মামলা গ্রহণে পুলিশের গড়িমসি
ষ্টাফ রিপোর্টার:
পেশাদার হ্যাকিংয়ের শিকার হয়ে এবার সর্বস্ব হারিয়েছেন এক ভুক্তভোগী প্রবাসী স্বামী। আর এই চাঞ্চল্যকর হ্যাকিং চক্রের মূলে রয়েছে খোদ তাঁরই দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকা স্ত্রী তামান্না ও তাঁর পুরো পরিবার। স্ত্রীর প্রতারণা ও হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে প্রায় ৫০ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগী। এমনকি লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্তকে পুলিশ আটক করলেও মামলা নথিভুক্ত করতে চরম গড়িমসি করছেÑএমনটাই দাবি তাঁর।
ভুক্তভোগী স্বামীর দেওয়া তথ্য মতে, তামান্নার সম্পূর্ণ পরিবার একটি সুসংগঠিত সাইবার অপরাধ ও হ্যাকিং সিন্ডিকেটের সাথে জড়িত। নিজের দ্বৈত নাগরিকত্বের সুযোগ নিয়ে এবং প্রযুক্তিগত কৌশলে তামান্না দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, ডিজিটাল ওয়ালেট এবং আর্থিক লেনদেনের সুযোগ হাতিয়ে নিচ্ছিলেন। সম্প্রতি নিজ স্বামীর বিভিন্ন অ্যাকাউন্টে সাইবার হামলা চালিয়ে প্রায় ৫০ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করেন তামান্না।
ঘটনার আকস্মিকতায় স্তম্ভিত স্বামী দ্রুত বিষয়টি অনুধাবন করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দ্বারস্থ হন। ভুক্তভোগীর লিখিত তথ্যের ওপর ভিত্তি করে প্রাথমিক অনুসন্ধানে পুলিশ তামান্নাকে আটক করে হেফাজতে নেয়। তবে আটক পরবর্তী সময়ে আইনি পদক্ষেপ বাস্তবায়নে শুরু হয় জটিলতা।
ভুক্তভোগী স্বামী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “যেখানে সুস্পষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতে অভিযুক্তকে পুলিশ আটক করল, সেখানে মামলা দায়ের করতে গিয়ে এখন অদ্ভুত গড়িমসির সম্মুখীন হতে হচ্ছে। আমার কষ্টার্জিত ৫০ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হলো, পরিবারের প্রতিটি সদস্য সাইবার অপরাধে জড়িতÑএত বড় অপরাধের পরও মামলা গ্রহণে পুলিশের এই টালবাহানা আমাকে মারাত্মকভাবে হতাশ করছে।”
সাইবার অপরাধ বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকা ব্যক্তিবর্গ আর্থিক প্রতারণা বা সাইবার অপরাধ সংঘটিত করে সহজেই দেশত্যাগের সুযোগ পান, যার ফলে দ্রুততম সময়ে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
বর্তমানে অভিযুক্ত তামান্না পুলিশ হেফাজতে থাকলেও মূল মামলা রুজু এবং টাকা উদ্ধারের আইনি প্রক্রিয়া কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই নজর ভুক্তভোগী ও এলাকাবাসীর। ভুক্তভোগী স্বামী দ্রুত মামলা নথিভুক্ত করে এ চক্রের পেছনে থাকা পরিবারের অন্য সদস্যদেরও আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছেন।
এই বিষয়ে ফতুল্লা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মাহাবুব এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন স্বামীর টাকা নিয়েছে স্ত্রী সে হ্যাকার হলো কিভাবে এটা তদন্তের বিষয় রয়েছে, আটক করেছে শহিদুল আপনি তাকে জিজ্ঞেস করেন আমি জানিনা।
এস আই শহিদুলের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন টাকা পয়সা নিয়ে বিল্ডিং এর ছাদ বেয়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় তার স্বামীসহ বাড়ির মালিক ও স্থানীয় জনতা তাকে আটক করে আমাকে ফোন করলে আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে উপস্থিত হওয়ার পর উপস্থিত জনতা আমার কাছে সোপর্দ করে। পরে আমি তাকে থানায় নিয়ে আসি।




