আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক অঙ্গনে চলছে মনোনয়ন যুদ্ধ। আর এই যুদ্ধে অংশগ্রহনকারী প্রতিটি ব্যক্তিই নিজের পেশীশক্তি, অর্থের দাপট, নিজেদের দাম্ভিকতা ফুটিয়ে তুলছেন তাদের রাজনৈতিক বক্তব্যের মাধ্যমে। মনোনয়ন প্রত্যাশীরা বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মকান্ড পরিচালনা করলেও প্রত্যেকেই একে অন্যের প্রতি বিষোদগার করে চলেছেন নানাভাবে। আর এসব বক্তব্য বেশ ভাল ভাবেই প্রকাশিত হতে দেখা যাচ্ছে স্থানীয় মিডিয়াতে।
এদিকে, স্বৈরাচারী হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে মনোনয়ন যুদ্ধে প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়িদের নজর পড়েছে নির্বাচনী আসন গুলোতে। নারায়ণগঞ্জের ৫টি আসনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি নজর (সদর-বন্দর) ৫ এ। এছাড়াও নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনেও ব্যবসায়িদের নজর থেকে এড়ানো যায়নি।
লক্ষ্য করে দেখা যায়, নারায়ণগঞ্জ ৫ আসনে ঐতিহ্যবাহি রাজনৈতিক পরিবারের সদস্য সাবেক সাংসদ এ্যাড. আবুল কালাম, মহানগর বিএনপির আহবায়ক এ্যাড. সাখাওয়াত হোসেন খান, সদস্য সচিব এ্যাড. আবু আল ইউসুফ খান টিপু রাজনৈতিক ব্যক্তি। বিগত দিনে স্বৈরাচারী সরকারের পতন আন্দোলন সংগ্রামে রাজপথে যে যার অবস্থান থেকে রাজপথে ছিলেন। আর এই অপরাধে তাদের জেলজুলুম সহ্য করতে হয়েছে বারংবার।
কিন্তু ৫ আগষ্ট স্বৈরাচারী হাসিনার পতনের পর এই আসনটিতে নজর পড়েছে মডেল ডি ক্যাপিটালের কর্ণধার মাসুদুজ্জামান মাসুদেও ও পাশাপাশি প্রাইম গ্রুপের চেয়ারম্যান আবু জাফর আহামেদ বাবুলের। যদিও বিগত দিনে রাজনৈতিক অঙ্গনে এই দুই ব্যবসায়ির ছিলোনা ছিটেফোটা অবদান। তবে তারা দাবি করে বেড়াচ্ছেন বিগত দিনে আন্দোলন সংগ্রামে রাজপথে মাঠে নেতাদের আর্থিক সহযোগীতা করেছেন।
এদিকে, নারায়ণগঞ্জ ৪ আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশি সাবেক সাংসদ গিয়াস উদ্দিন, ব্যবসায়ি শাহআলম ও জেলা যুবদলের মশিউর রহমান রনি। তবে গিয়াস উদ্দিনকে বর্তমান ৩ আসনের দিকেই বেশি ঝুঁকতে দেখা যাচ্ছে, তিনি ৩ ও ৪ আসন দুটি থেকেই মনোনয়ন চাইবে বলে একটি সূত্র জানায়।
আর বিগত দিনে দলের দুঃসময়ে নেতাকর্মীদের ছেড়ে দল থেকে পদত্যাগ করা প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ি শাহ আলম নিজেও মনোনয়ন প্রত্যাশিদের একজন। তবে বিগত দিনে রাজপথে তার অবদান শুন্যের কোঠায়। তিনি নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশি হলেও বর্তমান নানা প্রচার প্রচারনায় মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন তার সমর্থিত নেতাকর্মীরা।
অপরদিকে, নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবদলের সাবেক সদস্য সচিব মশিউর রহমান রনি বিগত দিনে আন্দোলন সংগ্রামে দলে যার অবদান ছিলো চোঁখে পড়ার মত। স্বৈরাচারী হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে তার নির্বাচনী আসন ৪ এর বিভিন্ন ইউনিয়ন চষে বেড়াছেন মনোনয়ন প্রত্যাশি সাবেক এই যুব নেতা।
পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকার ছোট ছোট সমস্যাগুলো তিনি নিজ উদ্যোগে সমাধান করার চেষ্টা করে যাচ্ছেন। তবে দুটি আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশিদের তালিকায় ব্যবসায়িরা থাকলেও, নোংরা রাজনীতি চলছে ৫ আসনের কিছু প্রার্থীদের মধ্যে।




