ষ্টাফ রিপোর্টার:
নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লার ইসদাইর রেললাইন বাজার ও আশপাশ এলাকাটি মাদকের সাম্রাজ্য গড়তে দিয়ে ক্রমেই যেন অপরাধীদের আখড়ায় পরিনত হয়ে পড়ছে। এক পক্ষ আরেক পক্ষকে ঘায়েল করতে হত্যাকান্ডের মত জঘন্যতম কাজ করতেও যেন দ্বিধাবোধ করছে। একের পর লাশ পড়লেও প্রশাসনের টনক যেন লড়ছেনা কোনভাইে। আর এলাকাতে মাদকের আখড়া গড়তে শুধুমাত্র ব্যক্তির হাতটি পরিবর্তন হলেও মাদক নির্মুল করাটা যেন অসাধ্য হয়ে দাড়িয়েছে। সীমার পর রাজ্জাক আবার রাজ্জাককে হটাতে গিয়ে সীমার অর্থ্যায়নে নতুন মুখ হয়ে দাড়িয়েছে এনসিসি ১২ নং ওয়ার্ড কৃষকদলের সাধারন সম্পাদক মো.সেলিম পেদা।
স্থানীয়দের মতে,ইসদাইর রেললাইন ও বাজারের আশপাশ এলাকাটি যেন নারায়ণগঞ্জের অন্যতম মাদকের ঘাটি রুপগঞ্জের চনপাড়া বস্তিকেও যেন হারা মানাচ্ছে। মাদকের ব্যাপক প্রসার ঘটাতে গিয়ে এ এলাকাতে ইতিপুর্বে বেশ কয়েকটি হতাহতের ঘটনা ঘটলেও জেলা পুলিশ যেন দেখেও না দেখা ভান করে রয়েছেন। তবে স্থানীয়দের মতে,পুলিশে সহজ-সরল উক্তি “মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশ জিরো টলারেন্সে” রয়েছে এটা নিছক বোকা নারায়ণগঞ্জবাসীকে বোঝানোর একটি অপকৌশলমাত্র।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকাবাসী জানান,ইসদাইর, ইসদাইর কাপুইরা পট্টি, জেলা পরিষদ,ইসদাইর রেললাইন এলাকা,চানমারী, চাষাড়া রেলষ্টেশন এলাকার মাদক স্পট নিয়ে প্রায় সময় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এক সময়ের অত্র এলাকার মাদকের জগত নিয়ন্ত্রকারী মাদক সম্রাজ্ঞী সীমার পুত্র নেংটা হোন্ডা দূর্ঘটনায় নিহত হয়। মাদক নিয়ে শামীম হত্যাকান্ড সেই ঘটনায় মামলার আসামী হওয়া এবং ছেলের নিহতের ঘটনার প্রায় বছর দুয়েক মাদক সম্রাজ্ঞী সীমা ছিলেন মুন্সিগঞ্জে। সেই সুযোগে রাজ্জাক ও তার বাহিনীর সদস্যরা পুরোটা নিয়ন্ত্রনে নিয়ে যায় উক্ত এলাকার মাদকের স্পটগুলো। আর মামলার আসামী হওয়া ও ছেলের অকালে চলে যাওয়ার কারনে মুন্সিগঞ্জে বসেই তার প্রতিদন্ধী রাজ্জাককে হঠাতে তার বাহিনীর অন্যতম সদস্য সেলিম পেদা,জাহিদ ও তার স্ত্রী বিলকিস এবং জুয়েলগংদের মাধ্যমে নিজেকে পুর্নবাসনের জন্য প্রায় ৫০ লক্ষ টাকা বাজেট নিয়ে এলাকাতে প্রবেশ করেন। এ জন্য মোবারক ও নজরুল নামে দুই যুবককে অপহরন করানো হয়। অপহৃত দুই জনের পরিবার থানায় রাজ্জাকগংদের বিরুদ্ধে মামলা করলেও পুলিশ এখনও পর্যন্ত অপহৃতদের জীবিত কিংবা মৃত উদ্ধার করতে পারেনি। তবে এ ঘটনার সন্দেহে থানা পুলিশ একাধিক আসামীকে গ্রেফতারও করেছে।
তারা আরও বলেন, মাদক বিক্রেতা শামীম হত্যাকান্ডের শিকার হলে রাজ্জাক ও তার পুত্র এবং সহযোগীদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করলে রাজ্জাক বাহিনী দীর্ঘদিন এলাকা ছাড়া ছিল। পরে রাজ্জাক গং জামিন নিয়ে এলাকায় ফিরে এসে পুরোদমে মাদক ব্যবসা শুরু করে। অপরদিকে মাদক নিয়ে বিরোধের জেরে মামুন হত্যাকান্ডের অন্যতম আসামী হচ্ছেন লিমন যিনি নামধারী বিএনপি নেতা মাদক সম্রাজ্ঞী সীমা মাদক জগতের অন্যতম হোতা বর্তমানে ইসদাইর বাজার ও চাষাড়া রেলষ্টেশনসহ আশপাশ এলাকার মাদকের নব্য সম্রাট সেলিম পেদা।
স্থানীয়রা আরও জানান,শুধুমাত্র ইসদাইর রেললাইন ঘেষা একটি ঝুটের গোডাউনকে শোডাউন করেই মাদকের আধিপাত্য বিস্তার গড়ে তুলেন কৃষকলীগের এ সাধারন সম্পাদক সেলিম পেদা। সেলিম পেদা মাদক জগতের অন্যতম সহযোগী চানমারীর মাদক সম্রাজ্ঞী রুমি,সেলিম পেদার মেয়ের জামাই ফজর আলী, কাপুইরা পট্টির এলাকার পেটকাটা রকি,বাবু উল্লেখযোগ্য।
এছাড়াও সেলিম পেদা ইসদাইরের ওসমানী ষ্টেডিয়ামের পেছনে চিকার বাড়িতে নতুন মাদক স্পট তৈরী করে বিশাল আস্তানা গড়ে তুলেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক মানুষ বলেন, গত সোমবার রাতে চাষাড়ায় প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করা হয় বাবুর্চি রায়হান মোল্লাকে। সেই হত্যাকান্ডের ঘটনায় নিহত রায়হানের এক ছেলে সাংবাদিকদের সামনে সেলিম পেদার জড়িত থাকার বিষয়ে নামটি মুখে উচ্চারিত করলেও অপর ছেলে তা পাশ কাটিয়ে যায়। রায়হান হত্যাকান্ডের মামলায় রাজ্জাক-সীমার নাম থাকলে অজ্ঞাত কারনে বর্তমানে মাদক জগতের অন্যতম নক্ষত্র সেলিম পেদা নামটি না থাকায় স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক সন্দেহ দেখা দিয়েছে। কারন সেলিম পেদার নিয়ন্ত্রনেই রয়েছে অত্র এলাকার মাদকের আস্থানাগুলো। তবে স্থানীয়দের মতে, রায়হান হত্যাকান্ডে সেলিম পেদা এবং তার ছেলে মামুন হত্যা মামলার আসামী লিমনকেও অন্তভুক্তির জোড় দাবী জানান তারা। কারন অত্র এলাকার যাবতীয় অপরাধগুলো সীমা-রাজ্জাক ও সেলিম পেদা বাহিনীর নিয়ন্ত্রনে।




