ষ্টাফ রিপোর্টার:
ফতুল্লা থানা পুলিশের মাদকবিরোধী অভিযানে মাঝে মধ্যে চুনোপুঁটি মাদক কারবারিরা ধরা পড়লেও চিহ্নিত রাঘব-বোয়াল মাদক কারবারিরা রয়েছেন ধরাছোঁয়ার বাইরে। মাদক বিক্রির টাকায় দেশী-বিদেশী অস্ত্রের সমাহার গড়ে তুলেছে মাদক বিক্রেতারা যার ফলে মাদক বিক্রি-সেবন ও বাণিজ্যক কেন্দ্র হয়ে উঠছে ফতুল্লা। আর পুলিশের নিরবতার সুযোগে ইয়াবা, হেরোইন, গাঁজা ও ফেন্সিডিলসহ নানা ধরনের মাদক পাড়া-মহল্লায় সহজলভ্য হয়ে পড়েছে। ফলে ফতুল্লার ঘনবসতিপূর্ণ আশপাশ এলাকায় ভয়াবহ আকার ধারণ করছে মাদক ব্যবসা।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, ফতুল্লা থানার বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মাদকের কারবার করছে একাধিক মামলার আসামি লিটন ওরফে টিকে মরা লিটন ও ভাগিনা টুটুল। তারা ফতুল্লা
মডেল থানার ১ কিলোমিটার দূরে দাপার অরিয়ন গ্রুপ বালুর মাঠ, খোঁচপাড়া, বেপারিপাড়া. পাইলট স্কুল মাঠ, কবরস্থান রোড, রেম্বো ডাইং মোড়সহ আশপাশ এলাকা। মামা লিটন ভাগিনা টুটুল নিজেরা আড়ালে থেকে কিশোর বাহিনী তৈরি করে ফোনে অর্ডার পেলেই তাদের বাহিনী দিয়ে অভিনব কৌশলে গ্রাহকের কাছে পৌঁছে দেয় মাদক।
আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর নিরব ভূমিকা থাকার কারনে ফতুল্লার খোজপাড়া, পাইলট স্কুলমাঠ, রেল ষ্টেশন, জোড়পুল, দাপা শৈলকুড়া, পিলকুনী, ব্যাংক কলনী সহ আশপাশ এলাকায় শক্ত সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছে। প্রতিদিন সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত উল্লেখিত মাদক স্পটে চলে মাদক বেঁচাকেনা। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ভাবে সাধারন মানুষের মুখে মুখে রয়েছে মাদক ব্যবসায়ী টিকি মরা লিটন ও টুটুল। সর্ম্পকে তারা ঊভয়ে মামা-ভাগিনা। আর এ মামা-ভাগিনার মাদকের বিশাল সিন্ডিকেট যেন পুরো এলাকাগুলোতে মাদক এখন ওপেন সিক্রেট বিষয়। প্রকাশ্যেই হাত বাড়ালেই পাওয়া যাচ্ছে মরন নেশা বিভিন্ন প্রকারের মাদক।
অনুসন্ধানের জানাগেছে, এই সিন্ডিকেটে রয়েছে অসাধু পুলিশ সদস্য, কিছু বিশেষ ব্যক্তি, রাজনীতিবীদ, জনপ্রতিনিধিসহ প্রভাবশালী ব্যক্তিরা। এ কারনে বরাবরই কিছু মাদকের চুনোপুঁটি ধরা পরলেও গডফাদাররা অধরা থেকে যাওয়ায় ফতুল্লায় মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ হচ্ছে না। প্রতিদিন সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত উল্লেখিত মাদক স্পটে চলে মাদক বেঁচাকেনা।
স্থানীয়দের মতে, চিহিৃত এ মাদক ব্যবসায়ী টুটুলের পিতার ২টি ডেকোরেটরের দোকান রয়েছে যার একটি পাইলট স্কুল সংলগ্ন ইসলামিয়া মাদ্রাসার পাশে আর অপরটি হচ্ছে দাপা মোহাম্মদ আলীর বালুর মাঠের পাশে। বর্তমানে সেই দুইটি প্রতিষ্ঠানকে সাইনবোর্ড হিসেবে ব্যবহার করে আপন মামা টিকি মরা লিটনের সাথেই একত্রিতভাবে পুরো এলাকাটিকে মাদকের হাট-বাজারের পরিনত করে তুলেছে তারা। তবে তাদের সাহসী মাদক বিক্রির ভুমিকায় কাজ করছে টিকি মরা লিটনের অপর ভাগিনা ফতুল্লা বিএনপি নেতা সাগর সিদ্দিকী। যদিও সাগর সিদ্দিকীর ভাষ্য হলো মাদকের সাথে জড়িত থাকার কারনে মামা টিকি মরা লিটন ও খালাতো ভাই টুটুলের পরিবারের সাথে আমাদের কোন সর্ম্পক নেই। কারন অপরাধীকে আমি এবং আমার পরিবার কখনো সমর্থন করিনি এবং করবোনা। অপরদিকে ফতুল্লা রেলষ্টেশন,দাপাসহ আশপাশ এলাকাতে মাদক বিক্রির সাথে জড়িত অপরাধীকে গ্রেফতার করতে এখানে পুলিশের কোন অভিযান চলে না। যদিও মাঝে-মধ্যে ২/১ জন টুনোপুটি ধরা পড় সেটাও নাকি নিজেদেরকে বাচাঁতে সোর্সের মাধ্যমে মাদকসহ গ্রেফতারের আইওয়াশ হিসেবে করে থাকে অন্যতম মাদক বিক্রেতা মামা লিটন ও ভাগিনা টুটুল। তবে স্থানীয়দের মতে, বিশেষ কিছু ব্যক্তির কল্যানে নিয়মিত মাসোহারার লেনদেনের কারনে থানা পুলিশ এখানে আসেননা। আবার এ মাদকের বিরুদ্ধে স্থানীয়রা প্রতিবাদী হয়ে উঠলে তাদেরকে অপরাধী সাজাতে উঠ-পড়ে লেগে পড়েন মামা-ভাগিনার মাদক স্পট থেকে নিয়মিত মাসোয়ারা আদায়কারীরা।
অনুসন্ধানের জানাগেছে, এই সিন্ডিকেটে রয়েছে অসাধু পুলিশ সদস্য, কিছু বিশেষ ব্যক্তি, রাজনীতিবীদ, জনপ্রতিনিধিসহ এলিট শ্রেনীর মানুষ। যার ফলে ফতুল্লায় লিটন-টুটুলসহ অন্যসব এলাকায় মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হচ্ছে না। মাঝে মধ্যে থানা পুলিশ অভিযান পরিচালনা করতে গিয়ে অনেক সময় তারা বেকায়দায় পড়ছেন।
সম্প্রতিকালে যেসকল মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার হয়েছে তাদের ৮০ শতাংশই তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেনীর মাদক ব্যবসায়ী। বরাবরই টিকি মরা লিটন-টুটুলের মতমাদকের গডফাদাররা অধরা থেকে যাওয়ায় ফতুল্লায় মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হচ্ছে না।
অপরাধ বিশ্লেষকরা বলছেন, নারায়ণগঞ্জে মাদক নিয়ন্ত্রনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও সতেচন হতে হবে। মাদক ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি মাদকের শেল্টারদাতাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া জরুরী।




