ষ্টাফ রিপোর্টার:
নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে শীতলক্ষ্যা নদী দখল করে অবৈধভাবে বালু ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে বালু সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) অনুমোদন না নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নদী দখল করে বালুর ব্যবসা করে আসছেন তারা।
এতে সেতুর নিচের পিলারের মাটি সরে গিয়ে সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরদারী ও জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।
রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) সরেজমিনে দেখা যায়, সিদ্ধিরগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদীর পশ্চিম পাড় থেকে শুরু করে নদীর মধ্য অংশ পর্যন্ত ড্রেজারের ভাসমান ঘাট বসিয়ে ট্রলার দিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। ড্রেজারের কারণে নদী সংকুচিত হয়ে গেছে।
এর ফলে নদীতে ড্রেজার বসানো ওই অংশ দিয়ে নৌযান চলাচল করতে পারছে না। এছাড়া সেতুর নিচে ড্রেজার বসিয়ে বালু ব্যবসা করায় সেতুর পিলারে মাটি ধীরে ধীরে সরে যাচ্ছে। ফলে সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০০৯ সালের জুন মাসে শীতলক্ষ্যা নদীসহ আশপাশের নদীর দূষণ ও অবৈধ দখলদার মুক্ত করতে জেলা প্রশাসনকে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট।
এর ধারাবাহিকতায় শীতলক্ষ্যার তীর দখলমুক্ত করতে অভিযান পরিচালনা করে বিআইডব্লিউটিএর অধীনস্থ নারায়ণগঞ্জ নদী বন্দর কর্তৃপক্ষ ও জেলা প্রশাসন।
নদীর পাড় থেকে অবৈধ দখলদার মুক্ত হওয়ার পর একাধিকবার শীতলক্ষ্যার পাড় পরিদর্শন করেছেন বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যান। এ সময় নারায়ণগঞ্জ নদী বন্দরের অধীন ৫৫ কিলোমিটার নদীর পাড়ে ওয়াক-ওয়ে ও ইকোপার্ক নির্মাণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। এ কর্মসূচির আওতায় শীতলক্ষ্যা নদীর সিদ্ধিরগঞ্জ অংশে ৪৪ কোটি টাকা ব্যয়ে ওয়াক-ওয়ে ও বনায়ন করা হয়। বর্তমানে বিআইডব্লিউটিএর নির্মিত ওয়াক-ওয়ের কিছু অংশ জুড়েও অবৈধভাবে চলছে বালু ও পাথরের ব্যবসা।
এজন্য কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ওয়াক-ওয়ে ও বনায়ন এখন নষ্ট হওয়ার পথে।
জানা গেছে, কাঁচপুর সেতুর পশ্চিম পার্শ্বে মাহবুব মিয়া, হারুন মিয়া, কবির হোসেন, সাজ্জাদ মিয়া, মোহাম্মাদআলী, সেলিম মিয়া, হিরা মিয়া, ও আফজাল মিয়াসহ একটি সিন্ডিকেট এ সব অবৈর্ধ ভাবে বালু ব্যবসা পরিচালনা করলেও তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থাই গ্রহণ করছে না কর্তৃপক্ষ। এতে তারা দিন দিন আরো বেপরোয়া হয়ে পরছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ড্রেজারে কর্মরত এক শ্রমিক জানান, বিআইডব্লিউটিএর লোকজনকে ম্যানেজ করেই তারা এ ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন। পরে সেই বালু ট্রাক দিয়ে আশপাশের এলাকায় বিক্রি করা হয়।
ত্ববারক ইসলাম নামের এক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, শীতলক্ষ্যা নদীতে ড্রেজার বসিয়ে বালুর ব্যবসা পরিচালনা করায় সেতুটি মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছে। অবৈধ ড্রেজারসহ নদীর তীরে গড়ে ওঠা এসব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হলে কিছুদিনের মধ্যেই তা আগের রূপ ফিরে আসে।
সেনপাড়া গ্রামের শহিদুল ইসলাম এর আগে কাঁচপুর সেতুর নিচে নদী দখল করে বালুর ব্যবসা করতেন। প্রশাসন তা বন্ধ করে দেওয়ার পর জাকির তার সহযোগীদের নিয়ে রায়েরটেক গ্রামের পাশে নদী দখল করে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রশাসন নিষেধাজ্ঞা দিলেও প্রভাবশালী হওয়ায় তিনি কারো কথা শুনছেন না। নদীর জায়গায় বালুর বস্তা ফেলে তা দখল করে বিভিন্ন স্থান থেকে জাহাজে করে বালু এনে শ্রমিকেরা নদীর তীরে জমা করে রাখছেন। সেখান থেকে ট্রাকে করে এসব বালু অন্য জায়গায় নিয়ে বিক্রি করা হচ্ছে।
নদী দখল করে ব্যবসা করার অভিযোগ এনে স্থানীয় পরিবেশবাদী সংগঠন ও এলাকাবাসী গত সপ্তাহে জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগ পেয়ে ইউএনওর নির্দেশে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দখল করা স্থান থেকে বালু সরানোর নির্দেশ দেয়। এ ছাড়া স্থানীয় ভূমি অফিসও জাকির হোসেনকে বালুর ব্যবসা বন্ধ রাখার জন্য নোটিশ দেয়।
জাকির হোসেন বলেন, ‘আমি ব্যক্তি মালিকানার জমিতে বালুর ব্যবসা করছি। এখানে ব্যবসা করতে গিয়ে নদীর সামান্য জায়গা ভরাট করা হয়েছে। তবে দখল করা হয়নি।’
এদিকে, কবির হোসেন, সাজ্জাদ মিয়া, হারুন মিয়া জানান, যে সরকার ক্ষমতায় থাকে সেই সরকারের লোকজনই নদীর তীরে বালু ব্যবসা পরিচালনা করে থাকে। আমরাও দলের জন্য জেল জুলুম খেটেছি। নেতা-কর্মীদের খরচ পরিচালনা করার জন্য বালু ব্যবসা করছি।
নারায়ণগঞ্জ বিআইডব্লিউ টিআইএর যুগ্ম পরিচালক মিজানুর রহমান বলেন, ‘যেসব অবৈধ দখলদারেরা বালু ব্যবসা পরিচালনা করছে। খুব শিগগিরই তাদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হবে।’
সুত্র: কালেরকন্ঠ




