সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধি:
নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ সানারপাড় শেখ মোরতোজা আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের ৪ শিক্ষকের অনিয়ম স্বেচ্ছাচারিতা ও শিক্ষানীতি অমান্য করার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে অভিভাবক ও শিক্ষর্থীরা। নীতিহীন শিক্ষক অপসারণ,শিক্ষার মানবৃদ্ধি ও রাজনীতিমুক্ত শিক্ষাঙ্গনের দাবিতে সোমবার (১৪ জুলাই) দুপুর ১২ টায় স্কুলের প্রধান গেইটের সামনে তারা এ কর্মসূচি পালন করেন।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বিদ্যালয়ের শরীরচর্চা শিক্ষক শফিকুল ইসলাম, বিজ্ঞানের শিক্ষক আলী আজগর ও কৃষি শিক্ষার শিক্ষক একেএম আসাদুজ্জামান এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক হয়েও নিউ মডেল পাবলিক স্কুল নামে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন। মিজানুর রহমান নামে একজন নিউ মডেল পাবলিক স্কুলের প্রধান শিক্ষক হিসেবে থাকলেও প্রকৃতপক্ষে শফিকুল ইসলামই প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি ওই স্কুল থেকে মাসে মাসে ১০ হাজার টাকা বেতন পাচ্ছেন, যা সরকারি আধা সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য অবৈধ বলে বিবেচিত হয়। আওয়ামী লীগ সরকার আমলে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে শিক্ষক আলী আজগর সানারপাড় উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক হয়েও সানারপাড় সরকারি প্রথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি নিযুক্ত হয়েছিলেন। এমপিও ভুক্ত প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক আরেকটি সরকারি স্কুলের সভাপতি ও নিজের প্রতিষ্ঠিত নিউ মডেল পাবলিক স্কুলের পরিচালনা পর্ষদে থাকা ২০২১ মাধ্যমিক শিক্ষানীতি আইনে সাংঘর্ষিক। বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হেমায়েত উদ্দিন স্কুলের পাশেই আইটেক মাল্টিমিডিয়া নামে কম্পিউটার দোকান দিয়ে স্কুলের পাসওয়াার্ড ব্যবহার করে অনলাইন, প্রশ্ন তৈরিসহ স্কুলের সকল কাজ করছে,যা একজন চাকরিজীবী শিক্ষক হিসেবে কাম্য নয়। তাছাড়া এসব শিক্ষকরা পাঠদানে শ্রেণিকক্ষে সময় দেন না। তারা রাজনৈতিক কাজ ও নিজেদের স্কুল নিয়ে নিয়ে ব্যস্ত থাকেন। এতে শিক্ষার্থীরা বঞ্চিত হচ্ছে। স্কুলে মানসম্মত শিক্ষার অভাব দেখা দিয়েছে। তাই আমরা এধরণের নীতিহীন শিক্ষকদের সানারপাড় শেখ মোরতোজা আলী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে অপসারণ চাই।
অভিভাবক ইসমাইল হোসেন বলেন, সানারপাড় শেখ মোরতোজা আলী উচ্চ বিদ্যালয়টি এলাকার ঐতিহ্যবাহী ও গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রতিষ্ঠান। দুঃখজনকভাবে বলতে হয়, কয়েকজন শিক্ষকের কারণে বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার মান ক্রমশ নিন্মমুখী হচ্ছে। নীতিহীন শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের শিক্ষাদানের দায়িত্ব থেকে সরে গিয়ে অন্য দিকে মনোযোগী হয়ে পড়েছেন। এতে অভিভাবক হিসেবে আমরা হতাশ ও উদ্বিগ্ন। আমাদের সন্তানরা সুশিক্ষা পাবেনা তা আমরা চাইনা।
অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. বশির উদ্দিন বলেন, যে কয়জন শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ উত্থাপন হয়েছে তারা আমার কোন নির্দেশনা মানে না। তারা যা করছে তা শিক্ষানীতি বহির্ভূত।




