ষ্টাফ রিপোর্টার:
নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লা থানাধীন গলাচিপা চেয়ারম্যান বাড়ি এলাকা যা প্রশাসনসহ সকলের কাছেই আলোচিত একটি মহল্লা। যার দক্ষিনপাশেই বোয়ালিয়াখাল যা বর্তমান সময়ে মাদক ব্যবসায়ীদের কাছে জনপ্রিয় আস্তানা। এখানেই কয়েকবছর পুর্বে ডিবি পুলিশের সাথে ক্রসফায়ারে নিহত হয়েছিলো মাসদাইর এলাকার আলোচিত শীর্ষ মাদক বিক্রেতা মনিরুজ্জামান শাহীন ওরফে বন্দুক শাহীন। এরপরও ঘটেছে একাধিক ঘটনা। সর্বশেষ রয়েছে র্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটেলিয়ন অথ্যাৎ র্যাবকে কুপিয়ে আহত করার ঘটনা। এতকিছুর পরও থেমে নেই গলাচিপা বোয়ালিয়া খাল এলাকার মাদক ও সন্ত্রাসের লীলা। তবে স্থানীয়দেরকে নতুনভাবে শান্তির বার্তা দিতে নাগরিক শক্তি কমিটি নামে একটি সামাজিক সংগঠনের আর্বিভাব হতে চলেছে। তবে আনন্দের মাঝেও দুঃখের দ্রুতি ছড়াচ্ছে উক্ত কমিটিকে স্থানীয় চিহিৃত মাদক ব্যবসায়ী ও আওয়ামী দোসরদের সর্ম্পৃক্ততা নিয়ে।
স্থানীয়রা জানান,গলাচিপা ও বোয়ালিয়াখাল এলাকাকে মাদক ও অপরাধমুক্ত করতে স্থানীয়দের নিয়ে একটি গুরুদ্বায়িত্ব নিয়েছেন সেনাবাহিনীর সাবেক এক লেঃকঃ যার নাম হুমায়ুন কবীর। স্থানীয় বিভিন্ন বয়সী মানুষের সমন্ময়ে নাগরিক শক্তি কমিটিও করেছেন তিনি। আর সেই কমিটিতে তাদের সাথে দেখা যায় মাসদাইর ও আশপাশ এলাকার চিহিৃত আওয়ামী দোসর ও মাদক বিক্রেতা মাহবুব ও মিহির নামে দুইজনকে।
তারা আরও জানান,এ মাহবুব ও মিহিরসহ তার সাঙ্গপাঙ্গরা বিগত সময়ে নারায়ণগঞ্জের ভাইজানখ্যাত আজমেরী ওসমানের মমতাময়ী মায়ের পাশে থেকে জাতীয় যুব সংহতির রাজনীতিতে থেকে মাদক ব্যবসাসহ বিভিন্ন অপরাধকর্ম চালাতো যা বর্তমানেও বিদ্যমান রয়েছে। সেই আওয়ামী দোসর ও মাদক ব্যবসায়ী মাহবুব ও মিহিরগংরা যদি সমাজকে ভাল করার কাজের কমিটিতে অর্ন্তভুক্ত থাকে তাহলে গলাচিপা ও বোয়ালিয়াখাল এলাকাটি কতটুকু মাদক ও অপরাধমুক্ত হবে সেটা নিয়েও প্রশ্ন থেকে যায়। প্রবাদে রয়েছে যে “কয়লা ধুইলে কখনও ময়লা যায় না”। আবার এ সাবেক লেঃকঃ হুমায়ুন কবীর সাহেব বোয়ালিয়াখাল এলাকায় অবস্থানরত ভাঙ্গারী ব্যবসায়ীদের জন্য একটি সমিতি গঠন করে দিয়েছেন যার সভাপতির দ্বায়িত্ব দেয়া হয়েছে নারায়ণগঞ্জ সদর থানা তাতী লীগের জয়েন্ট সেক্রেটারি সাগরকে। সেখানে অবস্থানরত শুধু ভাঙ্গারী দোকান নয় প্রতিটি দোকান থেকেই ১ হাজার টাকা হারে চাদাঁ তুলছে এ আওয়ামী দোসর সাগর। যার চাদাঁবাজি থেকে বাদ যাচ্ছে সেখারকার মুদি দোকানীরাও।
স্থানীয়দের দাবী, শুধু আমাদের এলাকা নয় প্রতিটি পাড়া-মহল্লায় যে কয়’টি ভাঙ্গারী দোকান রয়েছে তারা মুলত চোরাই মালামালগুলো বেশী ক্রয় করে থাকেন কমমুল্যে। বিশেষ করে প্রতিদিন বিভিন্ন পাড়া-মহল্লাগুলো বাসা-বাড়ি,শিল্প কারখানা কিংবা ব্যাবসা প্রতিষ্ঠানে ছিচকে চোরেরা চুরি করে এনে তা মুলত এসকল ভাঙ্গারী দোকানগুলোতে বিক্রি করে থাকে।
