ষ্টাফ রিপোর্টার:
ফতুল্লার ইসদাইরে নাহিয়ান আজম ইভানকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় ৬ জনকে এজাহারনামীয় এবং ৩/৪জন অজ্ঞাতনামা আসামী করে ফতুল্লা মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন ইভানের পিতা এমএ আজম বাবু। সোমবার রাতে তিনি এ মামলা দায়ের করেন যারং নং ১৮ ( ৮/৯/২৫ইং )। এ ঘটনায় পুলিশ ও র্যাব ইতিমধ্যে মামলার এজাহার নামীয় ২ নং ৫ আসামী যথাক্রমে পাগলা সাইফুল এবং রাতুল ওরফে টুটুলকে গ্রেফতার করেছে।
মামলার এজাহারে এমএ আজম বাবু উল্লেখ করেন যে, তার ছেলে নাহিয়ান আজম ইভান দীর্ঘদিন যাবত এলাকাতে ডিসলাইনের ব্যবসা করে আসছে এবং এলাকার বিভিন্ন অপরাধমুলক কর্মকান্ডের প্রতিবাদ করতো। বিবাদীরা এলাকাতে মাদক বিক্রি করে যুবসমাজ ধ্বংসের মুখে নিয়ে যাচ্ছে। এ বিষয়ে আমার ছেলে আসামীদের বিভিন্ন অপরাধের প্রতিবাদ করতো। এ নিয়ে বিবাদীরা আমার ছেলেকে বিভিন্নভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ও জীবনের তরে শেষ করে দেয়ার পথ খুজতে থাকে। এ নিয়ে উজ্জল নামে এক নেতা বিবাদীদের সাথে কয়েকবার দেনদরবার করেছে। গত রবিবার ৭ সেপ্টেম্বর রাত পৌনে ৯টায় আমার ছেলে ইভান তার দুই বন্ধু সিয়াম ও নাসিমকে নিয়ে হোন্ডাযোগে ডিস অফিস থেকে বের হয়ে ইসদাইর পৌর ষ্টেডিয়ামের সামনে আসামাত্র পৌর ষ্টেডিয়াম সংলগ্ন মৃত.বাবুল মিয়ার ছেলে শফিকুল, সাইফুল, আনোয়ার হোসেন বাবু,ইসদাইর বুড়ির দোকান এলাকার ইসমাইলের ছেলে শুক্কুর,আলমের ছেলে রাতুল ওরফে টুটুল, এবং রাজুসহ অজ্ঞাতনামা ৩/৪জন পুর্বপরিকল্পিতভাবে প্রত্যেকের হাতে থাকা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আমার ছেলের মোটর সাইকেলের গতিরোধ করে। কোনকিছু বুঝে উঠার আগেই বিবাদীরা আমার ছেলেকে হোন্ডা থেকে নামিয়ে টেনে ষ্টেডিয়ামের ভেতরে নেয়ার চেষ্টা করে। এ সময় ১নং আসামীর হাতে থাকা ছোড়া দিয়ে আমার ছেলের মাথার ডানপাশে কোপ দিয়ে গুরুতর রক্তাক্ত জখম করে। ২নং বিবাদীর হাতে থাকা সুইচ গিয়ার চাকু,৩নং বিবাদীর হাতে থাকা ছোড়া ও ৪নং বিবাদীর হাতে থাকা ধারালো চাকু দিয়ে উপুর্যপুরি কুপিয়ে আমার ছেলের দেহের বিভিন্ন অংশে গুরুতর রক্তাক্ত জখম করে। একপর্যায়ে আসামীরা আমার ছেলেকে মুমুর্য অবস্থায় ফেলে রেখে আমার ছেলের ব্যবহৃত কালো রংয়ের মোটর সাইকেল,একটি আইফোন ১৩ এবং নগদ ১৩৭০০ টাকা নিয়ে পালিয়ে যায়।
সংবাদ পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে এসে মুমুর্য অবস্থায় আমার ছেলেকে প্রথমে খানপুর ৩শ শষ্যা হাসপাতালে নিয়ে যাই। সেখান থেকে ডাক্তার তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করলে সেখানে নিয়ে যাওয়া হলে রাত প্রায় ১০.৫২ মিনিটে তাকে মৃত ঘোষনা করেন।
এদিকে ইভান হতাকান্ডের এজাহারনামীয় দুই আসামী সাইফুল ওরফে পাগলা সাইফুল এবং রাতুল ওরফে টুটুলকে র্যাব ও পুলিশের অভিযানে গ্রেফতার করা হয়েছে। সোমবার রাতে মাসদাইর অক্টোঅফিস এলাকার সাদেকের হোন্ডা গেরেজ থেকে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার আসামীদের ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে প্রেরন করেন ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ।




