ষ্টাফ রিপোর্টার:
রাজনীতিতে শেষ বলতে কোন শব্দ নেই এমনটাই শোনা যায় অহরহ। তবে যে নীতি ও আদর্শ নিয়ে রাজনীতি করতে হয় তার বিন্দুমাত্র নীতি ও আদর্শ ছাড়াই চলছে দেশের রাজনীতি অঙ্গন। আজ বিরোধী আবার কাল সঙ্গী। এ নীতিতেই চলছে দেশব্যাপী রাজনীতি। তবে এ রাজনীতিতে দেশের আপামর জনগনের কল্যান না হলেও এ নীতিতে বিশ^াসীরা গড়ে তুলছে সম্পদের পাহাড়।
কথা হচ্ছে নারায়ণগঞ্জে ওসমানীয় দালাল প্রসঙ্গে যারা নাতি বিগত সময়ে ওসমানদের সাথে সুসর্ম্পক গড়ে তুলে অনেক অপকর্ম করেছেন। ৫ আগষ্টের পর ওসমানরা দেশে নেই কিন্তু তাদের সম্পদ নাকি সেই ওসমানদের দালালরা দেখভাল করছে আবার তারাই নাকি ওসমানদের প্রতিষ্ঠিত করতে আসছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহন করতে তৎপর হয়েছেন। তাদেও মধ্যে একজন হচ্ছেন মাসুদুজ্জামান মাসুদ যিনি মডেল মাসুদ হিসেবে সর্বজন পরিচিত। যাকে ইতিমধ্যে বিএনপি ঘোষিত ২৩৭ জন প্রার্থীর মধ্যে নারায়ণগঞ্জ ৫ আসনে বিএনপির মনোনীত। অপরজন হচ্ছেন এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সহ-সভাপতি,সাবেক সাংসদ ও জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহবায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ মোহাম্মদ আলী যিনি শনিবার বক্তাবলীতে একটি অনুষ্ঠানে নিজে নির্বাচন করার ঘোষনা দিয়েছেন।
ওসমানদের দালালদের বিরুদ্ধে সর্বদা তৎপর রয়েছেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু। মডেল মাসুদকে তিনি ওসমানদের দোসর আখ্যা দিয়ে সদর-বন্দরে বিএনপির প্রতিটি অনুষ্ঠানেই বাংলাওয়াস করেছিলেন। কিন্তু সর্বশেষ সেই ওয়াসের জমাকৃত ফেনাতে নিজেই ওয়াস হয়ে গিয়েছেন টিপু। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে মাসুদ বিরোধী বক্তব্য দিয়ে টিপু বেশ আলোচিত হয়ে উঠেন। রাজনীতিবিদদের মতে টিপুই ছিলেন একমাত্র প্রতিবাদী কন্ঠ যিনি ওসমানদের দালালের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন।
কিন্তু মাসুদের টাকার যাদুতে নাকি টিপু ডুব দিয়ে সে প্রতিবাদী অবস্থান থেকে সরে এসেছেন এমনটাই সর্বত্র আলোচনা-সমালোচনার ঝড় বইছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে মাসুদ-টিপুর একান্ত মুহুর্তের ছবিগুলো নিচে চমৎকার একটি লেখা যুক্ত করেছেন কয়েকজন ব্যক্তি যেখানে দেখা যাচ্ছে মাসুদ মুখে হাত রেখে চুপিচুপি টিপুকে বলছে “ টিপু শুনো ১ কোটি টাকা দিছি নির্বাচন পর্যন্ত কোন উল্টাপাল্টা কিছু বলো না”।
