শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে গুজবে কান না দেওয়া, যাচাই ছাড়া কোনো তথ্য প্রচার না করা এবং সন্দেহজনক কোনো ব্যক্তি বা কার্যকলাপ নজরে এলে দ্রুত বিজিবি কিংবা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানোর আহ্বান জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (৬২ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মির্জা মোহাম্মদ আরাফাত। সনাতন ধর্মালম্বীদের উদ্দেশ্যে কর্নেল আরাফাত আরো বলেন, “ভয় নেই, পাশে আছি” নিশ্চিন্তে উৎসব উদযাপন করুন। আপনাদের ধর্মীয় উৎসব শান্তিপূর্ণ এবং নিরাপদে উদযাপন করার জন্য আমরা মাঠে কাজ করছি। কোন ষড়যন্ত্রকারী সনাতম ধর্মালম্বীদের ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে নাশকতা ঘটানোর চেষ্টা করা হলে তার বিরুদ্ধে এমন পদক্ষেপ নেয়া হবে যে যা কিনা বিরল হয়ে থাকবে।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ নগরীর দেওভোগ বেদান্ত আশ্রম, শ্রীশ্রী লক্ষ্মী নারায়ণ বারোয়ারী পূজামণ্ডপ, শ্মশান মন্দির সংঘ ও শ্রীশ্রী রাধা গোবিন্দ মন্দিরের নিরাপত্তাব্যবস্থা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
বিজিবি অধিনায়ক জানান, শারদীয় দুর্গাপূজায় নারায়ণগঞ্জ শহরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পাঁচ প্লাটুন বিজিবি সদস্য ২৪ ঘণ্টা মাঠে দায়িত্ব পালন করছেন। এ ছাড়া যেকোনো বিশেষ পরিস্থিতি মোকাবিলায় আরও দুই প্লাটুন সদস্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে। প্রয়োজন হলে তাঁদেরও মোতায়েন করা হবে।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল মির্জা মোহাম্মদ আরাফাত বলেন, শারদীয় দুর্গাপূজা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব। এ উৎসব সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সহাবস্থানের দীর্ঘ ঐতিহ্যের প্রতিফলন। সনাতন ধর্মাবলম্বীরা যাতে নিরাপদে ও নির্বিঘ্নে উৎসব উদ্যাপন করতে পারেন, সে জন্য বিজিবি সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিয়েছে।
তিনি জানান, দুর্গাপূজার সার্বিক নিরাপত্তায় সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। নিয়মিত টহল, গোয়েন্দা নজরদারি ও সম্ভাব্য ঝুঁকি চিহ্নিত করার পাশাপাশি জেলা প্রশাসন, পুলিশ, স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) এবং পূজা উদ্যাপন কমিটির সঙ্গে সমন্বয় করে নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
বিজিবি অধিনায়ক বলেন, গুজব, অপতথ্য ও সাম্প্রদায়িক উসকানির বিষয়ে বিশেষ নজরদারি রাখা হচ্ছে। কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে বিজিবি প্রস্তুত রয়েছে।
তিনি আরও জানান, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন এলাকার পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তায় বিজিবির টহল দল নিয়োজিত রয়েছে। গত ১৬ অক্টোবর থেকে বিজিবি সদস্যরা নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন শুরু করেছেন। প্রয়োজন অনুযায়ী স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নিরাপত্তা সহায়তা প্রদান এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দেওয়া হবে।
এ সময় নারায়ণগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (৬২ বিজিবি)-এর উপ-অধিনায়ক মেজর মো. ফারজিন ফাহিম উপস্থিত ছিলেন।




