পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তারা কি করেন তার সামান্য প্রমাণ দিয়েছেন এই ওসি কামরুজ্জামান। কন্সস্টেবল থেকে শুরু করে ওসি পর্যন্ত কর্মকর্তারা জিম্মি থাকেন এসপি, ডিআইজি, আইজি থেকে শুরু করে উর্ধতন কর্তাদের কাছে। এক স্থান থেকে অন্য স্থানে বদলী হতে ঘুষ, কাজ করতে গিয়ে প্রতি ক্ষেত্রেই ঘুষ না দিলে যেন চাকরী করাই দায়। এভাবেই চলছে পুলিশের উর্ধতন কর্তাদের নগ্নতা। যা একাত্তর টিভি কে এমন ক্ষোভ প্রকাশ করেন ওসি।
পুলিশের উর্ধতন কর্তাদের এমন নগ্নতার কারণে বেনজির একজন জ্বলন্ত উদহারণ। এ ছাড়াও আইজিপি হাসান মাহমুদ খন্দকার, ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান, খন্দকার গোলাম ফারুক, শফিকুল ইসলাম, অতিরিক্ত আইজিপি মনিরুল ইসলাম, অতিরিক্ত আইজিপি আতিকুল ইসলাম, র্যাবের ডিজি ব্যারিস্টার হারুন অর রশীদ, ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার হারুন অর রশীদ, ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার, ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার খন্দকার মহিদ উদ্দিন ও যশোরের সাবেক এসপি প্রলয় কুমার জোয়াদ্দারসহ অনেক অসাধু কর্তারা পাহাড় সমান অপরাধ করে এখন পালিয়ে বেড়াচ্ছে।
পলাতক এমন কর্মকর্তা ছাড়াও নারায়ণগঞ্জের এক সময়ের লজিং মাস্টার বর্তমান ডিআইজি গাজী মো. মোজাম্মেল হক ও তাঁর স্ত্রী ফারজানা মোজাম্মেল এবং মেয়ে গাজী বুশরা তাবাসসুমের নামে হাজার হাজার কোটি টাকার সম্পদ এলো কোথা থেকে । যা এখন নানাভাবে তদ্বির করে নিজেকে টিকিয়ে রেখে বহাল তবিয়্যতে আছেন।
এরপরও ডিআইজি গাজী মো. মোজাম্মেল হক ও তাঁর স্ত্রী ফারজানা মোজাম্মেলের সকল সম্পত্তির মধ্যে যৎসামান্য সম্পত্তি ৬৫ বিঘা জমি ক্রোকের আদেশ দিয়েছেন আদালত। এর বাইরে মোজাম্মেল হকের স্ত্রীর নামে ২ কোটি ৭৬ লাখ টাকা মূল্যের ১২টি দলিল ক্রোকেরও আদেশ দিয়েছেন আদালত ।
দুদকসহ নানা অনুসন্ধানে ডিআইজি মোজাম্মেল হক ও তাঁর স্ত্রীর বিপুল পরিমাণ সম্পদের নথিপত্র পাওয়া গেছে। এতে দেখা যায়, স্ত্রীর নামে পুলিশের শীর্ষ এই কর্মকর্তা দেশের বিভিন্ন এলাকায় গড়ে তুলেছেন প্রায় সাড়ে তিন হাজার বিঘা জমি। এর মধ্যে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে আবাসন প্রকল্পেই রয়েছে তিন হাজার বিঘা জমি, যার বাজারমূল্য প্রায় ছয় হাজার ৬৫০ কোটি টাকা। এর পাশে প্রায় ১০০ বিঘা জমিতে রয়েছে বাগানবাড়ি; যার বর্তমান মূল্য প্রায় ১৬৫ কোটি টাকা।
এমন অপরাধীরা এখনো রয়েছেন বহাল তবিয়্যতে। যাদের কে বহাল রেখে আইনশৃংখলা বাহিনীর স্বচ্ছতা ফিরবে কি করে ? এমন মন্তব্য অনেক পুলিশ সদস্যদের ই ।
‘এসপি আমাদের দিয়া ডাকাতি করায়, প্রমাণ করবে কে ?’
বললেন, গাঁজা বিক্রির অভিযোগ বদলি হওয়া ডিবির ওসি
গাঁজা বিক্রির অভিযোগে বদলি হওয়া নরসিংদী জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ওসি কামরুজামান বলেছেন, ….ডিবির ওসি যা কিছু করে সব এসপির নির্দেশে করে। গতকাল রাতেও তো ১০৭ কেজি গাঁজা আসামিসহ ধরছে। এসপির নলেজে দিয়া হাওয়া করে দিছে। উনি যে তিন বছর আগে ৫০ লাখ টাকা দিয়া এসপি গিরি করার লাইগা মানুষের সাথে ডাকাতি করার জন্য আমাদের দিয়ে ডাকাতি করায় এইটার প্রমাণ কে করবো ?’