সেই ছবিটি যেন ফেসবুকে ভাইরাল হয়ে পড়েছে। তবে ওসমানীয় দালাল সর্ম্পকে স্থানীয় তৃনমুল বিএনপি নেতাকর্মীদের মতে, এটা হচ্ছে টিপুর একটি কৌশল যে কৌশলটি কাজে লাগিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছে টাকা। তীব্র বিরোধকারী থেকে হঠাৎ আপোষকারী হয়ে যাওয়াটাও কিন্তু রাজনীতির ময়দান ও সাধারন মানুষের মাঝে কৌতুহল হয়ে দাড়িয়েছে। তাদেও অনেক মতে বিরোধকারী থেকে আপোষকারী এখানে অবশ্যই কোন কিন্তু রয়েছে? যদিও টিপু বলে বেড়াচ্ছেন তিনি তারেক রহমানের নির্দেশেই নাকি মডেল মাসুদের কাছে গিয়েছেন। প্রশ্ন হচ্ছে যাদেরকে নিয়ে বিগত দিনগুলোতে মাঠে-ময়দানে মাসুদ বিরোধী প্রচার-প্রচারনা হয়েছে তারেক রহমান কি তাদেরকে কোন নির্দেশনা দেয়নি ? এমনটাই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে রাজনৈতিক মহল ও আমজনতার মাঝে।
অনেকের মতে, অতি প্রতিবাদী টিপুর সেই ওসমান বিরোধী বক্তব্যগুলো ছিলো শুধুমাত্র টাকা আহরনের জন্য। মাসুদ পর্ব শেষ হওয়ার পর আবার শুরু হয়েছে নারায়ণগঞ্জ ৪ আসনে মোহাম্মদ আলীর নির্বাচন ঘোষনা পর থেকে। এক শিল্পপতির টাকা শিল্পের কাছে সুবিধা পাওয়ার পর অপর শিল্পপতি মোহাম্মদ আলীকে নিয়ে শুরু হয়েছে টিপুর ওসমানীয় বিরোধী বক্তব্য। ভুমিদস্যুসহ আরও কতইবা মন্তব্য করা হচ্ছে মো:আলীর বিরুদ্ধে। তবে এ বিরোধীতা কতদিন পর্যন্ত থাকবে সেটাই এখন দেখার বিষয়।
এদিকে ওসমানীয় দোসরদের নিয়ে সমালোচনাকারী আবু আল ইউসুফ খান টিপু কি কখনও বিগত সময়ে ওসমান গ্রুপের কোন নেতাদের সাথে সুসর্ম্পক ছিলোনা এমনটাই বলছেন স্থানীয় রাজনীতিবিদরা। বিগত আওয়ামী শাসনামলের ১৭ বছর কি টিপু নারায়ণগঞ্জে ছিলনা। আর থাকলে কি ওসমান দোসরদের সাথে কোন আতাত ছিলনা। যেমনটি বর্তমানে আওয়ামীলীগের অনেক দোসর প্রতিটি পাড়া-মহল্লায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে। আবার অনেক সময় দেখা যায় যে,মহানগর বিএনপির অনেক অনুষ্ঠানে আওয়ামী দোসররা সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছে ?
নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবলীগের সভাপতি শাহাদাত হোসেন সাজনুর সাথে অন্তরঙ্গ আলাপচারিতার একটি ছবিও ফেসবুকে ঘুরপাক খাচ্ছে। আর সেই ছবিতেও লেখা রয়েছে “ ২০ হাজার ভাগে পাইছি”। সাজনুর সাথে এ ছবিটিও প্রকাশ করে রাজনীতিতে মতবিরোধ থাকতে পারে কিন্তু ব্যক্তিগত সর্ম্পক বলতেও একটি কথা থাকে।
টিপু ওসমান বিরোধী প্রতিবাদী বক্তব্য আবার কিছুদিন পর একসাথে চলাচলকে সাধারন মানুষের মাঝে হাস্যকরে রুপ নিলেও অনেকের মতে “ ঢাল মে কুচ কালা হেয়”র ঘটনা রয়েছে।
মডেল মাসুদের পর মোহাম্মদ আলী বিরোধী টিপুর বক্তব্য কতদিন পর্যন্ত চলবে তা দেখতে অধীর আগ্রহে রয়েছে নারায়ণগঞ্জের রাজনীতি অঙ্গনের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারন মানুষ। তবে এ বিরোধ যদি দলের স্বার্থে ব্যক্তি বিরুদ্ধে হয় তাহলে ভাল আর যদি তা নিজের স্বার্থে টাকার জন্য হয় তাহলে টিপু টাকার জন্যই বিরোধীতা করে বেড়ায় সেটা সর্বজন স্বীকৃতি পাবে।




