ষ্টাফ রিপোর্টার:
নারায়নগঞ্জ জেলার সোনারগাঁও উপজেলার মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে বিগত ১৭ বছরে প্রায় ১০ বারের অধিক মন্ত্রনালয়ে অভিযোগ দিয়েছেন ৩ জন ভূয়া মুক্তিযোদ্ধাদের সমন্বয়ে গঠিত একটি সিন্ডিকেট। আর এই অভিযোগ বানিজ্য করেই তারা তিনজন হাতিয়ে নিয়েছেন কোটি কোটি টাকা। এই তিন তথাকথিত মুক্তিযোদ্ধার চাহিদামত টাকা না দিলেই মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রনালয় ও জামুকায় অভিযোগ দেন তারা।
সবচেয়ে আশ্চর্যজনক বিষয় হলো, এই তিন কথিত মুক্তিযোদ্ধা এককভাবে পুরো সোনারগাঁও উপজেলার সকল মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দেন এবং তাদের অভিযোগে অদ্যবধি পর্যন্ত একজনও ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা চিহ্নিত হয়নি। এছাড়াও, তারা বিগত প্রায় ১০ বার মন্ত্রনালয়ে যে অভিযোগ জমা দিয়েছে, তাতে সোনারগাঁওয়ের প্রায় ৯৫% মুক্তিযোদ্ধাই অভিযুক্ত হয়েছে।
বিগত গত ৫ আগস্ট ২০২৪ এর বিপ্লবের পর এই চক্রটি মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে মোটা অংকের টাকা দাবি করেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক মুক্তিযোদ্ধা পরিবার জানায়, নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁও উপজেলার ভবনাথপুর গ্রামের মৃত ছালাম এর ছেলে আলতাফ হোসেন মেম্বার ও তার দুই সহযোগী দামোদরদী গ্রামের মৃত এম. এ জাহের সরকারের ছেলে মো.আইয়ুব হোসেন সরকার এবং কান্দারগাঁও গ্রামের মৃত আককাছ আলীর ছেলে মোঃ মুজাফ্ফর আলী তিন জনই ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা।
এই তিনজন ভূয়া মুক্তিযুদ্ধা বিগত ২০১৭ সালে নামে বেনামে সোনারগাঁয়ের ১৬৩ জন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাকে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে আখ্যা দিয়ে লিখিত অভিযোগ দিয়েছিলো। তৎকালিন মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য কমিটি গঠন করা হয়। তৎকালীন পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজীকে (বীরপ্রতীক) সভাপতি ও সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) সদস্য সচিব করে সাত সদস্যের যাচাই-বাছাই কমিটি গঠন করা হয়। সাক্ষাৎকার গ্রহণ ও সব কাগজপত্র পরীক্ষা এবং শুনানি শেষে তিনজনের অভিযোগ মিথ্যা ও বানোয়াট প্রমানিত হওয়ায় একটি প্রতিবেদন তৈরি করে মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে পাঠায়।
সম্প্রতি মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা চিহ্নিত করার উদ্যোগ নিলে তারা পুনরায় ব্যাপক চাঁদাবাজি শুরু করেন এবং পুনরায় আবারোও নতুন করে ১৬২ জনের বিরুদ্ধে জামুকায় অভিযোগ দিয়েছে বলে জানা গেছে।
সোনারগাঁও উপজেলার দশটি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার একাধিক মুক্তিযোদ্ধার সাথে আলাপকালে জানা যায়, একজন লোক পুরো সোনারগাঁও উপজেলার সকল মুক্তিযোদ্ধাদের জানা ও চিনা অসম্ভব। কারন মুক্তিযুদ্ধের সময় একেকজন একেক ভাগে ভাগ হয়ে যুদ্ধ করেছে।
এসময় মুক্তিযোদ্ধারা আরো জানায়, আলতাফ হোসেন মেম্বার, আইয়ুব আলী ও মোজাফফর হোসেন সোনারগাঁয়ের শান্তি কমিটির সভাপতি ও ১৯৭১ সালের পাকিস্তান মন্ত্রীসভার সদস্য এ এস এম সোলায়মান, ভবনাথপুর গ্রামের জমির আলী কেরানি ও কাচঁপুরের হোসেন খাঁ এর সহযোগী ছিলেন। তাদের বিরুদ্ধে যাতে কেউ অভিযোগ না দিতে পারে তাই এই তিনজন বার বার পুরো উপজেলার সকল মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে উল্টো অভিযোগ দিয়ে রাখে। কোন মুক্তিযোদ্ধা যদি এই তিন শান্তিবাহিনীর সহযোগীর বিরুদ্ধে অভিযোগ দেয়, তাহলে তারা বলবে, মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দেওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। তথাকথিত মুক্তিযোদ্ধা আলতাফ হোসেন মেম্বার, মোঃ আউয়ুব হোসেন সরকার এবং মোঃ মুজাফ্ফর আলী ১৯৭১ সালে মহান স্বাধীনতার পর কৌশলে যুক্তিযোদ্ধা হয়ে যায়। উল্লেখ্য, কথিত মুক্তিযোদ্ধা আলতাফ হোসেন মেম্বার প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের অভিযোগ পত্রের তার নাম ভারতীয় তালিকার মধ্যে রয়েছে বলে দাবী করেন। কিন্তু যাচাই-বাছাই করে দেখা যায়, কথিত মুক্তিযোদ্ধা আলতাফ হোসেন মেম্বার এর নাম ভারতীয় তালিকায় নাই।
এসময় মুক্তিযোদ্ধারা আরো অভিযোগ করেন, এই বয়সে এমন টানাহেঁচড়া সত্যিই বিব্রতকর। অভিযোগ আমলে নেয়া ভালো। কিন্তু অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হলে অভিযোগকারীর বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা রাখা জরুরি। না হলে হয়রানি থামবে না।
এ বিষয়ে থানা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মোহাম্মদ আলী বলেন, কারা কি করে এগুলো নিয়ে চিন্তা করিনা।
এ বিষয়ে মুঠোফোনে অভিযুক্ত আলতাফ হোসেন মেম্বার বলেন,এ বিষয়ে কিছু জানেন না।




