নারায়ণগঞ্জ মঙ্গলবার | ২০শে অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৪ঠা কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি
  সর্বশেষঃ
মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করলেন ইশরাক
কবিরাজির আড়ালে নারীদের ফাঁদ: স্ত্রী ফেলে নতুন নারীকে নিয়ে ফতুল্লায় আস্তানা!
রূপগঞ্জে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে যুবদল নেতাকে কুপিয়ে হত্যা
সোনারগাঁয়ে পানাম নগরী ও জাদুঘর পরিদর্শনে মার্কিন রাষ্ট্রদূত
দল চায়নি, বিশেষ কারণে পদত্যাগ করতে হচ্ছে: ইশরাক হোসেন
শেরপুরে পূজামণ্ডপ ঘিরে গোয়েন্দা নজরদারিতে সিআইডি
সোনারগাঁয়ে কারবারি-সেবীসহ গ্রেফতার ২১
প্রতিমন্ত্রী ইশরাক, অস্ত্র, মাদক এবং কিছু প্রশ্ন
সাত খুন, সিনহা ও আবরার হত্যা মামলা আপিল বিভাগে দ্রুত শুনানির উদ্যোগ
মিরুর ক্যাডার সাদ্দামের বিরুদ্ধে বৃদ্ধার সম্পত্তি দখলের অভিযোগ
“ভয় নেই, পাশে আছি” নিশ্চিন্তে উৎসব উদযাপন করুন-কর্নেল আরাফাত
লালপুর অর্ণিবান ক্রীড়া সংঘকে সদর উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার ক্যারাম ও টিভি উপহার
সোনারগাঁয়ে পুলিশের অভিযানে গ্রেপ্তার-২২, ইয়াবা উদ্ধার 
সোনারগাঁয়ে চণ্ডীপাঠ ও মহাষষ্ঠী পূজার মধ্য দিয়ে শারদীয় দুর্গোৎসব শুরু
সাংবাদিক হত্যার প্রতিবাদে ফতুল্লা প্রেস ক্লাবের বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশ
সোনারগাঁয়ে পুলিশের বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার ২৯
কাঁচপুরে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ : দগ্ধ ৪ জনই না ফেরার দেশে
শারদীয় দূর্গাপুজা উপলক্ষে হিন্দু সম্প্রদায়ের বিএসপি’র বস্ত্র বিতরন
আড়াইহাজারে স্ত্রীর প্রেমিকের ঘর থেকে স্বামীর বস্তাবন্দী লাশ উদ্ধার
দেড় বছরে অন্তর্বর্তী সরকার ব্যাপক ক্ষতি করেছে: পর্যটনমন্ত্রী মিল্লাত
জামালপুরে অটোরিকশার ধাক্কায় বৃদ্ধের মৃত্যু
জামালপুরে দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় ১ হাজার ৪৯২ আনসার-ভিডিপি সদস্য প্রস্তুত
জামালপুরের দেওয়াণগঞ্জ কামিল মাদ্রাসার একাডেমিক ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন
আলীরটেকের গঞ্জকুমারিয়া এলাকার মূর্তিমান আতংক কামাল মাদবর
বকশীগঞ্জে দেড় লাখ টাকার অবৈধ রিং জাল জব্দ, ধ্বংস
মেঘনা নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলন: গ্রেপ্তার ৩, ড্রেজার পাইপসহ জব্দ 
আমতলীতে আন্তর্জাতিক সিসা দূষণ প্রতিরোধ সপ্তাহ উপলক্ষে সচেতনতামূলক অনুষ্ঠান
দূর্গাপুজা উপলক্ষে দরিদ্র পরিবারের মাঝে কাউন্সিলর প্রার্থী মাহমুদুল হাসান
সিসিটিভি ফুটেজে ভাগিনা রিফাত ও সালাম,মামলা হলেও গ্রেফতার নেই
প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন রক্ষনাবেক্ষনের দায়িত্বে ছাত্রলীগের সাবেক নেতা নিমিতোষ ওঝা
Next
Prev
প্রচ্ছদ
দুর্নীতি ও অর্থনৈতিক বৈষম্যে অতিষ্ঠ ছিল মানুষ

দুর্নীতি ও অর্থনৈতিক বৈষম্যে অতিষ্ঠ ছিল মানুষ

প্রকাশিতঃ

জাতিসংঘের অনুসন্ধান

প্রতি চারজন বাংলাদেশির মধ্যে তিনজন (৭৪.৪ শতাংশ) আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দুর্নীতির শিকার

