ষ্টাফ রিপোর্টার:
বাংলাদেশ সনাতন পার্টি ( বিএসপি ) আয়োজিত সারাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর নির্যাতন,হত্যা,মন্দিরে বোমা হামলা,বিভিন্নস্থানে মন্দিরে অগ্নিসংযোগ,ভয়ভীতি দেখিয়ে জোরপুর্বক চাদাঁ আদায়,সনাতন ধর্ম নিয়ে কটুক্তি এর প্রতিবাদে ও দোষী ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির দাবী মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার ১৩ মার্চ সকাল ১০টায় ঢাকা প্রেস ক্লাবের সামনে এ মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এ মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশে যোগদান কয়েক শতাধিক কর্মী নিয়ে বাংলাদেশ সনাতন পার্টি নারায়ণগঞ্জ জেলা সভাপতি টনি মল্লিকের নেতৃত্বে যোগদান করেন।
উক্ত মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ সভাপতিত্ব করেন সাংবাদিক বাসুদেব ধর। মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সনাতন পার্টির প্রতিষ্ঠাতা ও কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারন সম্পাদক অ্যাডভোকেট সুমন কুমার রায়, বাংলাদেশ সনাতন পার্টি নারায়ণগঞ্জ জেলা সভাপতি টনি মল্লিক, হিন্দু ফেডারেশনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সন্তোষ দাস, বাংলাদেশ হিন্দু মহাজোটের (এম.কে) সাধারণ সম্পাদক এম কে রায়, অনুভব বাংলাদেশ’র সাধারণ সম্পাদক অতুল চন্দ্র মন্ডল, ঐক্য পরিষদ মহানগর দক্ষিণের সদস্য সচিব কৃষ্ণ দাস, মতুয়া মহাসংঘের নিউটন অধিকারী, বাংলাদেশ মহিলা ঐক্য পরিষদের সভাপতি সুপ্রিয়া ভট্টাচার্য, যুব ঐক্য পরিষদের সভাপতি শিমুল সাহা, ছাত্র ঐক্য পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সজীব সরকার, সনাতন মহাসংঘের পীযূস দাস প্রমুখ। সমাবেশ পরিচালনা করেন বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোটের মুখপাত্র ও নির্বাহী মহাসচিব পলাশ কান্তি দে।
সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিলে এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন- ওয়ার্ল্ড হিন্দু ফেডারেশনের সভাপতি বরুণ চন্দ্র সরকার, ঐক্য পরিষদের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য মিলন কান্তি দত্ত, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রবীন্দ্র নাথ বসু, রমেন মন্ডল, সাংগঠনিক সম্পাদক দীপঙ্কর ঘোষ, মহিলা ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক দিপালী চক্রবর্তী, গীতা বিশ্বাস প্রমুখ। রাজধানী ঢাকা ছাড়াও সারা দেশের বিভিন্ন জেলা ও মহানগরে একই দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।
বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ সমন্বিত সংখ্যালঘু ঐক্য মোর্চার নেতৃবৃন্দ বলেছেন, নির্বাচন-পরবর্তী এক মাসের সাম্প্রদায়িক সহিংস ঘটনাবলীর মধ্যে রয়েছে- হত্যা, ধর্ষণ, মন্দিরে হামলা ও লুটপাট, বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা, আদিবাসীদের বসতভিটা দখলের ঘটনা। এসবের মধ্যে রয়েছে-ভোলার তজুমুদ্দীনে ধর্মীয় উৎসবে অংশগ্রহণকারী এক মহিলাকে জোরপূর্বক অপহরণ করে গণধর্ষণ, চট্টগ্রামে আকাশ দাস, বগুড়ায় সুনীল বাঁশফোড়, কক্সবাজারে ব্যবসায়ী গণেশ পাল, বগুড়ায় শিক্ষক চয়ন রাজভর, যশোরে অরুণ অধিকারী, ময়মনিসংহের চাল ব্যবসায়ী সুশেন চন্দ্র সরকার, গাইবান্ধার সদর উপজেলার অমিতাভ চন্দ্র সুজনকে হত্যা এবং কুমিল্লা নগরীর দক্ষিণপাড়ার কালী গাছতলা শিব মন্দিরে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পুরোহিতসহ চারজনকে জখম, বগুড়ার ধুনটে লক্ষ্মীমন্দিরে আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া, সাতক্ষীরার আশাশুনির হামকোড়া কালীমন্দিরে ভাঙচুর, ফেনীর পারিবারিক মন্দিরে হামলা, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা। নেতৃবৃন্দ ইতিমধ্যে সংঘটিত সকল সাম্প্রদায়িক ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের অনতিবিলম্বে গ্রেফতার এবং আইনের আওতায় এনে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিদান, ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ ও আহতদের সুচিকিৎসার জোর দাবি জানান। তাঁরা একই সঙ্গে অনতিবিলম্বে সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন প্রণয়ন, সংখ্যালঘু কমিশন ও সংখ্যালঘু মন্ত্রণালয় গঠনসহ তাদের ৮ (আট) দফা দাবি বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের নিমিত্তে সরকারের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন।
মানববন্ধন শেষে কয়েক শতাধিক লোকের এক বিক্ষোভ মিছিল প্রেস ক্লাব চত্বর থেকে বের হয়ে পল্টন মোড় ঘুরে আবার একই স্থানে এসে শেষ হয়।




