বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে কেন্দ্রীয় কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের লক্ষ্যে প্রস্তুতি সভা করেছে নারায়ণগঞ্জ জেলা স্বেচ্ছাসেবক দল। তবে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির প্রস্তুতির চেয়েও সভাটি নিয়ে এখন প্রধান আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে বহিষ্কৃত এক নেতার উপস্থিতি। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে বহিষ্কৃত ফতুল্লা থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক নজরুল ইসলামকে সাথে নিয়ে জেলা পর্যায়ের শীর্ষ নেতারা কীভাবে এ ধরনের সভা পরিচালনা করলেন, তা নিয়ে নেতাকর্মীদের মাঝে তীব্র প্রশ্ন ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
গত রোববার (১৬ আগস্ট) দুপুরে সিদ্ধিরগঞ্জের একটি কমিউনিটি সেন্টারে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মাহাবুব রহমানের সভাপতিত্বে এই প্রস্তুতিমূলক সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। সভার ছবিতে দেখা যায়, দলীয় পদ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বহিষ্কৃত নেতা নজরুল ইসলাম জেলা ও বিভিন্ন ইউনিটের মূল ধারার শীর্ষ নেতাদের সাথে একই টেবিল ও সারিতে বসে মিটিং করছেন।
দলীয় নীতি ও সাংগঠনিক কাঠামোর তোয়াক্কা না করে বহিষ্কৃত কোনো নেতাকে জেলা পর্যায়ের নীতি-নির্ধারণী সভায় কীভাবে যুক্ত রাখা হলো, মূলত এই বিষয়টিকে কেন্দ্র করেই চরম অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। সাধারণ নেতাকর্মী ও রাজনীতি সচেতন মহলে এখন জোর চর্চা চলছে যে, শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে সাজাপ্রাপ্ত বা পদচ্যুত কাউকে এভাবে প্রকাশ্যে সভা-সমাবেশে প্রশ্রয় দেওয়া হলে সংগঠনের মূল শৃঙ্খলাই ভেঙে পড়বে।
উল্লেখ্য, উক্ত প্রস্তুতিসভায় জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মাহাবুব রহমান ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন যুগ্ম আহ্বায়ক শাহ্ আলম ভূঁইয়া, রুবেল হোসাইন, ফতুল্লা থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক জাকির হোসেন রবিন, সদস্য সচিব রাসেল মাহম্মুদ, রূপগঞ্জ থানা সদস্য সচিব আলী আহম্মদ, আড়াইহাজার উপজেলা সদস্য সচিব আলমগীর হোসেন সাকিব, সোনারগাঁ উপজেলা যুগ্ম আহ্বায়ক খোরশেদ আলম এবং আড়াইহাজার পৌরসভা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক সুমন মিয়াসহ একাধিক ইউনিটের নেতৃবৃন্দ।
বহিষ্কৃত নেতাকে সাথে নিয়ে জেলা নেতাদের এই সভা আয়োজনের নেপথ্যে কী কারণ রয়েছে এবং এতে হাইকমান্ডের থেকে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা আসবে কি না—তা নিয়েই এখন সর্বত্র গুঞ্জন চলছে।
এ বিষয়ে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মাহবুবুর রহমান বলেন, আমরা কখনো দলের বাহিরে যেতে পারি না, তবে কোন বহিস্কৃত নেতা যদি কোন সভায় উপস্থিত হয়ে যায়, তখন সেই সভা থেকে তাদের বের করে দেওয়া হয় এবং তাদের বলা হয় দল যতদিন আপনাদের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার না করবে ততদিন আপনারা কোন সভাতে উপস্থিত হতে পারবেন না। নজরুল ইসলাম আপনাদের প্রস্তুতি মুলক সভাতে প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত উপস্থিত ছিলেন এমন প্রশ্নের জবাবে, মাহাবুব রহমান সদুত্তর দিতে পারেনি।