আওয়ামী লীগের ১৫ বছরের শাসনে ক্ষমতার উচ্চ, মধ্যম ও নিম্ন পর্যায় পর্যন্ত দুর্নীতি হয়েছে। আমলাতন্ত্র ও নিরাপত্তা সংস্থার লোকজন ব্যাপক দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি করেছে। এক জরিপের তথ্য অনুসারে, প্রতি চারজন বাংলাদেশির মধ্যে তিনজন (৭৪.৪ শতাংশ) আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দুর্নীতির শিকার।

এর সঙ্গে ছিল আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের চাঁদাবাজি। ফলে সাধারণ মানুষ, শ্রমিক, ছাত্র এবং ব্যবসায়ীদের বড় অংশ ব্যাপক ক্ষুব্ধ ছিল। এর বাইরেও অর্থনৈতিক বৈষম্য ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক রাজনীতির কারণে মানুষ অতিষ্ঠ ছিল। যা জুলাই আন্দোলনকে ত্বরান্বিত করেছে।

বাংলাদেশে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান নিয়ে জাতিসংঘ মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের (ওএইচসিএইচআর) ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং রিপোর্টে এ তথ্য উঠে এসেছে। সংস্থাটি বলছে, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা, নির্বাচনের আগে সমতল মাঠ তৈরি করে। কিন্তু আওয়ামী লীগ সেটা বাতিল করেছে। ২০১০ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে আয় ও ভোগের বৈষম্য মারাত্মকভাবে বেড়েছে। দেশের সম্পদ ও আয় শীর্ষ পাঁচ শতাংশ ধনীর মধ্যে কেন্দ্রীভূত হয়েছে।

২০২২ সাল থেকে মধ্য ও নিম্নআয়ের বাংলাদেশিরা খাদ্য ও জ্বালানির মূল্যস্ফীতির কারণে আরও বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। এর পেছনে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, কৃষি খাতে ভর্তুকি কমানো এবং আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) নীতিগুলো দায়ী। বিপরীতে সরকার অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অধিকার রক্ষায় ব্যয় কমিয়েছে। গত বুধবার জেনেভা কার্যালয় থেকে এই রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশে রাজনৈতিক দলগুলো ঐতিহাসিকভাবে ব্যক্তিনির্ভর নেতৃত্ব দ্বারা প্রভাবিত হয়েছে। তাদের রাজনীতিতে ক্ষমতার পৃষ্ঠপোষকতা ছিল। সব সময়ই এরা প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক ব্যবস্থাকে অস্ত্র হিসাবে ব্যবহার করেছে। তবে যতদিন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বহাল ছিল, জনগণ এর প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে। এই ব্যবস্থার অধীনে যতগুলো নির্বাচন হয়েছে, সেখানে নিয়মিতভাবে পরাজিত হয়েছে ক্ষমতাসীন দল।

এতে প্রমাণিত হয়, সাংবিধানিক এই তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা, নির্বাচনের আগে সমতল মাঠ তৈরি করে। তবে ২০০৮ সালের নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার পর, আওয়ামী লীগ এই তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করে। দলটি ২০১৪ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনে অনিয়ম, সহিংসতা এবং নিরাপত্তা বাহিনীর হস্তক্ষেপে জয়লাভ করে। ২০১৪ সালে বিরোধী দল বর্জন করলে নির্বাচন কলঙ্কিত হয়। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে আওয়ামী লীগ আবারও জয়ী হয়।

তবে ওই সময়ে বিএনপি নির্বাচনে অংশ নেয়নি। আর জামায়াতে ইসলামী নিষিদ্ধ ছিল। এ সময়ে বিরোধী সমাবেশ দমন এবং হাজার হাজার বিরোধী কর্মীকে নির্বিচারে গ্রেফতার করে সরকার। নাগরিক সমাজকেও বিভিন্নভাবে ভয় দেখানো হয়।

জাতিসংঘের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ১৫ বছরের শাসনামলে শেখ হাসিনা এবং তার আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করে। এর মধ্যে রয়েছে-রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান, বিচার বিভাগ, নিরাপত্তা খাত এবং সরকারি আমলাতন্ত্র। ক্রমবর্ধমান আধিপত্য প্রতিষ্ঠা অর্থনীতিতেও ছড়িয়ে পড়ে।

