ষ্টাফ রিপোর্টার:
নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের মৌচাক এলাকায় কোরেশ বাংলাদেশ নামে একটি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা বকেয়া বেতনের দাবিতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করেছেন।
বৃহস্পতিবার দুপুর পৌনে ১টার দিকে কোরেশ বাংলাদেশ লিমিটেড কারখানার শ্রমিকরা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মৌচাক এলাকায় আগুন দিয়ে মহাসড়ক অবরোধ করে। এতে প্রায় ১ ঘণ্টা মহাসড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকে। খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হস্তক্ষেপে শ্রমিকরা অবরোধ তুলে মহাসড়কের পাশে গার্মেন্টসের সামনে অবস্থান করে। অবরোধ করার কারণে মহাসড়কের সিদ্ধিরগঞ্জের মৌচাক থেকে উভয় দিকে ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়। দুপুর ২টার পর যানবাহন ধীরগতিতে চলাচল শুরু হয়।
জানা যায়, কোরেশ বাংলাদেশ লিমিটেডে মোট ৩০০ শ্রমিক-কর্মচারী কর্মরত। এর মধ্যে ১২৬ জন পুরুষ শ্রমিক, ১২৪ জন নারী শ্রমিক এবং ৬৮ জন স্টাফ রয়েছেন। প্রতিষ্ঠানটি সোয়েটার উৎপাদন করে।
শ্রমিকদের অভিযোগ, চলতি বছরের নভেম্বর মাসের বেতন এখনও পরিশোধ করা হয়নি। বেতন পরিশোধের নির্দিষ্ট সময় পেরিয়ে গেলেও কর্তৃপক্ষ কোনো সুনির্দিষ্ট আশ্বাস না দেওয়ায় তারা ক্ষুব্ধ হয়ে কাজ বন্ধ করে দেন। একপর্যায়ে ্রমিকরা কারখানার সামনে অবস্থান নিয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করেন। এতে মহাসড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়।
খবর পেয়ে ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশ এবং হাইওয়ে পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে সড়ক অবরোধ প্রত্যাহারের আহ্বান জানান। তারা গার্মেন্টস মালিক পক্ষের সঙ্গে আলাপ করে বিষয়টির সুরাহা করার আশ্বাস দিলে শ্রমিকরা অবরোধ প্রত্যাহার করে বলে জানান সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি আব্দুল বারিক।
কোরেশ গার্মেন্টসের ডিরেক্টর মেজর মশিউর রহমান বলেন, পেছন থেকে কিছু লোক শ্রমিকদের ইন্ধন দিয়ে এমন কাজ করাচ্ছে। শ্রমিকরা ভাবছে ফ্যাক্টরি বন্ধ হয়ে যাবে। বিষয়টা আসলে এমন নয়। আমাদের এ মাসে কাজ কম। এজন্য গত নভেম্বর মাসের বেতন বকেয়া আছে। আমি ফ্যাক্টরিতে যাচ্ছি। শ্রমিকদের সঙ্গে বিষয়টা নিয়ে বসে সমাধান করব।
ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ-৪ এর নারায়ণগঞ্জ জোনের পরিদর্শক (ইন্টেলিজেন্স) সেলিম বাদশা বলেন, ১ মাসের বকেয়া বেতনের দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ করেন শ্রমিকরা। পরে তাদের বুঝিয়ে মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। বিষয়টি সমাধানের জন্য শ্রমিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে মালিকপক্ষের বৈঠক চলছে।




