ষ্টাফ রিপোর্টার:
জাকির খান একটি আলোচিত নাম যিনি নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি। বিভিন্ন কার্যকলাপের কারনে তিনি সকল সময়েই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে। যার বেশীরভাগ কর্মকান্ডগুলোর সাথে প্রয়াত সাবেক সাংসদ নাসিম ওসমানের একমাত্র তনয় আজমেরী ওসমানের সাথে হুবুহু মিল রয়েছে। আবার এ নাসিম ওসমানও ছিলেন জাকির খানের রাজনৈতিক শিক্ষাগুরু। ছেলে ও শিষ্যকে একই কায়দায় সকল ফর্মুলা শিখিয়েছেন এমনটাই মন্তব্য স্থানীয়দের। ৯০ দশকে নগরীর ২নং রেলগেইট সংলগ্ন বর্ষন সুপার মার্কেটের পেছনে দয়াল মাসুদকে গুলি করে হত্যাকান্ডের ঘটনায় আলোচনায় আসেন জাকির খান। পরবর্তীতে ২০০৩ সালে বিকেএমইএ’র সহ-সভাপতি সাব্বির আলম খন্দকারকে তার নিজ বাড়ির সামনে গুলি করে হত্যাকান্ডের ঘটনায় আবারো আলোচনায় আসেন তিনি। আওয়ামীলীগের ১৭ বছরের শাসনামলের বেশীরভাগ সময়ে তিনি দেশে বিদেশে অবস্থান করলেও আওয়ামীলীগের শাসনামলের শেষ সময়ে এসে গ্রেফতার হন জাকির খান। প্রায় দেড় বছর জেল খাটার পর সাব্বির আলম খন্দকার হত্যা মামলায় বেকসুর খালাস হয়ে মুক্ত আকাশের নিচে এসে সেই আগের রুপেই ফিরে আসেন জাকির খান।
৫ আগষ্টের পরবর্তী সময়ে জাকির খান জেলে থাকাকালীন সময়ে তার বাহিনীর সদস্যরা কেন্দ্রীয় বাসষ্ট্যান্ড দখল করতে গিয়ে প্রকাশ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটায়। এছাড়াও শহর ও শহরতলীতে প্রতিটি স্থানেই জাকির খান তার ভাই ঝিকু খানসহ বাহিনীর সদস্যরা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে দখল বানিজ্যসহ কোন কর্ম বাদ নেই যা তাদের মাধ্যমে সংঘটিত হচ্ছেনা। নারায়ণগঞ্জের গডফাদারখ্যাত সাবেক সাংসদ শামীম ওসমান ও তার ভাতিজা আজমেরী ওসমানের সকল সাম্রাজ্যেগুলো এখন জাকির খানের নিয়ন্ত্রনে।
অনলাইন অ্যাক্টিভিষ্ট জ্যাকব মিল্টন তার ফেসবুক ভেরিফাইড পেজে লিখেছেন “ নারায়ণগঞ্জে জাকির খানের মাধ্যমে বুলুসহ আরও বিএনপি নেতারা গার্মেন্টস ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে বড় অংকের চাদাঁ নেয়,এমন অভিযোগ উঠেছে। বর্তমানে এই জাকির খানকে সামনে রেখে বিএনপির বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী নেতা এসব কর্মকান্ডে জড়িত! আরও জানা যায়,জাকির খান শামীম ওসমানের অবৈধ ব্যবসা ও চোরাকারবাবির বড় অংশই নিয়ন্ত্রন করছে। তাকে বিএনপির হাইকমান্ড থেকেও শেল্টার দেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে জাকির খান একটি বৃহৎ বাহিনী নিয়ন্ত্রন করছে,যার প্রায় ৯০% সদস্যই শামীম ওসমানের ক্যাডার বাহিনীর লোকজন।”
জ্যাকব মিল্টনের সেই লেখাটিতে অনেকেই অনেকভাবে কমেন্টস করেছেন তার মত করে। সদ্য ওমরা হজে¦ যাওয়া জাকির খানের একটি ছবি সম্বলিত করে একজন লিখেছেন যে চাদাঁবাজির টাকায় ওমরাহ! যার স্কিনশর্টটি হুবুহু দেওয়া হলো।
এদিকে ব্যবসায়ী নেতা সাব্বির আলম খন্দকারের মামলায় বেকসুর খালাস হয়ে জেল থেকে বেড়িয়েই জাকির খান তার বাহিনীর মাধ্যমে শহর ও শহরতলীতে শুরু করে তার টাকা কামানোর অবৈধ পথটি। মেঘনার তিন নদীর মোহনা হতে বিভিন্নস্থানে নেয়া প্রতিটি বলগেট থেকেই টাকা নিচ্ছেন জাকির খান। পাড়া-মহল্লায় ছোটবড় বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান,অটো-ইজিবাইকসহ কোন কিছুই বাদ পড়েনি জাকির খান ও তার বাহিনীর চাদাঁবাজি থেকে। সপ্তাহ খানেক আগে নগরীর ডিআইটি এলাকাতে ডিস ব্যবসার দখলে নিতে তার ছোটভাই ঝিকু খানের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে গুলি করার অভিযোগ উঠেছে জিয়া নামে এক নেতাকে। যদি জিয়া জাকির খানেরই একনিষ্ট কর্মী। ফতুল্লার চরকাশিপুর,মুসলিমনগর,নরসিংপুর,চরনরসিংপুর এলাকাতে স্থানীয় কিছু বিএনপি নেতাদের নিয়ে জাকির খানের ভাই ঝিকু জমি দখলের মত ন্যাক্কারজনক কাজে জড়িত হয়েছেন। যেটা একসময়ে ভাইজানখ্যাত আজমেরী ওসমানের নিয়ন্ত্রনে ছিল। এছাড়াও বক্তাবলী ও আলীরটেকের দুইপাশে গড়ে উঠা প্রতিটি ইটভাটার মালিকদের কাছ থেকেও মোটা অংকের টাকা চাদাঁবাজির অভিযোগ রয়েছে ঝিকু খান ও তার বাহিনীর বিরুদ্ধে।
এছাড়াও মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে আওয়ামী দোসরদের পুর্নবাসন করার অভিযোগও উঠেছে জাকির খানের বিরুদ্ধে। এ রকম শত শত অভিযোগ রয়েছে জাকির খান,তার ভাই ঝিকু খানসহ তার বাহিনীর বিরুদ্ধে। এক কথায় নির্দিষ্ট কোন ব্যবসা ছাড়াই যেন প্রতি মাসে কোটি কোটি টাকা উপার্জন করছে জাকির খান যা সর্বমহলে আলোচিত।