এর ফলে বিভিন্ন খাতে ক্ষমতাসীনদের পৃষ্ঠপোষকতা, পক্ষপাতদুষ্ট পুঁজিবাদ এবং দুর্নীতি বৃদ্ধি পায়। ক্ষমতায় থাকাকালে আওয়ামী লীগ সরকার বৃহৎ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, রফতানিনির্ভর শিল্প, বিশেষ করে গার্মেন্ট খাত এবং বড় অবকাঠামো প্রকল্পকে অগ্রাধিকার দিয়েছে। বিপরীতে ছোট ও মাঝারি শিল্পের বিকাশে তেমন গুরুত্ব দেয়নি। যদিও তারা দাবি করেছে ২০১৩ সালের পর মাথাপিছু মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) দ্বিগুণ হয়েছে। তবে অর্থনৈতিক সুবিধার বণ্টন অসমভাবে হয়েছে। সেখানে ব্যাপক বৈষম্য ছিল। ২০১০ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে আয় ও ভোগের বৈষম্য মারাত্মকভাবে বেড়েছে। দেশের সম্পদ ও আয় শীর্ষ পাঁচ শতাংশ ধনীদের মধ্যে কেন্দ্রীভূত হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, ছাত্র এবং তরুণ জনগোষ্ঠী বেসরকারি খাতে চাকরি খুঁজে পেতে কঠিন পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছে। যা তাদের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতির কারণে কমে গেছে তাদের সুযোগ।

২০২৪ সালের এপ্রিলের এক সরকারি প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ১৫-২৪ বছর বয়সি যুবকদের মধ্যে প্রায় ৪০ শতাংশ এবং তরুণীদের ক্ষেত্রে ৬০ শতাংশ কর্মসংস্থান বা প্রশিক্ষণের বাইরে রয়েছে। ২০২২ সাল থেকে মধ্য ও নিম্নআয়ের বাংলাদেশিরা খাদ্য ও জ্বালানির মূল্যস্ফীতির কারণে আরও বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। এর পেছনে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, কৃষি খাতে ভর্তুকি কমানো এবং আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) শর্তসাপেক্ষ ঋণের কারণে গৃহীত কঠোর অর্থনৈতিক নীতিগুলো দায়ী।

জাতিসংঘের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সরকার অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অধিকার রক্ষায় ব্যয় কমিয়েছে। কারণ ঋণের সুদ পরিশোধে বেশি অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। এছাড়া দেশের কর ব্যবস্থা অত্যন্ত সীমিত। সরকারের আয় পরোক্ষ করের ওপর নির্ভরশীল। এতে মধ্য ও নিম্নআয়ের জনগণের ওপর বেশি বোঝা সৃষ্টি করছে। অর্থনৈতিক ক্ষমতা ও সম্পদের কেন্দ্রীকরণ এবং সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অধিকার ভোগের ক্ষেত্রে বৈষম্য রয়েছে।

এর অন্যতম কারণ হলো সরকারি কেনাকাটায় ব্যাপক দুর্নীতি এবং আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ কিছু ব্যক্তির হাতে ব্যাংক, জ্বালানি খাত ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক খাতের নিয়ন্ত্রণ। কিছু বড় ব্যাংক রাজনৈতিক বিবেচনায় ঋণ দিয়ে প্রায় শূন্য হয়ে গেছে। এতে হুমকির মুখে পড়েছে দেশের সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা। দেশের বাইরে বিশাল অঙ্কের অবৈধ অর্থ পাচার হয়েছে। উচ্চপর্যায় থেকে নিম্ন পর্যায়ের আমলাতন্ত্র ও নিরাপত্তা সংস্থা লোকজন দুর্নীতিতে জড়িত।

এক্ষেত্রে ব্যাপক দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি হয়েছে। সাম্প্রতিক এক জরিপ অনুসারে, প্রতি চারজন বাংলাদেশির মধ্যে তিনজন (৭৪.৪ শতাংশ) আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দুর্নীতির শিকার। অনেক শ্রমিক, ব্যবসায়ী এবং ছাত্র জাতিসংঘ তদন্ত দলের কাছে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে।

এ সম্পর্কিত আরো খবর

সম্পাদক মন্ডলীঃ

মোঃ শহীদুল্লাহ রাসেল

প্রধান নির্বাহীঃ

মোঃ রফিকুল্লাহ রিপন

সতর্কীকরণঃ

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি
অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও
প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।
সকল স্বত্ব
www.jagonarayanganj24.com
কর্তৃক সংরক্ষিত
Copyright © 2024

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ

বনানী সিনেমা হল মার্কেট
পঞ্চবটী ফতুল্লা, নারায়ণগঞ্জ
ফোন নম্বরঃ ০১৯২১৩৮৮৭৯১, ০১৯৭৬৫৪১৩১৮
ইমেইলঃ jagonarayanganj24@gmail.com

Website Design & Developed By
MD Fahim Haque
<Power Coder/>
www.mdfahim.com
Web Solution – Since 2009

error: Content is protected !!