নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি: যখন এক দফা এক দাবীতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ডাকা কেন্দ্রীয় কর্মসূচী অনির্দিষ্টকালের অসহযোগ আন্দোলনে অংশ হিসেবে সকাল থেকেই নারায়ণগঞ্জ শহরে ছাত্র,শিক্ষক, চিকিৎসক, অভিভাবক, গার্মেন্টসকর্মী, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল সহ সরকারি বেসরকারি চাকুরীজীবি মানুষের ঢল নামে।
শিশু থেকে বৃদ্ধ, নারী থেকে পুরুষ সবাই একতা প্রকাশ করে দলে দলে যোগ দেয় শিক্ষার্থীদের এ আন্দোলনে।এসময় চাষাড়া মোড়, শহীদ মিনার, বালুরমাঠ, প্রেস ক্লাব,দুই নং রেলগেইট, কলেজরোড,উত্তর চাষাড়া, ডনচেম্বার,মিশনপাড়া, চানমারি, নতুন কোর্ট,ইসদাইর এলাকাগুলোতে কানায় আন্দোলনকারীরা ভরে যায়। পুরো নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাড়া মোড় সহ আশেপাশের বিভিন্ন সড়কগুলোতে ছাত্র জনতার ফ্যাসিস বিরোধী স্লোগানে উত্তাল হয়ে উঠে। সেদিন ছাত্র জনতা দেখেছে পুলিশের বেইমানি, প্রতিশ্রুতি দিয়ে না রাখার ঘৃন্য ও ন্যাক্কারজনক কাজ। আজও সেই ৪ আগষ্টের বিশ্বাসঘাতকতার দাগ এখনো নারায়ণগঞ্জবাসী ভূলতে পারেনি মন থেকে। ভূলতে পারেনি সেই দিন আন্দোলনে নিহত ও আহত এবং অংশগ্রহণকারীরাও ও তাদের পরিবারের সদস্য। এখনো চানমারি ও তার আশেপাশে রক্তের দাগও যেন স্পষ্ট হয়ে আছে।প্রতিটা সড়ক ও ইট পাথরও যেন সেদিন সাক্ষী ছিলো পুলিশের এই ঘৃন্য কাজের।
এর আগে সকালে নারায়ণগঞ্জের চাষাড়ায় শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে সমর্থন জানাতে চাষাড়ামুখী ছাত্র ও জনতা একটি মিছিল নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদ ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করে।জেলা পরিষদ অগ্নিসংযোগ করার পর বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে হামলা চালায়।জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের প্রধান ফটক ভাংচুর করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় প্রাঙ্গণে প্রবেশের চেষ্টা করে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।এসময় প্রশাসকের কার্যালয়ে অবস্থারত পুলিশ টিয়ারগ্যাস ও টিয়ারশ্যাল নিক্ষেপ করলে আন্দোলনকারীরা ছত্রভঙ্গ করে জেলা পুলিশের কার্যালয় হামলার চেষ্টা চালায়।এসময় পুলিশ আন্দোলনকারীদের কাছে আত্মসমর্পণ করলে আন্দোলনকারীরা সড়কের দিকে অগ্রসর হয়।
ঠিক বেলা সাড়ে ১২ টায় একদিকে চাষাড়া সহ আশেপাশের সড়কগুলোতে ছাত্র জনতার স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত তখনই মুমু পুলিশের টিয়ারগ্যাস ও গুলির শব্দে স্তব্ধ হয়ে উঠে পুরো চাষাড়া সহ আশেপাশের স্থান। কোথা থেকে এই গুলির ও টিয়ারগ্যাসের শব্দ আসছে। তা আঁচ করতে পারার সাথে সাথেই চানমারির দিকে ছাত্র জনতার দৌঁড়ঝাপ শুরু হয়।
সেদিন নারায়ণগঞ্জ হেরিটেজ স্কুলের সামনে আন্দোলনরত শিক্ষার্থী ও জনতা অবস্থানকালে পুলিশ আন্দোলনকারীদের হাতজোড় করে মাফ চায় এবং গুলি না করার প্রতিশ্রুতি করে। অন্যদিকে আন্দোলনকারীরাও পুলিশের উপর ঢিল ও ইট নিক্ষেপ না করার প্রতিক্ষা করে। দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হলে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা সড়কে অবস্থান করার কথা জানিয়ে সড়কে বসে পড়ে। পুলিশের প্রতিশ্রুতি মোতাবেক ঠিক সেই মুহূর্ত দুপুর সাড়ে ১২টায় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা সড়কে বসার সাথে সাথেই নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের উদ্বর্তন অফিসারের নির্দেশে পুলিশ নির্বিচারে গুলি ছুড়ে।এতে বসারত অবস্থায় প্রায় অর্ধশতাধিক আন্দোলনকারী গুলিবিদ্ধ ও একাধিক গনমাধ্যামকর্মী আহত ও গুলিবিদ্ধ হয়।
সেই ৪ আগষ্টে পুলিশের বেইমানির ঘটনায় নারায়ণগঞ্জ সরকারি তোলারাম কলেজের চার ছাত্র নাঈম, পান্থ, আব্দুর রহমান গাজী ও মানিক শাহ আরিফ পুলিশের গুলিতে শহীদ হন।




