিয়ে আলোচনা শুরু করে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর হিন্দুত্ববাদী ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) কর্তৃক প্রস্তাবিত এই বিলটি সরকারকে ওয়াকফ সম্পত্তির উপর অবাধ নিয়ন্ত্রণ প্রদান করবে। সরকার এবং বিরোধী দলের মধ্যে কয়েক ঘন্টা ধরে উত্তপ্ত বিতর্কের পর, বুধবার গভীর রাতে লোকসভায় ওয়াকফ সংশোধনী বিলটি পাস হয়।এ আইনমুসলমানদের উপর জুলুমের দ্বার উন্মোচনের নামান্তর। মোদী সরকার একের পর এক মুসলমানদের উপর জুলুম নির্যাতন চালিয়েই যাচ্ছে। অবৈধভাবে ঠুনকো অজুহাতে অসংখ্য মসজিদ গুড়িয়ে দিচ্ছে। তা মেনে নেয়ার মত নয়। মোদী মসজিদ ভাঙ্গছে না যেন প্রতিটি মুসলমানের হৃদয়কে চূর্ণ বিচুর্ণ করছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।
আজ বিকেল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ নারায়ণগঞ্জ মহানগর সভাপতি মুফতি মাসুম বিল্লাহ ও সেক্রেটারি সুলতান মাহমুদ এক যুক্ত বিবৃতিতে এসব কথা বলেন।
ভারতে প্রায় ২০ কোটি মুসলমানের আবাসস্থল। এই বিশাল মুসলিম জনগোষ্ঠী ৮৭২,০০০ এরও বেশি ওয়াকফ সম্পত্তি দান করেছে, যার মধ্যে ৪০৫,০০০ হেক্টর বা ১০ লাখ একর জমি রয়েছে, যা বিশ্বের বৃহত্তম। প্রতিটি রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ওয়াকফ বোর্ড দ্বারা এই সম্পত্তিগুলি পরিচালিত হয়। এই ওয়াকফ বোর্ডগুলি সম্মিলিতভাবে ভারতের নগর জমির বৃহত্তম অংশের মালিক। দেশজুড়ে জমির মালিকানার ক্ষেত্রে ভারতীয় সেনাবাহিনী এবং ভারতীয় রেলওয়ের পরেই তারা দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে।
আমাদের প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনুস সাহেবের প্রতি আহবান থাকবে, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে মোদী সরকারকে মুসলমানদের উপর অন্যায়ভাবে নির্যাতন বন্ধ ও তাদের সম্পত্তি অবৈধ দখল থেকে বিরত থাকতে।