তিনি বলেন, ‘এডিশনাল লেফটেন্যান্ট জেনারেলের কাছে অলরেডি কমপ্লেইন করে রাখছি, উনার বিরুদ্ধে মামলা ও করবো। এছাড়াও তিনি আমাদের খুদে ম্যাসেজ পাঠায় দুই লাখ টুমোরো। আর যে মালের (মাদক) কথা বলা হচ্ছে, সেটা আমি চোখেও দেখি নাই, সেটা কোর্টের বিষয়, এখানে আমার কিছু জানা নাই।’
রোববার (১৬ মার্চ) মুঠোফোনে গাঁজা বিক্রির অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য নিতে চাইলে তিনি এসব কথা বলেন।
এর আগে শনিবার (১৫ মার্চ) ৯৬ কেজি গাঁজা প্রায় ১৫ লাখ টাকায় বিক্রি করে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠে নরসিংদী গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের ওসি মো. কামরুজ্জামানের বিরুদ্ধে।
বিষয়টি জানাজানির পর প্রাশাসনিক কারণ দেখিয়ে ডিবি পুলিশের ওসি কামরুজ্জামান ও কোর্ট পুলিশের ওসি খন্দকার জাকির হোসেনকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে ঢাকার রেঞ্জ অফিসে সংযুক্ত করা হয়।
ওই দিন পুলিশের ঢাকা রেঞ্জর ডিআইজি একেএম আওলাদ হোসেনের সই করা এক প্রজ্ঞাপনে নরসিংদীর দুই পুলিশ পরিদর্শককে ঢাকা রেঞ্জ অফিসে সংযুক্তি’র বিজ্ঞপ্তি জারি করেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, চলতি বছরের চার ফেব্রুয়ারি শিবপুর উপজেলার সৃষ্টিঘর আটাশিয়া এলাকায় মনির হোসেনের লটকন বাগান থেকে পরিতক্ত্য অবস্থায় ৯৬ কেজি গাজা উদ্ধার করেন তৎকালীন ডিবি পুলিশের উপ-পরিদর্শক আব্দুল গাফফার।
তিনি ঘটনাস্থল থেকে জব্দ করা মাদক নরসিংদী ডিবি অফিসে নিয়ে অসেন এবং ওসি কামরুজ্জামানকে জানান। জব্দ তালিকায় ৯৬ কেজি গাঁজার বাজার মূল্য দেখানো হয় ১৯ লাখ ২০ হাজার টাকা।
আইন অনুযায়ী জব্দ মালামাল জিডি মূলে আদালতে উপস্থাপন করা হয়। ওই সময় আদালতের বিচারক জব্দ ৯৬ কেজি গাঁজা (মাদক) ধ্বংস করে বা পুড়িয়ে ফেলার নির্দেশ দেয়।
কিন্তু নরসিংদীর ডিবি পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. কামরুজ্জামান, নরসিংদী কোর্ট পুলিশের অফির্সার ইনর্চাজ (ওসি) খন্দকার জাকির হোসেনকে ম্যানেজ করে এই ৯৬ কেজি গাঁজা মাধবদী আলগী এলাকার মাদক ব্যাবসায়ী মায়া প্রধানের কাছে বেচে দেন। প্রতি কেজি গাঁজার বাজার মূল্য ২৫ হাজার টাকা হলেও চিহ্নিত মাদক কারবারির কাছে ১৫ হাজার টাকা কেজি ধরে ১৪ লাখ ৪০ হাজার টাকায় বিক্রির অভিযোগ ওঠে ওসি কামরুজ্জামানের বিরুদ্ধে। পরে সেই টাকা ডিবির ওসি ও কোর্টের ওসি ভাগাভাগি করে নেন। বিষয়টি জানাজানি হলে নরসিংদী পুলিশ সুপারের কাছে মৌখিক অভিযোগ করেন দায়িত্বরত পুলিশ সদস্য। তবে আদালতের নথিতে দেখা যায়, জব্দ ৯৬ কেজি মাদক ধ্বংস করা হয়েছে।
নরসিংদী পুলিশ সুপার মো আব্দুল হান্নান বলেন, ওসি ডিবির বিরুদ্ধে উদ্ধার হওয়া মাদক ধ্বংস না করে বিক্রির একটি মৌখিক অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি নিয়ে অফিসিয়ালি তদন্ত চলছে। তাই কোনো মন্তব্য করতে চাই না। তদন্ত শেষে এর বিস্তারিত বলা যাবে।
সংবাদটি নারায়ণগঞ্জ নিউজ আপডেট থেকে সংগৃহিত