স্টাফ রিপোর্টার:
সোনারগাঁ উপজেলার মেঘনা শিল্পনগরীর ইসলামপুর এলাকায় আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে আনন্দ শিপইয়ার্ড অ্যান্ড শ্লিপওয়েজ নামের একটি কোম্পানির বিরুদ্ধে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গত কয়েকদিন ধরে কোম্পানিটির ভাড়াটিয়া লোকজন হেরিটেজ পলিমার অ্যান্ড লেমি টিউবস লিমিটেড নামের অপর একটি কোম্পানির জমি দখল করে সেখানে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করছে।
এ ঘটনায় হেরিটেজ পলিমার অ্যান্ড লেমি টিউবস লিমিটেডের সিকিউরিটি হেড ইনচার্জ মো. নূর হোসেন বাদী হয়ে আনন্দ শিপইয়ার্ডের চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহহেল বারীকে আসামি করে সোনারগাঁ থানায় একটি অভিযোগ করেছেন। এর আগে একই জমির কাগজপত্র জাল-জালিয়াতির অভিযোগে আব্দুল্লাহহেল বারীর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছিল আদালত।
জানা যায়, উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নের হোসেনপুর ইউনিয়ন ভূমি কার্যালয়ের আওতায় ইসলামপুর এলাকায় হেরিটেজ পলিমার অ্যান্ড লেমি টিউবস লিমিটেডের জমি জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে আনন্দ শিপইয়ার্ডের চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহহেল বারী ১৫৭ শতাংশ সম্পত্তি রেকর্ড করে নেয়। এ ঘটনায় হেরিটেজ পলিমার অ্যান্ড লেমি টিউবস লিমিটেডের পক্ষে লিগ্যাল অফিসার মিলন হোসাইন নারায়ণগঞ্জ আদালতে পিটিশন মামলা করেন। ওই মামলা তদন্তের জন্য আদালত নারায়ণগঞ্জ সিআইডি পুলিশকে নির্দেশ দেয়।
আদালতের নির্দেশনায় নারায়ণগঞ্জ সিআইডি পুলিশের এসআই মো. মিজানুর রহমান তদন্ত শেষে আনন্দ শিপইয়ার্ডের জালিয়াতির মাধ্যমে জমি দখলের সত্যতা পেয়ে গত ১৭ মার্চ আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন। তদন্ত কর্মকর্তার প্রতিবেদন দাখিলের পর ওই জমিতে আদালত নিষেধাজ্ঞা জারি করে। পাশাপাশি নারায়ণগঞ্জ আমলী আদালত ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ আইনে আনন্দ শিপইয়ার্ড্রে চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহহেল বারীর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোনায়া জারি করে।
সম্প্রতি ঈদুল আজহার ছুটিতে হেরিটেজ পলিমার অ্যান্ড লেমি টিউবস লিমিটেডের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা ছুটিতে থাকার সুযোগে পুনরায় ওই জমি দখল নিতে রাতের আধারে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ কাজ শুরু করে। এছাড়াও দখলে নেওয়া জমিতে একটি শেড গোডাউন হিসেবে একজন ব্যবসায়ীর কাছে ভাড়া দেন। বর্তমানে সেই শেডটি ওই ব্যবসায়ী ভাড়া নিয়ে ব্যবহার করছেন।
এ বিষয়ে জানতে আব্দুল্লাহহেল বারীর ব্যবহৃত নাম্বারে একাধিকবার ফোন দেওয়া হলেও তিনি তা রিসিভ করেননি। মেসেজ পাঠিয়েও তার কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
আনন্দ শিপইয়ার্ড অ্যান্ড শ্লিপওয়েজ লিমিটেডের এজিএম তাজুল ইসলাম বলেন, ‘এ জমিতে আদালতের এখন আর কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। তবে, স্থিতিবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ রয়েছে। নিষেধাজ্ঞা ছিল, সেটা উঠে গেছে। পুরো বিষয়টি আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা হবে।’
সোনারগাঁ থানার এসআই রতন বৈরাগী বলেন, ‘অভিযোগের পর ঘটনাস্থলে গিয়ে আনন্দ শিপইয়ার্ড কর্তৃপক্ষকে বিরোধকৃত জমিতে কাজ না করতে বলা হয়েছে। আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কাজ করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’




