রাজধানীর কুড়িল ফ্লাইওভার থেকে পূর্বাচলের ৩০০ ফিট সড়ক এখন এক ভয়ংকর মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিনই এখানে ঘটে ছোট-বড় দুর্ঘটনা, প্রাণ হারাচ্ছে সাধারণ মানুষ। হকারদের অবৈধ দখলদারি, উল্টো পথে চলা যানবাহন, ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহার না করা, বেপরোয়া গতির মোটরসাইকেল ও প্রাইভেটকার—সব মিলিয়ে এই সড়ক যেন অনিয়মের এক মর্মান্তিক উদাহরণ। অথচ এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হয় না, যা নিরাপত্তাহীনতা আরও বাড়িয়ে তুলছে।
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, গত দুই মাসে এই সড়কে প্রাণ হারিয়েছেন ১০ জনেরও বেশি। প্রশাসন বলছে, বেপরোয়া গতিতে মোটরসাইকেল ও প্রাইভেটকার চালানোই এসব মৃত্যুর মূল কারণ। কিন্তু স্থানীয়দের অভিযোগ ভিন্ন। তাদের মতে, সড়কের আশপাশে রাত গভীর পর্যন্ত বাজার খোলা থাকায় রাজধানী ও আশপাশের এলাকার কিশোররা মাতাল অবস্থায় প্রতিযোগিতামূলকভাবে গাড়ি চালায়।
চেকপোস্টের অভাব ও প্রশাসনের নজরদারির শিথিলতার সুযোগেই তারা এমন ঝুঁকিপূর্ণ কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে।
অবৈধ দখলদারি ও অনিয়ন্ত্রিত যান চলাচল বন্ধ করা এখন সময়ের দাবি। রাস্তার পাশে অবৈধ হকার, পান-সিগারেটের দোকান, মাছ ও ফল বিক্রেতারা পথচারীদের চলাচলে মারাত্মক বাধা সৃষ্টি করছে। নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে এই অনিয়ম বন্ধ করা সম্ভব।
উল্টো পথে চলা যানবাহনের কারণে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটছে। ট্রাফিক পুলিশের নজরদারি বৃদ্ধি এবং মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান করা সম্ভব। রাতের বেলায় মাতাল কিশোরদের গাড়ির প্রতিযোগিতা ঠেকাতে পুলিশের কঠোর নজরদারি ও জরিমানা ব্যবস্থা কার্যকর করা জরুরি।
এছাড়া, গভীর রাত পর্যন্ত খোলা বাজার যানজট ও অপরাধের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ের পর বাজার বন্ধ করার কঠোর নিয়ম কার্যকর করতে হবে।
এ সড়কের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ফুটওভার ব্রিজ থাকলেও কিছু মানুষ ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহার না করে সরাসরি রাস্তা পার হচ্ছেন, যা যে কোনো সময় বড় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। পথচারীদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করা এবং নিয়ম অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন।
৩০০ ফিট সড়কের এই নৈরাজ্য বন্ধে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করা গেলে প্রাণহানি কমবে, পথচারীরা নিরাপদ হবে। প্রশাসনকে অবিলম্বে ব্যবস্থা নিতে হবে, যাতে এই গুরুত্বপূর্ণ সড়ক আবারও শৃঙ্খলার আওতায় আসে।