নারায়ণগঞ্জ সোনারগাঁ উপজেলায় একমাত্র ৫০ শয্যা বিশিষ্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে অসংখ্য জনবল সংকটে চিকিৎসা ব্যাহত। চরাঅঞ্চল সহ উপজেলায় প্রায় ১০ লক্ষ মানুষের একমাত্র চিকিৎসা সেবা কেন্দ্র এই সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি।
এতে এলাকা রোগীদের ভোগান্তি চরমে, প্রতিদিন আশপাশের এলাকা ও চরাঞ্চল থেকে আসা ১১শত থেকে ১৩ শতাধিক রোগী চিকিৎসা নিতে আসলেও সেই তুলনায় নেই প্রয়োজনীয় জনবল। ফলে সেবা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে প্রতিনিয়ত।
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আউটডোর ও ইনডোর মিলিয়ে প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। হাসপাতালে এসব রোগীর সাথে স্বজনদের উপস্থিতিতে সাধারন মানুষের ভিড় জমতে দেখা গেছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে চিকিৎসাক ৩৩ জন পদে থাকলেও এখন আছে ২৭ জন ৬ জন নাই, কনসাল্টেন্ট ৩১ শয্যার জন্য ৪ জনের পদে আছেন,সেই তুলনায় পঞ্চাশয্যা আরো বাড়তি দেয়া প্রয়োজন। সেকমো পদে ১১ জন ফাঁকা আছে ৩ জন, তবে নার্স ৩৪টি পদ আছে ৩৩ জন এর মধ্যে ডিএনসিতে আছে দুজন ও মাতৃত্ব ছুটিতে আছে একজন, ১ জন নাই, তবে দীর্ঘদিন ধরে ৩য় শ্রেনীর ১০৫টি পদ আছে ৮২ জন ২৩ জন নাই ৪র্থ শ্রেণির ২৩টি পদ আছে ৯ জন ১৪ জন নাই । এর মধ্যে প্রধান সহকারী, একাউন্টেন্ট, স্যাকমো, স্বাস্থ্য সহকারী, কম্পিউটার অপারেটরসহ গুরুত্বপূর্ণ অনেক পদ রয়েছে। এছাড়া ওয়ার্ড বয়, আয়া, ল্যাব অ্যাটেনডেন্ট, ওটি অ্যাটেনডেন্ট, পরিচ্ছন্নতা কর্মী ও নৈশপ্রহরীর মতো গুরুত্বপূর্ণ পদগুলো শূন্য আছে।
এসব পদে প্রয়োজনীয় জনবল সংকটের হাসপাতালের পরিবেশেও দেখা দিচ্ছে অব্যবস্থাপনা। দুজন পরিচ্ছন্নতা কর্মী দিয়ে পুরো হাসপাতাল পরিষ্কার রাখা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে অনেক সময় নোংরা পরিবেশে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে রোগীদের।
হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা ভূক্তভূগী আব্দুল হালিম জানান , সকাল থেকে বসে আছি এখন লোকবল দেখা পাওয়া যাচ্ছে না ফলে সেবা নিতে দেরি হচ্ছে রোগীদের কে। আরেক রোগী রহিমা বেগম বলেন, ওয়ার্ডে ভর্তি হয়েছি, কিন্তু দেখভাল করার জন্য লোকবল কম তাই নিজের লোকজন নিয়েই সব করতে হচ্ছে আমাদের।
এছাড়া রোগীদের স্বজনদের অভিযোগ হাসপাতালটিতে নৈশপ্রহরীর পদ শূন্য থাকায় নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। হাসপাতালে সিসি ক্যামেরা থাকলেও মাঝে মাঝে রোগী ও স্বজনদের মোবাইল চুরির ঘটনা ঘটেছে জানা গেছে। বেশি ভাগ সময় ওষুধের বরাদ্দ কম থাকায় অনেক রোগীকেই বাইরে থেকে ঔষধ কিনে আনতে হচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষের জন্য বাড়তি ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এ বিষয়ে সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. রাসেল আহমেদ জানান, কিছু কমকর্তা কর্মচারীর শূণ্য পদ থাকায় সেবা কার্যক্রম বিঘ্নিত হচ্ছে। স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত শূন্য পদগুলো পূরণ করে প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ দেওয়া না হলে সোনারগাঁও হাসপাতালের সেবা কার্যক্রম আরও ব্যাহত হবে। এ ব্যাপারে জনবল চাহিদা দপ্তরের উদ্ধোতন কর্তৃপক্ষের নিকট চিঠি পাঠানো হয়েছে। তবে এ পদগুলো পূরণ হলে সেবার মান আরও উন্নত হবে বলে জানান তিনি ।




