নারায়ণগঞ্জ সদর-বন্দর আসন
খোঁজখবর নিয়েছেন দলের কেন্দ্রীয় নেতারা
নারায়ণগঞ্জে বিএনপির প্রার্থী মাসুদুজ্জামান মাসুদের নির্বাচন থেকে সরে যাওয়া নিয়ে চলছে জল্পনা-কল্পনা। সমর্থকরা এ জন্য দলের ষড়যন্ত্রকারীদের দোষ দিচ্ছেন। তারা মনে করছেন, দলীয় অভ্যন্তরীণ ষড়যন্ত্রের কারণে মাসুদুজ্জামান এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তথ্যসুত্র: সমকাল অনলা্ইন
একাধিক সমর্থক বলেন, আড়াইহাজারের এক নেতার নেতৃত্বে মাসুদুজ্জামানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের ষড়যন্ত্র হচ্ছে। একদিকে তিনি কেন্দ্র থেকে তাঁর মনোনয়ন বাতিলের চেষ্টা করছেন, অন্যদিকে নারায়ণগঞ্জ শহরে এই নেতার ক্যাডার বাহিনী থাকায় মাসুদুজ্জামানের সঙ্গে সংঘাত তৈরির আশঙ্কা রয়েছে। এসব দিক বিবেচনা করে তিনি নির্বাচন থেকে সরে গেছেন। তবে মাসুদুজ্জামানের খেলাপি ঋণের বিষয়ও আলোচনায় আনছে প্রতিপক্ষ।
এদিকে দলের কেন্দ্রীয় নেতারা স্থানীয় নেতাদের কাছ থেকে এ বিষয়ে খোঁজখবর নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন। নির্বাচন থেকে সরে যাওয়ার পরিকল্পনা বাতিলের দাবিতে আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে মাসুদুজ্জামানের সমর্থকরা সভা ডেকেছেন।
গত মঙ্গলবার জরুরি সংবাদ সম্মেলনে নারায়ণগঞ্জ-৫ (সদর-বন্দর) আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মাসুদুজ্জামান নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন। এর কারণ হিসেবে তিনি নিরাপত্তা ও পরিবারের আপত্তির কথা জানান।
এ বিষয়ে মাসুদুজ্জামানের সঙ্গে কথা বলতে গতকাল বুধবার দুপুরে নগরীর পশ্চিম তল্লা এলাকায় অবস্থিত তাঁর মডেল ডি ক্যাপিটাল গার্মেন্টসে গেলে দেখা যায় গেটের বাইরে বিএনপি নেতাকর্মীর জটলা। এর কিছুক্ষণ পর সেখানে আসেন মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপু। তিনি কয়েকজন নেতাকর্মী নিয়ে মাসুদুজ্জামানের সঙ্গে দেখা করতে যান। তিনি বের হওয়ার পর দেখা করতে যায় স্বেচ্ছাসেবক দলের একটি গ্রুপ। এর পর মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এ টি এম কামাল, সাবেক কাউন্সিলর শওকত হাশেম শকু, মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আনোয়ার হোসেন আনুসহ আরও কয়েকজনের নেতৃত্বে বিএনপি নেতাকর্মীদের যেতে দেখা যায়।
পরে এ প্রসঙ্গে এ টি এম কামাল বলেন, আমরা তাঁকে নির্বাচন থেকে সরে আসার সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করতে অনুরোধ করছি। কিন্তু তিনি সিদ্ধান্তে অনড়। তবে তিনি দলের সব কর্মকাণ্ডে থাকবেন বলে জানিয়েছেন। বিএনপির এ নেতা বলেন, মনোনয়নপ্রত্যাশী অন্যরা তাঁর বিরুদ্ধে নানা কথা বলে একটা নেতিবাচক পরিবেশ তৈরি করেছে। আমরা প্রত্যাশা করি, মাসুদুজ্জামান নির্বাচনে অংশ নেবেন। কেন্দ্রীয় নেতারা এ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করবেন।
জানা গেছে, মাসুদুজ্জামানের নির্বাচন পরিত্যাগের বিষয়ে মঙ্গলবার রাতে জেলা বিএনপির চার শীর্ষ নেতার সঙ্গে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন আহমেদ ও সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী কথা বলেন। এ বৈঠকে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ, যুগ্ম আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দীপু, মহানগর আহ্বায়ক শাখাওয়াৎ হোসেন খান ও সদস্য সচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপু উপস্থিত ছিলেন। এ বৈঠকে তাদের কাছ থেকে মাসুদুজ্জামানের পদত্যাগের কারণ জানতে চাওয়া হয়। মনোনয়ন দেওয়ার পরও মহানগর বিএনপির আহ্বায়কসহ বিভিন্ন নেতারা কেন তাঁর মনোনয়নের বিরোধিতা করছেন সে বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়।
এ প্রসঙ্গে শাখাওয়াৎ হোসেন খান বলেন, সে বৈঠকটি ছিল আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দেশে আসাকে কেন্দ্র করে। সেখানে মাসুদুজ্জামানের পদত্যাগের বিষয়টি উঠলেও তেমন আলোচনা হয়নি।
নির্বাচন থেকে সরে যাওয়ার কারণ হিসেবে মাসুদুজ্জামান নিরাপত্তা ও পরিবারের আপত্তির কথা বলেছেন সংবাদ সম্মেলনে। নির্বাচন থেকে সরে যাওয়ার বিষয়ে গতকাল কথা বলতে তাঁর অফিসে গেলে তিনি কোনো কথা বলতে রাজি হননি।
এদিকে গতকাল নারায়ণগঞ্জে গিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, নারায়ণগঞ্জে যিনি নির্বাচন করবেন না, সেটা তাঁর ব্যক্তিগত ইচ্ছা। কে নির্বাচন করবেন, কে নির্বাচন করবেন না, এটা যার যার ব্যক্তিগত ব্যাপার। এটাতে আমাদের বলার মতো কিছু নেই।
জাকির খানের নিরাপত্তা চেয়ে জিডি
নারায়ণগঞ্জের আলোচিত বিএনপি নেতা জাকির খানের জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে জিডি করা হয়েছে। মঙ্গলবার গভীর রাতে সদর থানার ওসি আব্দুল হালিম বলেন, গত ৭ ডিসেম্বর এই জিডি করা হয়। তবে সেটি জনসমক্ষে আসেনি। বিএনপি নেতা জাকির খানের মা আছিয়া বেগম বাদী হয়ে এই জিডি করেন। জিডিতে তিনি বলেন, তাঁর ছেলে সব মামলায় জামিনে রয়েছে। তবে তাঁর প্রতিপক্ষ জানমালের ক্ষতি করতে পারে বলে আশঙ্কায়তিনি ছেলের নিরাপত্তা দেওয়ার অনুরোধ করেন।




