ফতুল্লায় তালাবদ্ধ ঘর থেকে ভ্যানচালক হাবিবুর রহমানের বিকৃত লাশ উদ্ধারের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। একইসাথে হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত এক নারীসহ অপহরণকারী চক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
সোমবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) রাতভর ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও মুন্সিগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেফতার করে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ।
গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন পটুয়াখালী জেলার সদর থানার মাদারবুনিয়ার মো: ইউসুফ আকনের ছেলে কবির ওরফে সগির হোসেন(৩৮), মুন্সিগঞ্জ জেলার সদর থানার হাতিমারার মজিদ আলী সৈয়ালের মেয়ে রেহেনা বেগম(২৫),নারায়ণগঞ্জ জেলার বন্দর থানার চর ইসলামপুরের আসমত আলীর ছেলে আরিফ (২৫), মানিকগঞ্জ জেলার হরিরামপুর থানার দানেছপুরের মরহুম জলিল মিয়ার ছেলে সিদ্দিক(৫২) ও পটুয়াখালী জেলার সদর থানার হাজীখালা গ্রামের আব্দুল সাত্তার পেয়াদার ছেলে নুরুজ্জামান (৩৫)।
জানা যায়, ২৯ জানুয়ারি মঙ্গলবার দুপুরে ফতুল্লার পঞ্চবটি শীষমহল আমতলা এলাকার স্বপন সরকারের ভাড়াটিয়া বাসা থেকে একটি বিকৃত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই দিন রাতেই নিহত হাবিবুরের বাবা তার ২১ বছর বয়সী ছেলের লাশ শনাক্ত করে থানায় ফতুল্লা থানায় মামলা দায়ের করেন। এর আগে ২৫ জানুয়ারি নিহতের বাবা ফতুল্লা থানায় নিখোঁজের একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। ডায়েরিতে উল্লেখ্য করেন, ২৪ জানুয়ারি রাত ৮টার দিকে হাবিবুর দাপা পোস্ট অফিস রোডে ভাড়া বাসা থেকে বের হয়। পরে রাত ১০টার দিকে তার ফোনে কল করে তিন লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয় অন্যথায় তার ছেলেকে হত্যা করা হবে। একপর্যায়ে অপহরণকারী মোবাইল ফোন বন্ধ করে দেয়।
পুলিশ জানায়, তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় পুলিশ সোমবার রাতে প্রথমে মুন্সিগঞ্জের হাতিমারা থেকে কবির ওরফে সগির হোসেন ও রেহেনা বেগমকে গ্রেফতার করে। তারা দু’জনে স্বামী স্ত্রী। পরে তাদের স্বীকারোক্তি মোতাবেক নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লা থানার শাসনগাও এলাকা থেকে আরিফকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতার করা আরিফের স্বীকারোক্তি মোতাবেক ঢাকার পোস্তগোলা থেকে সিদ্দিককে গ্রেফতার করে। পরে সিদ্দিকের স্বীকারোক্তি মোতাবেক ফতুল্লা থানার দাপা ইদ্রাকপুর থেকে নিহতের সহযোগী নুরুজ্জামানকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতার ব্যক্তিরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত থাকার বিষয়টি পুলিশের কাছে স্বীকার করে।
এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নারায়ণগঞ্জ জেলার ক সার্কেল মোহাম্মদ হাসিনুজ্জামান জানান, গ্রেফতার দম্পতি কবির ওরফে সগির হোসেন ও রেহেনা বেগম বিভিন্ন স্থানে ঘর ভাড়া নিয়ে মোবাইল ফোনে যুবকদের সাথে সম্পর্ক করে বাসায় ডেকে এনে মুক্তিপণ আদায় করতো। এরই ধারাবাহিকতায় নিহত হাবিবুরের সহযোগী এবং গ্রেফতার কবির ওরফ সগিরের চাচাতো ভাই নুরুজ্জামানের মাধ্যমে নিহতের সাথে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে শারীরিক মেলামেশার প্রলোভন দেখিয়ে বাসায় ডেকে আনে। পরে মুক্তিপণ আদায়ে নিহতের পরিবারের কাছে অর্থ দাবি করে হাবিবুরকে নির্যাতন করে। হাবিবুর চিৎকার করলে অপর আসামিদের সহায়তায় তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে ঘরের ভিতর লাশ ফেলে তালাবদ্ধ করে তারা পালিয়ে যায়।




