নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি: মুঘল আমলের ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে তার আদলেই নতুন রূপে সাজানো হচ্ছে নারায়ণগঞ্জের কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠ। পরিদর্শনে এসে এ কথা জানান নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।
১৮ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় ঈদগাহের মাঠের সংস্কার কাজ পরিদর্শন করেন তিনি।
সকালে নারায়ণগঞ্জের মাসদাইরে অবস্থিত জেলার কেন্দ্রীয় ঈদগাহ পরিদর্শন করতে এসে ডিসি জাহিদুল ইসলাম জানান নারায়ণগঞ্জের মুঘল আমলের ঐতিহ্য ও সমৃদ্ধ ব্যবসায়িক ইতিহাসের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েই ঈদগাহের সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসময় তিনি বলেন, নারায়ণগঞ্জে মুঘল আমলের অনেক স্মৃতি রয়েছে। নারায়ণগঞ্জ মুঘল আমল থেকেই ব্যবসায়ের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রস্থল। এই শহরে সেই সময়ের অনেক ঐতিহাসিক নিদর্শন এখনো বিদ্যমান। সে কারণেই মুঘল আমলের আদলে ঈদগাহ মাঠের সংস্কারের সৌন্দর্যকে ফুটিয়ে তোলার পরিকল্পনায় আমরা এটি সুন্দরভাবে কমিটির কাছে উপস্থাপন করেছি। পরবর্তীতে কমিটির পছন্দকৃত স্ট্রাকচারের ডিজাইন অনুযায়ী ঈদগাহের কাজটি শুরু করেছি।
তিনি আরও বলেন, আজ ঈদগাহের ঢালাইয়ের কাজ চলছে এবং আশা করা হচ্ছে খুব দ্রুতই মুঘল আমলের সৌন্দর্য এই ঈদগাহ ময়দানে পুরোপুরি ফুটিয়ে তোলা সম্ভব হবে। এই সংস্কার কাজ সম্পন্ন হলে এটি শুধু একটি উপাসনালয়ই থাকবে না, বরং নারায়ণগঞ্জের সমৃদ্ধ ইতিহাস ও ঐতিহ্যের একটি প্রতীক হিসেবেও মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে। স্থানীয় মুসল্লী ও নগরবাসী এই নতুন ঈদগাহের কাজ দ্রুত শেষ হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন। আমরাও আশাকরি দ্রুত এই ঈদগাহের কাজও শেষ হয়ে যাবে।
এসময় ডিসি জাহিদুল ইসলাম নারায়ণগঞ্জ ঈদগাহে প্রথম ঈদের নামাজের স্মৃতিচারণ করে বলেন, এই জেলায় আসার পর আমি যখন প্রথম ঈদের নামাজ পড়তে আসি সেটা ছিলো ঈদ-উল ফিতরের নামাজ। তার আগে আমি ঈদগাহ মাঠ পরিদর্শনে আসি। তখন এর অবস্থা ছিলো জরাজীর্ণ। মাঠের প্রধান কাঠামোগুলো প্রায় হেলে পড়েছিল এবং দেয়ালও ভাঙা ছিল। এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ জেলার কেন্দ্রীয় ঈদগাহের এই অবস্থা দেখে দ্রুত সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করি। আর এই চিন্তা থেকেই ঈদগাহটিকে একটি নতুন এবং নান্দনিক রূপ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেখান থেকেই মুঘল আমলের আদলেই এই ঈদগাহের সংস্কার করার পরিকল্পনা।
ঈদগাহ মাঠ সংস্কারের কাজ পরিদর্শনের সময় আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসন (সার্বিক) আলমগীর হোসাইন সহ জেলা প্রশাসণের বিভিন্ন কর্মকর্তারা।