তারা জানান,গলাচিপা চেয়ারম্যান বাড়ি ও বোয়ালিয়াখাল এলাকাটি অত্যন্ত ঝুকিপুর্ন এলাকা সাধারন মানুষের বসবাসের জন্য। প্রচুর পরিমানে অলিগলি এবং দুই থানার বর্ডার এলাকা হওয়ার সুবাদে এখানে মাদকসহ বিভিন্ন প্রকারের অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে প্রতিদিন। আর এদেরকে শেল্টার দিচ্ছে স্থানীয় কিছু অর্থলোভী সমাজপতিরা। গলাচিপা চেয়ারম্যান-রুপারবাড়ি ও বোয়ালিয়াখাল এলাকাকে মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধমুক্ত রাখতে যদি কমিটি গঠন করা হয়ে থাকে আর সেই কমিটিতে মাহবুব-মিহির-সাগরদের মত আওয়ামী দোসর ও মাদক বিক্রেতারা যুক্ত থাকে তাহলে সেই কমিটি কতটুকু কার্যকরী ভুমিকা রাখতে পারবে সেটাই এখন মুল প্রশ্নের কারন হয়ে দেখা দিয়েছে উক্ত এলাকায় বসবাসকারীদের মাঝে। তাছাড়া নাগরিক শক্তি কমিটি নামে নতুন যে সংগঠনটি করা হচ্ছে সেটার রেজিষ্ট্রেশন করতেও নাকি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেয়া হয়েছে। অথচ সমাজ তথা সমাজের মানুষকে ভালভাবে বসবাসের যে কমিটি করা হচ্ছে এবং সেই কমিটিতে কারা-কারা রয়েছে সেটাও জানেন না স্থানীয়রা শুধুমাত্র মুষ্টিমেয় কিছু ব্যক্তিবিশেষ ছাড়া।
এ নাগরিক শক্তি কমিটির আহবায়ক সাবেক লেঃ কঃ হুমায়ুন কবীর এর ব্যবহৃত মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সমাজ থেকে মাদকসহ অপরাধ দুর করতে হলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। সমাজকে নতুনভাবে সাজাতে হবে ভালোর পাশে মন্দকেও রাখতে হবে। কারন মন্দকে ভালো হওয়ার সুযোগ দিতে হবে। আমি প্রশাসনের সকলের সাথে যোগায়োগ করেই কিন্তু এ কাজে হাত দিয়েছি। তবে যারা বিতর্কত ছিল তারাও রয়েছে এখানে, যদি ভালো হওয়ার পরিবর্তে উল্টো খারাপ কাজেই তার মনস্থিও থাকে তাহলে তাকে তো ছাড় দেয়া হবেনা। তিনি বলেন,গলাচিপা-বোয়ালিয়াখাল ও রুপার বাড়ির আশপাশে কোন খেলার মাঠ নেই যে উঠতি বয়সী ছেলেরা খেলাধুলায় মনোযোগ হবে। রুপার বাড়ির শেষে টিএন্ডটি’র একটি বিশাল খালি জায়গা রয়েছে সেটা পরিস্কার করিয়েছি এবং সেখানে দুই টুর্নামেন্টেরও আয়োজন করেছি। আমি নাসিকের প্রশাসকের সাথে আলাপ করেছি সেখানে যেন উঠতি বয়সীদের জন্য একটি খেলার মাঠ তৈরী করতে পারি।
তিনি আরও বলেন,আমি চাই আপনিও আমাদের সাথে যুক্ত হয়ে নতুন সমাজ বিনির্মানে কাজ করুন। বোয়ালিয়াখাল এলাকায় ভাঙ্গারী সমিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন,এখানে যে সমিতি গঠন গঠন করা হয়েছে সেটা শান্তি-শৃংখলা বজায় রাখার জন্য। সেখানে যে কমিটি গঠিত হয়েছে সেটা মৌখিক ভোটের মাধ্যমেই হয়েছে এবং কোন প্রকার চোরাই মালামাল ক্রয় করতে পারবেনা সে মর্মে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে প্রতিটি ব্যবসায়ীকে। আর ১ হাজার টাকা নেয়া হচ্ছে সেখানকার ব্যবসায়ীদের কার্যক্রম দেখভালে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের জন্য।




